অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ বিএনপি সরকারের নীতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিলেও সরকার মূলত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করছে।
শনিবার (২ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘বিএনপি সরকারের আড়াই মাস: পর্যালোচনা, উদ্বেগ ও দাবিনামা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপ্রধানের বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।
গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি আয়োজিত সভায় আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলছেন “সবার আগে বাংলাদেশ”, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা চুক্তিগুলো দেখাচ্ছে যে সরকার “সবার আগে যুক্তরাষ্ট্র” নীতি অনুযায়ী চলছে।’
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা চুক্তিগুলো সংসদে আলোচনা ছাড়াই বাস্তবায়ন করায় সরকারের সমালোচনা করেন এই অর্থনীতিবিদ। তিনি বলেন, “পেট্রোবাংলা বা বিমানের মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পাশ কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এলএনজি আমদানি, বোয়িং কেনা ও বন্দর ব্যবহারের মতো জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি করা হয়েছে।”
আনু মুহাম্মদ প্রশ্ন তুলে বলেন, “পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী কেন এমন জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি স্বাক্ষর করলেন, যার জন্য আমাদের দীর্ঘমেয়াদে ২০-৩০ বছর ভুগতে হবে? তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু উল্টো তাদের আরও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”
সরকারের জ্বালানি নীতির সমালোচনা করে আনু মুহাম্মদ বলেন, “জাতীয় সক্ষমতা বাড়ানোর বদলে সরকার করপোরেট লবিস্টদের প্রভাবে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে সুবিধা দিতে ‘উৎপাদন বণ্টন চুক্তি’ (পিএসসি) সংশোধন করছে।”
২০০৬ সালের ফুলবাড়ী চুক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ বলেন, “উন্মুক্ত খনি নিষিদ্ধ করার চুক্তি থাকা সত্ত্বেও সরকার আবারও কয়লা উত্তোলনের দিকে ঝুঁকছে। তিনি তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে শতভাগ রাষ্ট্রীয় মালিকানার দাবি জানান।”
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে আমূল পরিবর্তনের প্রস্তাব তুলে ধরেন আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এখনই এই সিদ্ধান্ত দিতে পারেন। এটার জন্য কোনো বাড়তি খরচও হবে না। বরং খরচ কমবে। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, এমপি ও সরকারি কর্মকর্তাদের সন্তানেরা পাবলিক স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে। এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে কোনো পয়সা লাগবে না বা বিদেশি ঋণ নিতে হবে না।’
আনু মুহাম্মদ আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে সবাই যদি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। তবে এই একটি সিদ্ধান্তই স্বাস্থ্য খাতের জন্য বড় পরিবর্তন আনতে পারে।’
লেখক ও গবেষক আলতাফ পারভেজ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে সরকারের কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নতি হলেও সীমান্ত হত্যা ও গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি নবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অমীমাংসিতই রয়ে গেছে।”
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলো এখন বিদ্যার্জনের বদলে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা। তিনি বলেন, “একটি ছাত্রসংগঠনের প্রভাব কমলেও অন্য একটি সংগঠন দ্রুত সেই জায়গা দখল করছে।যা রাজনৈতিক দখলের চক্রকে টিকিয়ে রাখছে। এই পরিবেশই সংঘবদ্ধ সহিংসতার জন্ম দিচ্ছে। যা এখন ‘মব রুল’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, মনজুর আল মতিন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানা ঋতু।

শনিবার, ০২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ মে ২০২৬
অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ বিএনপি সরকারের নীতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিলেও সরকার মূলত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করছে।
শনিবার (২ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘বিএনপি সরকারের আড়াই মাস: পর্যালোচনা, উদ্বেগ ও দাবিনামা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপ্রধানের বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।
গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি আয়োজিত সভায় আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলছেন “সবার আগে বাংলাদেশ”, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা চুক্তিগুলো দেখাচ্ছে যে সরকার “সবার আগে যুক্তরাষ্ট্র” নীতি অনুযায়ী চলছে।’
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা চুক্তিগুলো সংসদে আলোচনা ছাড়াই বাস্তবায়ন করায় সরকারের সমালোচনা করেন এই অর্থনীতিবিদ। তিনি বলেন, “পেট্রোবাংলা বা বিমানের মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পাশ কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এলএনজি আমদানি, বোয়িং কেনা ও বন্দর ব্যবহারের মতো জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি করা হয়েছে।”
আনু মুহাম্মদ প্রশ্ন তুলে বলেন, “পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী কেন এমন জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি স্বাক্ষর করলেন, যার জন্য আমাদের দীর্ঘমেয়াদে ২০-৩০ বছর ভুগতে হবে? তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু উল্টো তাদের আরও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”
সরকারের জ্বালানি নীতির সমালোচনা করে আনু মুহাম্মদ বলেন, “জাতীয় সক্ষমতা বাড়ানোর বদলে সরকার করপোরেট লবিস্টদের প্রভাবে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে সুবিধা দিতে ‘উৎপাদন বণ্টন চুক্তি’ (পিএসসি) সংশোধন করছে।”
২০০৬ সালের ফুলবাড়ী চুক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ বলেন, “উন্মুক্ত খনি নিষিদ্ধ করার চুক্তি থাকা সত্ত্বেও সরকার আবারও কয়লা উত্তোলনের দিকে ঝুঁকছে। তিনি তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে শতভাগ রাষ্ট্রীয় মালিকানার দাবি জানান।”
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে আমূল পরিবর্তনের প্রস্তাব তুলে ধরেন আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এখনই এই সিদ্ধান্ত দিতে পারেন। এটার জন্য কোনো বাড়তি খরচও হবে না। বরং খরচ কমবে। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, এমপি ও সরকারি কর্মকর্তাদের সন্তানেরা পাবলিক স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে। এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে কোনো পয়সা লাগবে না বা বিদেশি ঋণ নিতে হবে না।’
আনু মুহাম্মদ আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে সবাই যদি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। তবে এই একটি সিদ্ধান্তই স্বাস্থ্য খাতের জন্য বড় পরিবর্তন আনতে পারে।’
লেখক ও গবেষক আলতাফ পারভেজ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে সরকারের কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নতি হলেও সীমান্ত হত্যা ও গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি নবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অমীমাংসিতই রয়ে গেছে।”
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলো এখন বিদ্যার্জনের বদলে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা। তিনি বলেন, “একটি ছাত্রসংগঠনের প্রভাব কমলেও অন্য একটি সংগঠন দ্রুত সেই জায়গা দখল করছে।যা রাজনৈতিক দখলের চক্রকে টিকিয়ে রাখছে। এই পরিবেশই সংঘবদ্ধ সহিংসতার জন্ম দিচ্ছে। যা এখন ‘মব রুল’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, মনজুর আল মতিন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানা ঋতু।

আপনার মতামত লিখুন