সংবাদ

তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল

মাজারের দিঘিতে কুকুরকে ফেলে দেওয়ার প্রমাণ মেলেনি


প্রতিনিধি, বাগেরহাট
প্রতিনিধি, বাগেরহাট
প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১০ পিএম

মাজারের দিঘিতে কুকুরকে ফেলে দেওয়ার প্রমাণ মেলেনি
ছবি : সংবাদ

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলী (রহ.) মাজার সংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে মারা যাওয়া কুকুরটি জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত ছিল। তবে কুকুরটিকে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের মুখে ঠেলে দেয়নি, বরং এটি ছিল একটি দুর্ঘটনা। জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে তিন সদস্যের ওই কমিটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।

গত ৮ এপ্রিল বিকেলে মাজারের প্রধান ঘাটে একটি কুকুরকে শিকার করে নিয়ে যায় দিঘির কুমির ‘ধলা পাহাড়’। সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অনেকে অভিযোগ করেন, কুকুরটিকে পরিকল্পিতভাবে কুমিরের মুখে দেওয়া হয়েছে। এর সত্যতা যাচাইয়ে বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিয়া খাতুনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলা প্রশাসন।

তদন্তের অংশ হিসেবে গত ১১ এপ্রিল জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে কুকুরটির ময়নাতদন্ত করা হয় এবং পরীক্ষার জন্য এর মাথার অংশ ঢাকার সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরিতে (সিডিআইএল) পাঠানো হয়। বুধবার পাওয়া পরীক্ষার প্রতিবেদনে কুকুরটির জলাতঙ্ক শনাক্ত হয়।

বাগেরহাট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাহেব আলী বলেন, ‘প্রতিবেদন অনুযায়ী কুকুরটি জলাতঙ্ক রোগে ভুগছিল। ওই কুকুরটি এর আগে যাদের কামড় দিয়েছে, তারা জলাতঙ্ক রোগের ঝুঁকিতে রয়েছেন। তবে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা ইতিমধ্যে টিকা নিয়েছেন।’ কুমিরের ঝুঁকির বিষয়ে তিনি বলেন, কুমির সরীসৃপ ও হিংস্র প্রাণী হওয়ায় এর জলাতঙ্ক আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নেই।

তদন্ত কমিটির প্রধান ও সদর ইউএনও আতিয়া খাতুন বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখেছি, কুকুরটিকে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের মুখে দেয়নি। কুকুরটি দুর্ঘটনাবশত দিঘিতে পড়ে গিয়েছিল। তদন্তকালে আমরা জানতে পেরেছি, কুকুরটি মাজারের নিরাপত্তা প্রহরীসহ কয়েকজনকে কামড় দিয়েছিল। আক্রান্তরা যথাযথ চিকিৎসা নিয়েছেন।’

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, ময়নাতদন্ত ও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী নিশ্চিত হওয়া গেছে যে কুকুরটি জলাতঙ্ক আক্রান্ত ছিল। একই সঙ্গে ইচ্ছাকৃতভাবে কুকুরটিকে কুমিরের মুখে দেওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


মাজারের দিঘিতে কুকুরকে ফেলে দেওয়ার প্রমাণ মেলেনি

প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলী (রহ.) মাজার সংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে মারা যাওয়া কুকুরটি জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত ছিল। তবে কুকুরটিকে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের মুখে ঠেলে দেয়নি, বরং এটি ছিল একটি দুর্ঘটনা। জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে তিন সদস্যের ওই কমিটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।

গত ৮ এপ্রিল বিকেলে মাজারের প্রধান ঘাটে একটি কুকুরকে শিকার করে নিয়ে যায় দিঘির কুমির ‘ধলা পাহাড়’। সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অনেকে অভিযোগ করেন, কুকুরটিকে পরিকল্পিতভাবে কুমিরের মুখে দেওয়া হয়েছে। এর সত্যতা যাচাইয়ে বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিয়া খাতুনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলা প্রশাসন।

তদন্তের অংশ হিসেবে গত ১১ এপ্রিল জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে কুকুরটির ময়নাতদন্ত করা হয় এবং পরীক্ষার জন্য এর মাথার অংশ ঢাকার সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরিতে (সিডিআইএল) পাঠানো হয়। বুধবার পাওয়া পরীক্ষার প্রতিবেদনে কুকুরটির জলাতঙ্ক শনাক্ত হয়।

বাগেরহাট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাহেব আলী বলেন, ‘প্রতিবেদন অনুযায়ী কুকুরটি জলাতঙ্ক রোগে ভুগছিল। ওই কুকুরটি এর আগে যাদের কামড় দিয়েছে, তারা জলাতঙ্ক রোগের ঝুঁকিতে রয়েছেন। তবে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা ইতিমধ্যে টিকা নিয়েছেন।’ কুমিরের ঝুঁকির বিষয়ে তিনি বলেন, কুমির সরীসৃপ ও হিংস্র প্রাণী হওয়ায় এর জলাতঙ্ক আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নেই।

তদন্ত কমিটির প্রধান ও সদর ইউএনও আতিয়া খাতুন বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখেছি, কুকুরটিকে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের মুখে দেয়নি। কুকুরটি দুর্ঘটনাবশত দিঘিতে পড়ে গিয়েছিল। তদন্তকালে আমরা জানতে পেরেছি, কুকুরটি মাজারের নিরাপত্তা প্রহরীসহ কয়েকজনকে কামড় দিয়েছিল। আক্রান্তরা যথাযথ চিকিৎসা নিয়েছেন।’

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, ময়নাতদন্ত ও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী নিশ্চিত হওয়া গেছে যে কুকুরটি জলাতঙ্ক আক্রান্ত ছিল। একই সঙ্গে ইচ্ছাকৃতভাবে কুকুরটিকে কুমিরের মুখে দেওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত