সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে সড়ক সংস্কারের নামে টাকা লুটের অভিযোগ


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, রংপুর
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, রংপুর
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪২ এএম

প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে সড়ক সংস্কারের নামে টাকা লুটের অভিযোগ
কাজ শেষের দুই দিনেই পিচ ও খোয়া উঠে বেহাল সড়ক।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রংপুর সফরকে কেন্দ্র করে তড়িঘড়ি করে সড়ক সংস্কার ও ডিভাইডার রঙের নামে সরকারি অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের বিরুদ্ধে। নামমাত্র সংস্কারের দুই দিন না যেতেই পিচ ও খোয়া উঠে সড়কটি ফের আগের মতো চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

জানা যায়, ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান বিমানযোগে সৈয়দপুর হয়ে রংপুরে এসে মন্দির পরিদর্শন ও সনাতন সম্প্রদায়ের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এর আগে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত সড়কটি বেহাল থাকলেও সওজ বিভাগ কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রীর আগমন নিশ্চিত হওয়ার পরই নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে তড়িঘড়ি করে সংস্কারকাজ শেষ করা হয়। এ ছাড়া নগরীর রোড ডিভাইডারে লাল-সাদা রঙ করার নামে লোক দেখানো কাজ করা হয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে পুনরায় সৈয়দপুর বিমানবন্দর দিয়ে রাজশাহীর কর্মসূচিতে যাওয়ার দুই দিন পার না হতেই সংস্কার করা সেই সড়কে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়। এতে দুই লেনের সড়কটির একটি অংশ অকেজো হয়ে পড়ায় শত শত যানবাহন চরম দুর্ভোগ নিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।

সরেজমিন রংপুর–দিনাজপুর মহাসড়কের বিজিবি সেক্টর কমান্ডার কার্যালয় ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নামমাত্র সংস্কার করা অংশটি ফের খানাখন্দে ভরে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাফিজার রহমান অভিযোগ করেন, 'প্রধানমন্ত্রীর সফরকে পুঁজি করে লাখ লাখ টাকা খরচ দেখানো হলেও দুই দিনেই সড়ক ভেঙে গেছে। সওজের প্রকৌশলীরা লোক দেখানো কাজ করে পুরো টাকা ভাগবাঁটোয়ারা করে আত্মসাৎ করেছেন। এখন আবার নতুন করে সংস্কারের নামে বরাদ্দের টাকা লুটের পাঁয়তারা চলছে।'

পাগলাপীর থেকে প্রতিদিন মোটরসাইকেলে যাতায়াতকারী এনজিও কর্মকর্তা বদরুল হাসান প্রশ্ন তোলেন, কেন কোনো নিয়ম বা টেন্ডার ছাড়াই নিজেদের মর্জিমাফিক এ কাজ করা হলো? সওজের মাঠকর্মী সালাম ও আবুল হোসেনের ভাষ্য, নামমাত্র খোয়া ও বালু দিয়ে খানাখন্দ ভরার চেষ্টা করা হলেও মূলত কোনো স্থায়ী কাজই হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সওজের এক প্রকৌশলীও স্বীকার করেছেন যে, সড়ক সংস্কারের নামে আসলে নামমাত্র কাজ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রংপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে বলেন প্রকৌশলী কামাল পাশার সঙ্গে। প্রকৌশলী কামাল পাশা জানান, সড়ক সংস্কারের জন্য কোনো টেন্ডার আহ্বান করা হয়নি, তবে রক্ষণাবেক্ষণ বা ‘মেইনটেন্যান্স’ খাতের অর্থ দিয়ে কাজটি করা হয়েছে। যদিও এ খাতে ঠিক কত টাকা ব্যয় হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কোনো মুখ খুলতে রাজি হননি।

সরকারি অর্থ লোপাট ও নিম্নমানের কাজের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও সচেতন নাগরিকরা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬


প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে সড়ক সংস্কারের নামে টাকা লুটের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রংপুর সফরকে কেন্দ্র করে তড়িঘড়ি করে সড়ক সংস্কার ও ডিভাইডার রঙের নামে সরকারি অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের বিরুদ্ধে। নামমাত্র সংস্কারের দুই দিন না যেতেই পিচ ও খোয়া উঠে সড়কটি ফের আগের মতো চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

জানা যায়, ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান বিমানযোগে সৈয়দপুর হয়ে রংপুরে এসে মন্দির পরিদর্শন ও সনাতন সম্প্রদায়ের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এর আগে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত সড়কটি বেহাল থাকলেও সওজ বিভাগ কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রীর আগমন নিশ্চিত হওয়ার পরই নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে তড়িঘড়ি করে সংস্কারকাজ শেষ করা হয়। এ ছাড়া নগরীর রোড ডিভাইডারে লাল-সাদা রঙ করার নামে লোক দেখানো কাজ করা হয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে পুনরায় সৈয়দপুর বিমানবন্দর দিয়ে রাজশাহীর কর্মসূচিতে যাওয়ার দুই দিন পার না হতেই সংস্কার করা সেই সড়কে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়। এতে দুই লেনের সড়কটির একটি অংশ অকেজো হয়ে পড়ায় শত শত যানবাহন চরম দুর্ভোগ নিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।

সরেজমিন রংপুর–দিনাজপুর মহাসড়কের বিজিবি সেক্টর কমান্ডার কার্যালয় ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নামমাত্র সংস্কার করা অংশটি ফের খানাখন্দে ভরে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাফিজার রহমান অভিযোগ করেন, 'প্রধানমন্ত্রীর সফরকে পুঁজি করে লাখ লাখ টাকা খরচ দেখানো হলেও দুই দিনেই সড়ক ভেঙে গেছে। সওজের প্রকৌশলীরা লোক দেখানো কাজ করে পুরো টাকা ভাগবাঁটোয়ারা করে আত্মসাৎ করেছেন। এখন আবার নতুন করে সংস্কারের নামে বরাদ্দের টাকা লুটের পাঁয়তারা চলছে।'

পাগলাপীর থেকে প্রতিদিন মোটরসাইকেলে যাতায়াতকারী এনজিও কর্মকর্তা বদরুল হাসান প্রশ্ন তোলেন, কেন কোনো নিয়ম বা টেন্ডার ছাড়াই নিজেদের মর্জিমাফিক এ কাজ করা হলো? সওজের মাঠকর্মী সালাম ও আবুল হোসেনের ভাষ্য, নামমাত্র খোয়া ও বালু দিয়ে খানাখন্দ ভরার চেষ্টা করা হলেও মূলত কোনো স্থায়ী কাজই হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সওজের এক প্রকৌশলীও স্বীকার করেছেন যে, সড়ক সংস্কারের নামে আসলে নামমাত্র কাজ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রংপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে বলেন প্রকৌশলী কামাল পাশার সঙ্গে। প্রকৌশলী কামাল পাশা জানান, সড়ক সংস্কারের জন্য কোনো টেন্ডার আহ্বান করা হয়নি, তবে রক্ষণাবেক্ষণ বা ‘মেইনটেন্যান্স’ খাতের অর্থ দিয়ে কাজটি করা হয়েছে। যদিও এ খাতে ঠিক কত টাকা ব্যয় হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কোনো মুখ খুলতে রাজি হননি।

সরকারি অর্থ লোপাট ও নিম্নমানের কাজের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও সচেতন নাগরিকরা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত