সংবাদ

ডিজেল না পেয়ে চরাঞ্চলে বন্ধের পথে সেচ


হুমায়ুন কবির সূর্য, কুড়িগ্রাম
হুমায়ুন কবির সূর্য, কুড়িগ্রাম
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম

ডিজেল না পেয়ে চরাঞ্চলে বন্ধের পথে সেচ
কুড়িগ্রামে চরাঞ্চলেসহ প্রত্যন্ত এলাকায় ডিজেল সংকটে ব্যহত হচ্ছে কৃষি সেচ কার্যক্রম। ছবি: প্রতিনিধি

চরাঞ্চলের কৃষক আব্দুল আউয়ালের জমিতে বেগুন ও মরিচের ফলন ভালোই হচ্ছে। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে জমিতে পানি দিতে পারেননি তিনি। কারণ নেই ডিজেল। আশপাশের হাট-বাজারে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। শহরে গিয়ে তেল আনতে গেলে সময় আর খরচ দুটোই বাড়ে। শেষমেশ বৃষ্টির পানির দিকে তাকিয়ে আছেন তিনি।

এ অবস্থা শুধু জেলা সদরের পাঁচগাছী ইউনিয়নের ছড়ারপাড় গ্রামের সবজিচাষী  আব্দুল আউয়ালের নয়। কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত চরাঞ্চজুড়ে ডিজেল সংকটে বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার সবজি ও ফসলচাষি। যেখানে বিদ্যুৎ পৌঁছেনি, সেখানে ডিজেল চালিত পাম্পই সেচের একমাত্র ভরসা। আর সেই ভরসা এখন হুমকির মুখে।

ছড়ারপাড় গ্রামের আরেক চাষি বেল্লাল হোসেন বলেন, “আমার জমিতে এখন পানি লাগছে। কিন্তু ডিজেল পাই না। তাই পানি দিতে পারছি না। বৃষ্টির পানির ভরসায় আছি।”

একই কথা বলছেন দক্ষিণ নওয়াবশ গ্রামের বক্তার আলী। তার কথায়, “ধরলা নদীর চরে আমাদের ৪০ একর জমিতে সবজি চাষ হয়। এখানে বিদ্যুৎ নাই। তেল-সারের দাম আকাশছোঁয়া। তার ওপর ডিজেলই পাই না। এবার লাভের মুখ দেখতে পারব কি না সন্দেহ।”

জেলা সূত্রমতে, কুড়িগ্রামে মোট কৃষিজমি ১ লাখ ৫৭ হাজার হেক্টর। এর মধ্যে ডিজেলচালিত সেচের আওতায় আছে ৩০ হাজার হেক্টর জমি। চলতি রবি মৌসুমে ৯ হাজার ৩৭৮ হেক্টর জমিতে মরিচ, বেগুন, লাউ, কুমড়া, পটল, করলা, বরবটিসহ নানা শাকসবজি চাষ করা হয়েছে। এই সব জমিতে সপ্তাহে অন্তত একবার সেচ দেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু ডিজেলের অভাবে পাম্প চালানো যাচ্ছে না।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন অবশ্য বলছেন অন্য কথা। তিনি বলেন, “জেলায় ডিজেল সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। মন্ত্রণালয় ও দপ্তর থেকে নির্দেশনা আছে- কৃষকদের ডিজেল পেতে কোথাও সমস্যা হলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও নির্বাহী কর্মকর্তারা সহযোগিতা করবেন।”

কিন্তু চরাঞ্চলের কৃষকদের ভাষ্য ভিন্ন। তারা বলছেন, কাগজে-কলমে সরবরাহের নিশ্চয়তা থাকলেও হাতে-নাতে তেল পেতে গিয়েই পড়তে হয় হাজারো ভোগান্তিতে। পাম্প থেকে অনেক দূরে সেচপাম্প। বাড়তি ভাড়া আর সময় খরচ করে সেখান থেকে তেল এনে দিতে গিয়ে সাশ্রয়ী হয় না সেচের খরচ।

ফলে অনেকে সেচ দেওয়া বন্ধ রেখেছেন। কেউ কেউ ভরসা রেখেছেন বৃষ্টির দিকে। কিন্তু চাহিদামতো বৃষ্টি হচ্ছে না।পুরো মৌসুমের পরিশ্রম, টাকা আর আশা-সব কিছু নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে কৃষকদের মনে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


ডিজেল না পেয়ে চরাঞ্চলে বন্ধের পথে সেচ

প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

চরাঞ্চলের কৃষক আব্দুল আউয়ালের জমিতে বেগুন ও মরিচের ফলন ভালোই হচ্ছে। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে জমিতে পানি দিতে পারেননি তিনি। কারণ নেই ডিজেল। আশপাশের হাট-বাজারে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। শহরে গিয়ে তেল আনতে গেলে সময় আর খরচ দুটোই বাড়ে। শেষমেশ বৃষ্টির পানির দিকে তাকিয়ে আছেন তিনি।

এ অবস্থা শুধু জেলা সদরের পাঁচগাছী ইউনিয়নের ছড়ারপাড় গ্রামের সবজিচাষী  আব্দুল আউয়ালের নয়। কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত চরাঞ্চজুড়ে ডিজেল সংকটে বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার সবজি ও ফসলচাষি। যেখানে বিদ্যুৎ পৌঁছেনি, সেখানে ডিজেল চালিত পাম্পই সেচের একমাত্র ভরসা। আর সেই ভরসা এখন হুমকির মুখে।

ছড়ারপাড় গ্রামের আরেক চাষি বেল্লাল হোসেন বলেন, “আমার জমিতে এখন পানি লাগছে। কিন্তু ডিজেল পাই না। তাই পানি দিতে পারছি না। বৃষ্টির পানির ভরসায় আছি।”

একই কথা বলছেন দক্ষিণ নওয়াবশ গ্রামের বক্তার আলী। তার কথায়, “ধরলা নদীর চরে আমাদের ৪০ একর জমিতে সবজি চাষ হয়। এখানে বিদ্যুৎ নাই। তেল-সারের দাম আকাশছোঁয়া। তার ওপর ডিজেলই পাই না। এবার লাভের মুখ দেখতে পারব কি না সন্দেহ।”

জেলা সূত্রমতে, কুড়িগ্রামে মোট কৃষিজমি ১ লাখ ৫৭ হাজার হেক্টর। এর মধ্যে ডিজেলচালিত সেচের আওতায় আছে ৩০ হাজার হেক্টর জমি। চলতি রবি মৌসুমে ৯ হাজার ৩৭৮ হেক্টর জমিতে মরিচ, বেগুন, লাউ, কুমড়া, পটল, করলা, বরবটিসহ নানা শাকসবজি চাষ করা হয়েছে। এই সব জমিতে সপ্তাহে অন্তত একবার সেচ দেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু ডিজেলের অভাবে পাম্প চালানো যাচ্ছে না।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন অবশ্য বলছেন অন্য কথা। তিনি বলেন, “জেলায় ডিজেল সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। মন্ত্রণালয় ও দপ্তর থেকে নির্দেশনা আছে- কৃষকদের ডিজেল পেতে কোথাও সমস্যা হলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও নির্বাহী কর্মকর্তারা সহযোগিতা করবেন।”

কিন্তু চরাঞ্চলের কৃষকদের ভাষ্য ভিন্ন। তারা বলছেন, কাগজে-কলমে সরবরাহের নিশ্চয়তা থাকলেও হাতে-নাতে তেল পেতে গিয়েই পড়তে হয় হাজারো ভোগান্তিতে। পাম্প থেকে অনেক দূরে সেচপাম্প। বাড়তি ভাড়া আর সময় খরচ করে সেখান থেকে তেল এনে দিতে গিয়ে সাশ্রয়ী হয় না সেচের খরচ।

ফলে অনেকে সেচ দেওয়া বন্ধ রেখেছেন। কেউ কেউ ভরসা রেখেছেন বৃষ্টির দিকে। কিন্তু চাহিদামতো বৃষ্টি হচ্ছে না।পুরো মৌসুমের পরিশ্রম, টাকা আর আশা-সব কিছু নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে কৃষকদের মনে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত