দেশের শীর্ষ ১০টি শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, কর ফাঁকি ও দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার দাবি করেছে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি যৌথ তদন্ত দল। এসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট গ্রুপগুলোর বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও বেশ কিছু ব্যবসায়ী গ্রুপের বিরুদ্ধে একই ধরনের অনুসন্ধান চলমান থাকায় এই তালিকায় নতুন আরও নাম যুক্ত হতে পারে বলে সরকারি সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
প্রাথমিকভাবে তদন্তের আওতায় আসা ১০টি শীর্ষ প্রতিষ্ঠান হলো, এস আলম, বেক্সিমকো, নাবিল, সামিট, ওরিয়ন, জেমকন, নাসা, বসুন্ধরা, সিকদার এবং আরামিট গ্রুপ। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শুধু করপোরেট প্রতিষ্ঠান হিসেবেই নয়, বরং এসব গ্রুপের নীতি-নির্ধারক ও শীর্ষ ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত ব্যাংক লেনদেন এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পদও এই বিশেষ অনুসন্ধানের আওতায় আনা হয়েছে। এর বাইরে ১১ নম্বর আরেকটি গ্রুপের বিরুদ্ধেও মামলার সিদ্ধান্ত হলেও কৌশলগত কারণে এখনো তার নাম প্রকাশ করা হয়নি।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২ ডিসেম্বর এক চিঠির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) জানানো হয়। পরবর্তীতে গত ৬ জানুয়ারি যৌথ এই বিশেষ তদন্তের রূপরেখা ও কার্যপদ্ধতি চূড়ান্ত রূপ পায়।
এই বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বুধবার (৮ জুলাই) সংবাদকে বলেন, ‘আপাতত মোট ১১টি করপোরেট গ্রুপের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ তথা মামলা করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে এবং বিএফআইইউকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে অনুসন্ধান প্রক্রিয়া চলমান থাকায় এই সংখ্যা সামনে আরও বাড়তে পারে।’
সূত্র জানায়, এই পুরো অনুসন্ধান ও সমন্বয়ের মূল দায়িত্বে রয়েছে বিএফআইইউ। আর মাঠপর্যায়ে মূল তদন্ত ও তথ্য উপাত্ত সংগ্রহের কাজটি করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পুরো প্রক্রিয়ায় আইনি পরামর্শ ও সহায়তা দিচ্ছে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়।
বিএফআইইউ প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন যৌথ তদন্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, ‘একটি উচ্চপর্যায়ের যৌথ দল এই গ্রুপগুলোর অনিয়ম খতিয়ে দেখে প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে। এখন প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র আদালতে উপস্থাপন করে দ্রুতই দেওয়ানি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হবে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ আইন কঠোরভাবে মেনে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে প্রতিটি গ্রুপের ফাইল আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে।
অভিযোগের ধরনে জানা গেছে, এসব শিল্পগ্রুপের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ব্যাংক থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের ঋণ গ্রহণ, কর ও শুল্ক ফাঁকি, ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আড়ালে (ওভার ও আন্ডার ইনভয়েসিং) বিদেশে অর্থ পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
ইতোমধ্যেই অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বিতর্কিত এই শিল্পগোষ্ঠীগুলোর অধিকাংশেরই ব্যাংক হিসাব জব্দ (ফ্রিজ) করেছে বিএফআইইউ। পাশাপাশি তাদের ব্যবসায়িক লেনদেন, ঋণের প্রকৃত সুবিধাভোগী (বেনিফিশিয়ারি) এবং অভ্যন্তরীণ অর্থের প্রবাহ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুধু দেশেই নয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) পাচারকৃত সম্ভাব্য সম্পদের তথ্য চেয়ে ওইসব দেশের কর্তৃপক্ষের কাছেও আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।

সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুলাই ২০২৬
দেশের শীর্ষ ১০টি শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, কর ফাঁকি ও দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার দাবি করেছে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি যৌথ তদন্ত দল। এসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট গ্রুপগুলোর বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও বেশ কিছু ব্যবসায়ী গ্রুপের বিরুদ্ধে একই ধরনের অনুসন্ধান চলমান থাকায় এই তালিকায় নতুন আরও নাম যুক্ত হতে পারে বলে সরকারি সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
প্রাথমিকভাবে তদন্তের আওতায় আসা ১০টি শীর্ষ প্রতিষ্ঠান হলো, এস আলম, বেক্সিমকো, নাবিল, সামিট, ওরিয়ন, জেমকন, নাসা, বসুন্ধরা, সিকদার এবং আরামিট গ্রুপ। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শুধু করপোরেট প্রতিষ্ঠান হিসেবেই নয়, বরং এসব গ্রুপের নীতি-নির্ধারক ও শীর্ষ ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত ব্যাংক লেনদেন এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পদও এই বিশেষ অনুসন্ধানের আওতায় আনা হয়েছে। এর বাইরে ১১ নম্বর আরেকটি গ্রুপের বিরুদ্ধেও মামলার সিদ্ধান্ত হলেও কৌশলগত কারণে এখনো তার নাম প্রকাশ করা হয়নি।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২ ডিসেম্বর এক চিঠির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) জানানো হয়। পরবর্তীতে গত ৬ জানুয়ারি যৌথ এই বিশেষ তদন্তের রূপরেখা ও কার্যপদ্ধতি চূড়ান্ত রূপ পায়।
এই বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বুধবার (৮ জুলাই) সংবাদকে বলেন, ‘আপাতত মোট ১১টি করপোরেট গ্রুপের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ তথা মামলা করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে এবং বিএফআইইউকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে অনুসন্ধান প্রক্রিয়া চলমান থাকায় এই সংখ্যা সামনে আরও বাড়তে পারে।’
সূত্র জানায়, এই পুরো অনুসন্ধান ও সমন্বয়ের মূল দায়িত্বে রয়েছে বিএফআইইউ। আর মাঠপর্যায়ে মূল তদন্ত ও তথ্য উপাত্ত সংগ্রহের কাজটি করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পুরো প্রক্রিয়ায় আইনি পরামর্শ ও সহায়তা দিচ্ছে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়।
বিএফআইইউ প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন যৌথ তদন্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, ‘একটি উচ্চপর্যায়ের যৌথ দল এই গ্রুপগুলোর অনিয়ম খতিয়ে দেখে প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে। এখন প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র আদালতে উপস্থাপন করে দ্রুতই দেওয়ানি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হবে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ আইন কঠোরভাবে মেনে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে প্রতিটি গ্রুপের ফাইল আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে।
অভিযোগের ধরনে জানা গেছে, এসব শিল্পগ্রুপের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ব্যাংক থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের ঋণ গ্রহণ, কর ও শুল্ক ফাঁকি, ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আড়ালে (ওভার ও আন্ডার ইনভয়েসিং) বিদেশে অর্থ পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
ইতোমধ্যেই অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বিতর্কিত এই শিল্পগোষ্ঠীগুলোর অধিকাংশেরই ব্যাংক হিসাব জব্দ (ফ্রিজ) করেছে বিএফআইইউ। পাশাপাশি তাদের ব্যবসায়িক লেনদেন, ঋণের প্রকৃত সুবিধাভোগী (বেনিফিশিয়ারি) এবং অভ্যন্তরীণ অর্থের প্রবাহ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুধু দেশেই নয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) পাচারকৃত সম্ভাব্য সম্পদের তথ্য চেয়ে ওইসব দেশের কর্তৃপক্ষের কাছেও আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন