বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে ডাকা সংবাদ সম্মেলন পণ্ড হয়ে গেছে। পক্ষে ও বিপক্ষে দুটি গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুই পক্ষ পরস্পরের বিরুদ্ধে ‘মব সৃষ্টির’ অভিযোগ এনেছে।
শুক্রবার (৮ মে) দুপুর আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আয়োজকরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে বেরোবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকত আলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে তার পদত্যাগের দাবিতে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে’ শুক্রবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করা হয়।
অন্যদিকে একই দিন দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল সমর্থিত একটি অংশ ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের’ নামে বিশ্ববিদ্যালয়ে অরাজকতা সৃষ্টির অভিযোগ এনে একই স্থানে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করলে সেখানে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
দুপুর ২টার পর উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে সংবাদ সম্মেলনের জন্য প্রধান ফটকের সামনে টেবিল বসানো হলে সেখানে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান। তিনি আয়োজকদের কাছে সংবাদ সম্মেলনের অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না, জানতে চান। এ সময় অনুমতি ছাড়া সংবাদ সম্মেলন করতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
ঘটনাস্থলে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজক পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান সিয়ামকে প্রক্টর বলেন, ‘উপাচার্য কোনো দুর্নীতি বা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি নিজের পদ ও একইসঙ্গে শিক্ষকতা ছেড়ে দেবেন।’
এ সময় আয়োজক সিয়াম ও প্রক্টর উভয়েই একে অপরের বিরুদ্ধে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। প্রক্টর দাবি করেন, অনুমতি ছাড়া সংবাদ সম্মেলন করা যাবে না। আর উপাচার্য ভালো মানুষ, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা ঠিক হচ্ছে না।
হাফিজুর রহমান সিয়াম প্রক্টরের কাছে উপাচার্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি তর্ক চলার একপর্যায়ে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে অভিযোগকারী শিক্ষার্থীকে ‘ছাত্রলীগের কর্মী’ আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, তিনি ছাত্রলীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন।
এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হলে সংবাদ সম্মেলন পণ্ড হয়ে যায়।
এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন আহ্বানকারী শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান সিয়াম অভিযোগ করেন, ‘প্রক্টরের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আমার ওপর হামলা চালিয়ে সংবাদ সম্মেলন পণ্ড করে দিয়েছে।’ তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিফাত রাফির বিরুদ্ধে তাঁকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও করেন।
সিয়াম আরও অভিযোগ করেন, বেরোবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ব্রাকসু) নির্বাচন নিয়ে ধারাবাহিক টালবাহানা ও ব্যর্থতায় শিক্ষার্থীরা চরম ক্ষুব্ধ। যৌন নিপীড়নের অভিযোগ থাকা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে তাদের রক্ষার প্রবণতা দেখা গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিফাত রাফি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘হাফিজুর রহমান সিয়াম ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করতে ছাত্রলীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন।’
তিনি বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলনের নামে কোনো মব আমরা ক্যাম্পাসে হতে দেব না। ক্যাম্পাসে ভিসি থাকবেন কি না, তা নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই। যিনি থাকবেন, তিনি যেন শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করেন, সেটাই আমরা চাই।’
ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, সংবাদ সম্মেলন আহ্বানকারী উভয় পক্ষই ছাত্রদলের নেতাকর্মী।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, ‘ইউনুস সরকারের আমলে প্রতিদিন মব হতো। এখন সেই পরিস্থিতি নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া ও গবেষণার পরিবেশ বজায় থাকবে। কেউ যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করে, প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। আজও কিছু শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ইন্ধনে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে উসকানি দেওয়া হয়েছে।’

শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ মে ২০২৬
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে ডাকা সংবাদ সম্মেলন পণ্ড হয়ে গেছে। পক্ষে ও বিপক্ষে দুটি গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুই পক্ষ পরস্পরের বিরুদ্ধে ‘মব সৃষ্টির’ অভিযোগ এনেছে।
শুক্রবার (৮ মে) দুপুর আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আয়োজকরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে বেরোবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকত আলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে তার পদত্যাগের দাবিতে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে’ শুক্রবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করা হয়।
অন্যদিকে একই দিন দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল সমর্থিত একটি অংশ ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের’ নামে বিশ্ববিদ্যালয়ে অরাজকতা সৃষ্টির অভিযোগ এনে একই স্থানে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করলে সেখানে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
দুপুর ২টার পর উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে সংবাদ সম্মেলনের জন্য প্রধান ফটকের সামনে টেবিল বসানো হলে সেখানে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান। তিনি আয়োজকদের কাছে সংবাদ সম্মেলনের অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না, জানতে চান। এ সময় অনুমতি ছাড়া সংবাদ সম্মেলন করতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
ঘটনাস্থলে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজক পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান সিয়ামকে প্রক্টর বলেন, ‘উপাচার্য কোনো দুর্নীতি বা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি নিজের পদ ও একইসঙ্গে শিক্ষকতা ছেড়ে দেবেন।’
এ সময় আয়োজক সিয়াম ও প্রক্টর উভয়েই একে অপরের বিরুদ্ধে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। প্রক্টর দাবি করেন, অনুমতি ছাড়া সংবাদ সম্মেলন করা যাবে না। আর উপাচার্য ভালো মানুষ, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা ঠিক হচ্ছে না।
হাফিজুর রহমান সিয়াম প্রক্টরের কাছে উপাচার্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি তর্ক চলার একপর্যায়ে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে অভিযোগকারী শিক্ষার্থীকে ‘ছাত্রলীগের কর্মী’ আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, তিনি ছাত্রলীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন।
এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হলে সংবাদ সম্মেলন পণ্ড হয়ে যায়।
এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন আহ্বানকারী শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান সিয়াম অভিযোগ করেন, ‘প্রক্টরের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আমার ওপর হামলা চালিয়ে সংবাদ সম্মেলন পণ্ড করে দিয়েছে।’ তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিফাত রাফির বিরুদ্ধে তাঁকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও করেন।
সিয়াম আরও অভিযোগ করেন, বেরোবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ব্রাকসু) নির্বাচন নিয়ে ধারাবাহিক টালবাহানা ও ব্যর্থতায় শিক্ষার্থীরা চরম ক্ষুব্ধ। যৌন নিপীড়নের অভিযোগ থাকা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে তাদের রক্ষার প্রবণতা দেখা গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিফাত রাফি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘হাফিজুর রহমান সিয়াম ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করতে ছাত্রলীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন।’
তিনি বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলনের নামে কোনো মব আমরা ক্যাম্পাসে হতে দেব না। ক্যাম্পাসে ভিসি থাকবেন কি না, তা নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই। যিনি থাকবেন, তিনি যেন শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করেন, সেটাই আমরা চাই।’
ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, সংবাদ সম্মেলন আহ্বানকারী উভয় পক্ষই ছাত্রদলের নেতাকর্মী।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, ‘ইউনুস সরকারের আমলে প্রতিদিন মব হতো। এখন সেই পরিস্থিতি নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া ও গবেষণার পরিবেশ বজায় থাকবে। কেউ যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করে, প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। আজও কিছু শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ইন্ধনে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে উসকানি দেওয়া হয়েছে।’

আপনার মতামত লিখুন