বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার রক্তদহ বিলে অকালবৃষ্টির পানিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় তলিয়ে যাচ্ছে শত শত একর জমির পাকা ইরি-বোরো ধান। ফসল বাঁচাতে কৃষকেরা নিরুপায় হয়ে কোমরপানিতে নেমে আধাপাকা ধান কাটছেন। কোথাও কোথাও ধান কাটার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে নৌকা। তলিয়ে যাওয়ায় অনেক কৃষক তাদের কষ্টার্জিত ফসল ঘরেই তুলতে পারছেন না।
বগুড়ার আদমদীঘি ও নওগাঁর রানীনগর উপজেলার প্রায় ৩৪০ একর খাসজমি নিয়ে এই রক্তদহ বিল। স্থানীয়রা জানান, এই বিলে পানি আসার জন্য ২২টি শাখা খাল থাকলেও পানি বের হওয়ার জন্য মাত্র একটি খাল রয়েছে।
ফলে বর্ষার শুরুতেই বিপুল পরিমাণ পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। প্রতিবছরই এই অব্যবস্থাপনার কারণে বিলপাড়ের অন্তত ৩০ থেকে ৪০টি গ্রামের কৃষকের বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দমদমা গ্রামের কৃষক হেলালুর রহমান বলেন, ‘এ বছর ১০ বিঘা জমিতে কাটারি ও জিরাশাইল ধান লাগিয়েছিলাম। কিন্তু বৈশাখের শুরুতেই বৃষ্টিতে বিলে পানি জমে যায়। পানি বের হওয়ার পথ না থাকায় ধান ডুবে যাচ্ছে। এখন দিগুণ পারিশ্রমিক দিয়ে শ্রমিক নিয়ে আধাপাকা ধান কাটতে হচ্ছে। এতে ফলন যেমন কমছে, তেমনি খরচও বাড়ছে।’
ভুক্তভোগী কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ধান পানিতে ডুবে যাওয়ায় কাটার শ্রমিক পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। ফলে সাধারণ সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ মজুরি দিয়েও ফসল রক্ষা করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) নওগাঁ রিজিয়ন-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল ইসলাম বলেন, রক্তদহ বিলের জলাবদ্ধতা দূর করতে সম্মিলিতভাবে একটি প্রকল্প তৈরি করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বিলটি খনন করে স্থায়ী জলাধার সৃষ্টি করা গেলে এটি তিন ফসলি জমিতে রূপান্তরিত হবে। এতে প্রায় ৬৩ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন সম্ভব।
বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদার এ বিষয়ে বলেন, ‘এই বিলের জলাবদ্ধতার সমস্যাটি দীর্ঘদিনের। কৃষকের ক্ষয়ক্ষতি রোধে আমি ব্যক্তিগতভাবে পানি নিষ্কাশনের খালটি খননের উদ্যোগ নিয়েছি। বিল খনন ও জলাধার সৃষ্টির প্রকল্পে আমার সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে।’
আপনার মতামত লিখুন