সংবাদ

ঝাউবাগান উজাড় করে বালিয়াড়িতে প্লট বাণিজ্য


প্রতিনিধি, কক্সবাজার
প্রতিনিধি, কক্সবাজার
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম

ঝাউবাগান উজাড় করে বালিয়াড়িতে প্লট বাণিজ্য
বালিয়াড়িতে প্লট বাণিজ্য। ছবি: প্রতিনিধি

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্যের এক অপরিহার্য অংশ ঝাউবাগান। সবুজের এই বেষ্টনী ধীরে ধীরে উজাড় হয়ে যাচ্ছে। আর সেই জায়গায় গড়ে উঠছে প্লটের বাণিজ্য। বালিয়াড়ি কেটে, মাটি ভরাট করে তৈরি হচ্ছে আবাসন প্রকল্প। প্রভাবশালী এক সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমি ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে বিক্রি করে আসছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কক্সবাজার পৌরসভার নাজিরারটেক সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় নির্বিচারে কাটা হয়েছে ঝাউগাছ। বালিয়াড়ি ঘিরে তৈরি করা হয়েছে মৎস্য ঘের। বড় বড় এলাকা দখল করে সেগুলো প্লট আকারে ভাগ করা হয়েছে। আর এসব জায়গায় বসানো হয়েছে পাহারাদার। স্থাপন করা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। বুঝতে বাকি থাকে না, এখানে নিয়মিত ‘ব্যবসা’ চলে।

স্থানীয় সূত্র ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, বালিয়াড়িতে প্লট বাণিজ্য আর দখলচক্রের মূল হোতা মহেশখালীর বাসিন্দা যুবলীগ নেতা সায়েম। তার অধীনে রয়েছেন সেলিম, সৈয়দ আলম, সোহেল, মোস্তাক, নাছির, মিজান, সাইফুল, গিয়াস উদ্দিন, মনির, হুমায়ন, এরশাদ ও কায়সার। চক্রের সঙ্গে বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মচারী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরিচয়ধারী ব্যক্তিরাও জড়িত বলে অভিযোগ।

আগে যেখানে পূর্ববর্তী সরকারের নেতাকর্মীদের নাম শোনা যেত, বর্তমানে নতুন করে অন্যদের নাম সামনে আসছে। তবে দখলের ধারা একই। শুধু মুখ বদলেছে।

অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা সায়েমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তিনি প্রথমে রিসিভ করে অভিযোগ শোনেন। তারপর ‘গুরুত্বপূর্ণ মিটিং’-এর কথা বলে কল কেটে দেন। এরপর আর ফোন ধরেননি। পাঠানো বার্তারও কোনো জবাব দেননি।

স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম না প্রকাশ করে বলেন, “কে কী করছে, সবাই জানে। কিন্তু ওরা প্রভাবশালী। কেউ মুখ খুলতে চায় না। ফলে দখলকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।”

কক্সবাজারের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. হাবিবুল হক বলেন, “দখলদারদের নির্দিষ্ট তালিকা আমাদের কাছে নেই। তবে বিষয়টি আমরা জানি। কেউ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি মনে করেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চালানো গেলে ঝাউবাগান ও বালিয়াড়ি দখলমুক্ত করা সম্ভব।

ঝাউবন উজার। ছবি: প্রতিনিধি

কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা তাসনিম বলেন, “দখলদার যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, তাদের তালিকা প্রস্তুত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”

প্রশ্ন হলো, কতদিন এই আশ্বাসে ভরসা রেখে সবুজ ধ্বংস হতে দেখবে কক্সবাবাসী। ঝাউবাগান ফিরে পাবে কি তার হারানো সৌন্দর্য, নাকি বালিয়াড়িতেই গেঁথে যাবে কংক্রিটের শহর- এমনটাই ভাবছেন স্থানীয়রা। 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


ঝাউবাগান উজাড় করে বালিয়াড়িতে প্লট বাণিজ্য

প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্যের এক অপরিহার্য অংশ ঝাউবাগান। সবুজের এই বেষ্টনী ধীরে ধীরে উজাড় হয়ে যাচ্ছে। আর সেই জায়গায় গড়ে উঠছে প্লটের বাণিজ্য। বালিয়াড়ি কেটে, মাটি ভরাট করে তৈরি হচ্ছে আবাসন প্রকল্প। প্রভাবশালী এক সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমি ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে বিক্রি করে আসছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কক্সবাজার পৌরসভার নাজিরারটেক সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় নির্বিচারে কাটা হয়েছে ঝাউগাছ। বালিয়াড়ি ঘিরে তৈরি করা হয়েছে মৎস্য ঘের। বড় বড় এলাকা দখল করে সেগুলো প্লট আকারে ভাগ করা হয়েছে। আর এসব জায়গায় বসানো হয়েছে পাহারাদার। স্থাপন করা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। বুঝতে বাকি থাকে না, এখানে নিয়মিত ‘ব্যবসা’ চলে।

স্থানীয় সূত্র ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, বালিয়াড়িতে প্লট বাণিজ্য আর দখলচক্রের মূল হোতা মহেশখালীর বাসিন্দা যুবলীগ নেতা সায়েম। তার অধীনে রয়েছেন সেলিম, সৈয়দ আলম, সোহেল, মোস্তাক, নাছির, মিজান, সাইফুল, গিয়াস উদ্দিন, মনির, হুমায়ন, এরশাদ ও কায়সার। চক্রের সঙ্গে বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মচারী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরিচয়ধারী ব্যক্তিরাও জড়িত বলে অভিযোগ।

আগে যেখানে পূর্ববর্তী সরকারের নেতাকর্মীদের নাম শোনা যেত, বর্তমানে নতুন করে অন্যদের নাম সামনে আসছে। তবে দখলের ধারা একই। শুধু মুখ বদলেছে।

অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা সায়েমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তিনি প্রথমে রিসিভ করে অভিযোগ শোনেন। তারপর ‘গুরুত্বপূর্ণ মিটিং’-এর কথা বলে কল কেটে দেন। এরপর আর ফোন ধরেননি। পাঠানো বার্তারও কোনো জবাব দেননি।

স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম না প্রকাশ করে বলেন, “কে কী করছে, সবাই জানে। কিন্তু ওরা প্রভাবশালী। কেউ মুখ খুলতে চায় না। ফলে দখলকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।”

কক্সবাজারের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. হাবিবুল হক বলেন, “দখলদারদের নির্দিষ্ট তালিকা আমাদের কাছে নেই। তবে বিষয়টি আমরা জানি। কেউ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি মনে করেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চালানো গেলে ঝাউবাগান ও বালিয়াড়ি দখলমুক্ত করা সম্ভব।

ঝাউবন উজার। ছবি: প্রতিনিধি

কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা তাসনিম বলেন, “দখলদার যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, তাদের তালিকা প্রস্তুত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”

প্রশ্ন হলো, কতদিন এই আশ্বাসে ভরসা রেখে সবুজ ধ্বংস হতে দেখবে কক্সবাবাসী। ঝাউবাগান ফিরে পাবে কি তার হারানো সৌন্দর্য, নাকি বালিয়াড়িতেই গেঁথে যাবে কংক্রিটের শহর- এমনটাই ভাবছেন স্থানীয়রা। 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত