ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী শ্যামকুড় ইউনিয়নের শ্রীনাথপুর হালদারপাড়া গ্রামটি যেন এক বিচ্ছিন্ন জনপদ। তিন দিকে ইছামতী নদী আর এক দিকে ভারতীয় সীমান্তবেষ্টিত এই গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র অবলম্বন এখন একটি জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকো। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সাঁকো দিয়েই চলাচল করছেন নারী, শিশু, শিক্ষার্থী ও কৃষকেরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্বাধীনতার পর থেকে নানা প্রতিশ্রুতি মিললেও ইছামতী নদীর ওপর আজ পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সেতু নির্মিত হয়নি। ফলে বছরের পর বছর দুর্ভোগ হালদারপাড়াবাসীর নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে সাঁকোটি অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে এটি পার হয়। অনেক সময় বই-খাতা নিয়ে খুদে শিক্ষার্থীরা নদীতে পড়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে। কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত ফসল, সার ও বীজ আনা-নেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন। কোনো জরুরি রোগীকে হাসপাতালে নেওয়াও এখানে দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে।
শ্যামকুড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জামিরুল ইসলাম বলেন, ‘হালদারপাড়ার মানুষের কষ্ট দীর্ঘদিনের। একটি সেতু শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি হবে এই অঞ্চলের মানুষের নিরাপদ যাতায়াতের গ্যারান্টি। আমরা দ্রুত এখানে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।’
উপজেলা প্রকৌশলী শাহরিয়ার আকাশ জানান, জনগুরুত্বপূর্ণ এই স্থানে মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত একটি সেতু নির্মাণের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে মহেশপুর-কোটচাঁদপুর-ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মতিয়ার রহমান সম্প্রতি জাতীয় সংসদে হালদারপাড়ার মানুষের এই দুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
সংসদ সদস্য বলেন, ‘ইছামতীর বুকে একটি সেতু শুধু ইট-পাথরের কাঠামো হবে না, এটি হবে সীমান্তবর্তী অবহেলিত মানুষের স্বপ্নের সেতুবন্ধন। নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থার সুফল এ দেশের প্রতিটি প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পৌঁছে দিতে হবে।’
সংসদ সদস্যের এই বক্তব্যে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। এখন হালদারপাড়ার মানুষের একটাই প্রত্যাশা-বহু বছরের বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত নির্মিত হোক একটি নিরাপদ স্থায়ী সেতু।
আপনার মতামত লিখুন