বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বেওয়ারিশ কুকুরের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এক দিনে সুন্দরদী, পশ্চিম বাউরগাতি ও বার্থী ইউনিয়নে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন অন্তত ১৯ জন।
এলাকাবাসী বলছেন, সরকারি নিষেধাজ্ঞায় কুকুর নিধন বন্ধ করে দেওয়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
টরকি আনোয়ারা প্রি-ক্যাডেট স্কুলের শিক্ষক থেকে শুরু করে সাধারণ পথচারীরা-সবাই এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। প্রতিদিনই বাড়ছে কামড়ানোর ঘটনা। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে জানিয়েছেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তেমন কোনো চিকিৎসাও পাওয়া যাচ্ছে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরদী, পশ্চিম বাউরগাতি ও বার্থী ইউনিয়ন পাগলা কুকুরের উপদ্রবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। এলাকায় রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজের আশপাশ ও বাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছে কুকুরের দল।
স্থানীয় বাসিন্দা মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। প্রতিদিন কামড়ানোর ঘটনা ঘটছে। প্রশাসন এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।’
আরেক ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম জানান, ‘বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলাম। হঠাৎ কয়েকটি কুকুরের দল আমাকে ঘিরে ধরে। একটু বুঝে ওঠার আগেই কামড়ে দেয়। এখন বাড়ি থেকে বেরোতে ভয় লাগে।’
বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে জলাতঙ্ক ও টিটেনাসের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক মাহাবুব আলম মির্জা বলেন, ‘পাগলা কুকুরে কামড়ালে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত ক্ষতস্থানটি ক্ষারযুক্ত সাবান ও চলমান পানি দিয়ে ১৫-২০ মিনিট ধুয়ে ফেলতে হবে। এতে ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।’
চিকিৎসক মাহাবুব আলম মির্জা আরও জানান, দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে জলাতঙ্ক ও টিটেনাসের টিকা নিতে হবে। ‘পোস্ট-এক্সপোজার প্রোফিল্যাক্সিস’ বা পিইপি গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি, অন্যথায় মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কয়েক বছর আগে গৌরনদী পৌরসভা বেওয়ারিশ কুকুর নিধন প্রথা চালু করেছিল। তখন আতঙ্ক ছিল অনেক কম। কিন্তু সরকারি বিধিনিষেধের কারণে সেই কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ায় বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা অস্বাভাবিক বেড়েছে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘পৌর কর্তৃপক্ষ কুকুর নিধন বন্ধ করে দিয়েছে। ভ্যাকসিন প্রয়োগেরও কোনো ব্যবস্থা নেই। এর ফলে এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাসে উপজেলার একাধিক ইউনিয়নে এ ধরনের ঘটনা বেড়েছে। প্রশাসনিক উদ্যোগের অভাবে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। কুকুরের কামড় কমাতে ভ্যাকসিন প্রয়োগ ও ব্যবস্থাপনার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ মে ২০২৬
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বেওয়ারিশ কুকুরের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এক দিনে সুন্দরদী, পশ্চিম বাউরগাতি ও বার্থী ইউনিয়নে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন অন্তত ১৯ জন।
এলাকাবাসী বলছেন, সরকারি নিষেধাজ্ঞায় কুকুর নিধন বন্ধ করে দেওয়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
টরকি আনোয়ারা প্রি-ক্যাডেট স্কুলের শিক্ষক থেকে শুরু করে সাধারণ পথচারীরা-সবাই এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। প্রতিদিনই বাড়ছে কামড়ানোর ঘটনা। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে জানিয়েছেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তেমন কোনো চিকিৎসাও পাওয়া যাচ্ছে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরদী, পশ্চিম বাউরগাতি ও বার্থী ইউনিয়ন পাগলা কুকুরের উপদ্রবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। এলাকায় রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজের আশপাশ ও বাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছে কুকুরের দল।
স্থানীয় বাসিন্দা মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। প্রতিদিন কামড়ানোর ঘটনা ঘটছে। প্রশাসন এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।’
আরেক ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম জানান, ‘বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলাম। হঠাৎ কয়েকটি কুকুরের দল আমাকে ঘিরে ধরে। একটু বুঝে ওঠার আগেই কামড়ে দেয়। এখন বাড়ি থেকে বেরোতে ভয় লাগে।’
বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে জলাতঙ্ক ও টিটেনাসের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক মাহাবুব আলম মির্জা বলেন, ‘পাগলা কুকুরে কামড়ালে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত ক্ষতস্থানটি ক্ষারযুক্ত সাবান ও চলমান পানি দিয়ে ১৫-২০ মিনিট ধুয়ে ফেলতে হবে। এতে ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।’
চিকিৎসক মাহাবুব আলম মির্জা আরও জানান, দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে জলাতঙ্ক ও টিটেনাসের টিকা নিতে হবে। ‘পোস্ট-এক্সপোজার প্রোফিল্যাক্সিস’ বা পিইপি গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি, অন্যথায় মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কয়েক বছর আগে গৌরনদী পৌরসভা বেওয়ারিশ কুকুর নিধন প্রথা চালু করেছিল। তখন আতঙ্ক ছিল অনেক কম। কিন্তু সরকারি বিধিনিষেধের কারণে সেই কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ায় বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা অস্বাভাবিক বেড়েছে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘পৌর কর্তৃপক্ষ কুকুর নিধন বন্ধ করে দিয়েছে। ভ্যাকসিন প্রয়োগেরও কোনো ব্যবস্থা নেই। এর ফলে এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাসে উপজেলার একাধিক ইউনিয়নে এ ধরনের ঘটনা বেড়েছে। প্রশাসনিক উদ্যোগের অভাবে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। কুকুরের কামড় কমাতে ভ্যাকসিন প্রয়োগ ও ব্যবস্থাপনার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আপনার মতামত লিখুন