নৈঃসঙ্গ-পাঁচালি
হাসান হাফিজ
মৌন সন্ধ্যা উপেক্ষায়
একা ঝরে যায়
নিঃসঙ্গ পাতায়
ধুলো আলিঙ্গনৎ
হাওয়ার মর্মর
দুঃখ দেয় আরো
উড়িয়ে ঝুরিয়ে
নিয়ে যায়
অন্য ঠিকানায়
অচিনা মোকামে
কে আপন কে বা পর
কে করে তালাশ
ধু ধু হতাশ্বাস
চরাচরে ব্যাপ্ত হয়
তারও কাম্য নয়
একাকিত্ব
বেদনা বিলাস
অথবা অধ্যাস
এ রকমই অসম্পূর্ণ
মানবজনম
আসলেই ভ্রম?
নিয়ত সংশয়
নাই কোনো লয়!
বিষণ্নতা নয়, জ্বরের সন্তান
আমেনা তাওসিরাত
তপ্ত রুটির মতো গল্প ছিল না;
স্ফটিকাবৃত জলের মতো তুষার
আর মাছেরা এক হয়ে গেলে
বুদ্বুদহীন অ্যাকুরিয়ামের মৃত প্রাণেদের
উপকাহিনিতে
কাচের শরীর হয়ে গেছি।
শহর কফিন হয়েছে,
শবদেহ ভালোবেসে
ধূসর অভিবাদনে
ফিরে গেছে,
ইউরেশীয় সোনালি ওরিওল
আর তার আনত মুখচ্ছবি।
ক্ষয়প্রাপ্ত প্রেম
আর প্রাচীনতম তাপিত মুহূর্ত—
সংঘর্ষে কে কাকে হারায়?
বিচূর্ণ বাতিঘর
আর সমুদ্রশঙ্খ
দ্বিতীয়বার কাঁদতে শিখেছিল বলে
এখনো অস্ফুটনীয় সিঁঁড়ির মতো
শৈশব আর অর্কেস্ট্রা
উঠে আসে।
আত্মম্ভরি কোরাস
সম্মেলনে একা হয়ে যায়।
ঘরহীন ঘরে অমানিশা
অদ্বৈত মারুত
আগলে রেখেছি ধূলিকণা— মুঠো মুঠো রোদ
পূজিত হিসেবী বাহু বাঁকা করে অসংখ্যবার
শতভাগ মেশাতে চেয়েছি জল আর তেলের
নগরের ফটক পাহারায় যখন পাগলা হাওয়া
উঠোনে পুঁতে রেখেছি আলো, শান্তির বিশ্বাস
গুল্মলতায় ঢেকে রেখেছি গাছ; চড়ুই-সংসার
সব্জির নিসৃত শক্তির সঙ্গে কত হলো আলাপ
নিদ্রা-নিশীতে, অমানিশা ঘোরে একই ছিলাম
তবু ছায়া পড়ে ঢেকে গিয়েছে নরম খরগোশ
খুন হচ্ছে চনমনে হাওয়া— পাহাড়ি তারাফুল
অসুর সন্ধ্যায় ধোঁয়া ওঠা মেঘেদের হুইসেলে
ঘরহীন না-ঘরে থেকে ওষ্ঠ আমার মরুর দেশ
উলঙ্গ পৃথিবী চোখ পাকিয়ে দেখলে দেখুক বুক
দেহের দুয়ার রুদ্ধ; রহস্যের মুখোমুখি করে—
বলুক না-হয় আমাকেই উজবুক।
শারদ পদাবলি
বাবলু মওলা
ক
এবার পুজোয় জল হবো জলের কাছে
তুই আসিস
তোর তৃষিত গ্রীবায় এঁকে দেবো জলের ছাপচিহ্ন।
খ
পুজোর আরাধনা শেষে
নক্ষত্ররা যখন ঘুমিয়ে পরে
তোকে প্রার্থনার প্রহর শুরু হয় আমার।
গ
দুর্গা দেবীর মতো তোর কপালেও একদিন
এঁকে দিয়েছিলাম চন্দন তিলক
তুই ভুল করে, ভুল হাতে মুছে ফেলেছিস।
ঘ
সবাই যখন দেবীর বোধনে পূজার্চনায় মগ্ন
আমি খুব নিরালে বিধুর মনে তোকে ধ্যান করি।
ঙ
এক দীপাবলি শেষে
তোর ওষ্ঠে লিখে দেবো প্রেম পঙ্ক্তি
সরল স্বীকারোক্তি।
চ
রোজ রোজ তোর নামে
সন্ধ্যাবন্দনা হয় আমার মন্দিরে
আমি তোর নেশায় বুঁদ হয়ে থাকি।
ছ
ঢাকের বোল, শাঁখের ধ্বনি, কাঁসর ঘন্টায় যখন
মুখরিত দুর্গা দেবী, তখন
আমি ঠিক তোর রিনিঝিনি চুড়ির শব্দে মোহিত হই।
জ
এই বিজয় দশমীর আরতি পরে
মা ফিরে যাবেন মর্ত থেকে কৈলাশে
আর, তুই আমার উপাস্য প্রেম হয়ে থাকিস।

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬
নৈঃসঙ্গ-পাঁচালি
হাসান হাফিজ
মৌন সন্ধ্যা উপেক্ষায়
একা ঝরে যায়
নিঃসঙ্গ পাতায়
ধুলো আলিঙ্গনৎ
হাওয়ার মর্মর
দুঃখ দেয় আরো
উড়িয়ে ঝুরিয়ে
নিয়ে যায়
অন্য ঠিকানায়
অচিনা মোকামে
কে আপন কে বা পর
কে করে তালাশ
ধু ধু হতাশ্বাস
চরাচরে ব্যাপ্ত হয়
তারও কাম্য নয়
একাকিত্ব
বেদনা বিলাস
অথবা অধ্যাস
এ রকমই অসম্পূর্ণ
মানবজনম
আসলেই ভ্রম?
নিয়ত সংশয়
নাই কোনো লয়!
বিষণ্নতা নয়, জ্বরের সন্তান
আমেনা তাওসিরাত
তপ্ত রুটির মতো গল্প ছিল না;
স্ফটিকাবৃত জলের মতো তুষার
আর মাছেরা এক হয়ে গেলে
বুদ্বুদহীন অ্যাকুরিয়ামের মৃত প্রাণেদের
উপকাহিনিতে
কাচের শরীর হয়ে গেছি।
শহর কফিন হয়েছে,
শবদেহ ভালোবেসে
ধূসর অভিবাদনে
ফিরে গেছে,
ইউরেশীয় সোনালি ওরিওল
আর তার আনত মুখচ্ছবি।
ক্ষয়প্রাপ্ত প্রেম
আর প্রাচীনতম তাপিত মুহূর্ত—
সংঘর্ষে কে কাকে হারায়?
বিচূর্ণ বাতিঘর
আর সমুদ্রশঙ্খ
দ্বিতীয়বার কাঁদতে শিখেছিল বলে
এখনো অস্ফুটনীয় সিঁঁড়ির মতো
শৈশব আর অর্কেস্ট্রা
উঠে আসে।
আত্মম্ভরি কোরাস
সম্মেলনে একা হয়ে যায়।
ঘরহীন ঘরে অমানিশা
অদ্বৈত মারুত
আগলে রেখেছি ধূলিকণা— মুঠো মুঠো রোদ
পূজিত হিসেবী বাহু বাঁকা করে অসংখ্যবার
শতভাগ মেশাতে চেয়েছি জল আর তেলের
নগরের ফটক পাহারায় যখন পাগলা হাওয়া
উঠোনে পুঁতে রেখেছি আলো, শান্তির বিশ্বাস
গুল্মলতায় ঢেকে রেখেছি গাছ; চড়ুই-সংসার
সব্জির নিসৃত শক্তির সঙ্গে কত হলো আলাপ
নিদ্রা-নিশীতে, অমানিশা ঘোরে একই ছিলাম
তবু ছায়া পড়ে ঢেকে গিয়েছে নরম খরগোশ
খুন হচ্ছে চনমনে হাওয়া— পাহাড়ি তারাফুল
অসুর সন্ধ্যায় ধোঁয়া ওঠা মেঘেদের হুইসেলে
ঘরহীন না-ঘরে থেকে ওষ্ঠ আমার মরুর দেশ
উলঙ্গ পৃথিবী চোখ পাকিয়ে দেখলে দেখুক বুক
দেহের দুয়ার রুদ্ধ; রহস্যের মুখোমুখি করে—
বলুক না-হয় আমাকেই উজবুক।
শারদ পদাবলি
বাবলু মওলা
ক
এবার পুজোয় জল হবো জলের কাছে
তুই আসিস
তোর তৃষিত গ্রীবায় এঁকে দেবো জলের ছাপচিহ্ন।
খ
পুজোর আরাধনা শেষে
নক্ষত্ররা যখন ঘুমিয়ে পরে
তোকে প্রার্থনার প্রহর শুরু হয় আমার।
গ
দুর্গা দেবীর মতো তোর কপালেও একদিন
এঁকে দিয়েছিলাম চন্দন তিলক
তুই ভুল করে, ভুল হাতে মুছে ফেলেছিস।
ঘ
সবাই যখন দেবীর বোধনে পূজার্চনায় মগ্ন
আমি খুব নিরালে বিধুর মনে তোকে ধ্যান করি।
ঙ
এক দীপাবলি শেষে
তোর ওষ্ঠে লিখে দেবো প্রেম পঙ্ক্তি
সরল স্বীকারোক্তি।
চ
রোজ রোজ তোর নামে
সন্ধ্যাবন্দনা হয় আমার মন্দিরে
আমি তোর নেশায় বুঁদ হয়ে থাকি।
ছ
ঢাকের বোল, শাঁখের ধ্বনি, কাঁসর ঘন্টায় যখন
মুখরিত দুর্গা দেবী, তখন
আমি ঠিক তোর রিনিঝিনি চুড়ির শব্দে মোহিত হই।
জ
এই বিজয় দশমীর আরতি পরে
মা ফিরে যাবেন মর্ত থেকে কৈলাশে
আর, তুই আমার উপাস্য প্রেম হয়ে থাকিস।

আপনার মতামত লিখুন