সুনামগঞ্জে হাওরে একের পর এক ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে চরম সংকটে পড়েছেন কৃষকেরা। শনিবার (২ মে) দুপুরে মধ্যনগর উপজেলার বোয়ালা হাওরের একটি বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে বিপুল পরিমাণ জমির বোরো ধান। ধান কাটা ও অবশিষ্ট ফসল রক্ষা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে হাওরবাসীর।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার ভোর থেকে সুনামগঞ্জ ও মধ্যনগর এলাকায় ভারী বৃষ্টি হয়। এতে সোমেশ্বরী নদীর পানি বেড়ে গেলে মধ্যনগর জামে মসজিদের পাশের একটি কালভার্ট–সংলগ্ন বাঁধ ভেঙে প্রবল বেগে হাওরে পানি ঢুকতে শুরু করে। সকালে যারা ধান কাটতে গিয়েছিলেন, চোখের সামনে ফসল তলিয়ে যেতে দেখে তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
কৃষকদের অভিযোগ, বাঁধ নির্মাণে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) গাফিলতি ছিল। বিশেষ করে কালভার্টের মুখে প্রয়োজনীয় ‘আড়-প্যালাসেটিং’ (শক্তিশালী খুঁটি ও বেড়া) না দেওয়ায় বাঁধটি পানির তোড় সহ্য করতে পারেনি।
মধ্যনগর গ্রামের কৃষক মুরাদ মিয়া বলেন, ‘আমার ১৭ কিয়ার (৩০ শতাংশে এক কিয়ার) জমির ধান কাটা বাকি ছিল। আজ সকালে শ্রমিক নিয়ে হাওরে গিয়েছিলাম ধান কাটতে। কিন্তু চোখের সামনেই বাঁধ ভেঙে সব ডুবে গেল। এখন আমরা কী করে চলব?’
মধ্যনগর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কবির হোসেন জানান, বোয়ালা হাওরে প্রায় ২০ হেক্টর জমির ধান কাটা বাকি ছিল। বাঁধ ভাঙার ফলে এই পুরো ফসলই এখন পানির নিচে।
তবে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার দাবি করেন, হাওরের অধিকাংশ ধান কাটা হয়ে গেছে। তাই নতুন করে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করা হয়নি। এর আগে শুক্রবার ওই উপজেলার শালদিঘা হাওরের একটি বাঁধে ফাটল দেখা দিলে তা সংস্কার করে পানি আটকানো সম্ভব হয়েছিল।
পাউবো সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। উজানের ঢল কম থাকায় সুরমা নদীর পানি কিছুটা কমলেও নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা ও বৃষ্টির কারণে ধান শুকানো নিয়ে ভোগান্তি কাটছে না। রোদের অভাবে মাড়াই করা ধান অনেক জায়গায় নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন