মানুষের জীবন-জীবিকা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার জন্য জীববৈচিত্র্যের টেকসই উন্নয়নে সরকারকে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এই আহ্বান জানিয়েছেন।
রোববার (২৪ মে) সুন্দরবন বন বিভাগ ও সুন্দরবন একাডেমির যৌথ উদ্যোগে খুলনা নগরের একটি অভিজাত হোটেলে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইমরান আহমেদ বলেন, মানুষ জীববৈচিত্র্যেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। মানুষের বেঁচে থাকা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সুন্দরবন জীববৈচিত্র্যের সবচেয়ে সমৃদ্ধ আধার। তবে বিভিন্ন মনুষ্যসৃষ্ট কর্মকাণ্ড সুন্দরবনের প্রাণী, উদ্ভিদ ও মৎস্যসম্পদের মারাত্মক ক্ষতি করছে। এই ক্ষতি রোধে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জ্ঞান ও অংশগ্রহণকে প্রাধান্য দিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক তুহিন রায় বলেন, জীববৈচিত্র্য রক্ষা শুধু পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয় নয়, এটি দেশের টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। সুন্দরবনকে রক্ষা করা মানেই উপকূলীয় জনপদ ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করা।
পরিবেশকর্মী নূর আলম শেখ আসন্ন বাজেটে ‘পরিবেশ বাজেট’ নামে পৃথক বরাদ্দের দাবি জানান। তিনি বলেন, সুন্দরবনের অভ্যন্তরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে প্রতিহত করতে হবে। একই সঙ্গে বিষ মেশানো মাছ শনাক্তে বিশেষ ‘কিট’ উদ্ভাবনেরও আহ্বান জানান তিনি।
খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তফা সরোয়ার ও দৈনিক পূর্বাঞ্চলের সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সনি বলেন, সুন্দরবনকে ঘিরে গড়ে ওঠা বাস্তুতন্ত্র হাজার বছর ধরে মানুষের সুরক্ষা দিয়ে আসছে। একে রক্ষা করা নৈতিক দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
সুন্দরবন একাডেমির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদিরের সভাপতিত্বে সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন একাডেমির পরিচালক ফারুক আহমেদ। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রূপান্তরের নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার গুহসহ আরও অনেকে সভায় বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে রূপান্তর থিয়েটারের পরিবেশনায় ‘বাঁচাও সুন্দরবন’ শীর্ষক পটগান পরিবেশিত হয়।
আপনার মতামত লিখুন