গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতের চরম লোডশেডিং নিয়ে জাতীয় সংসদে ক্ষোভ ও অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল। তিনি বলেছেন, বিদ্যুৎ এখন গ্রামে একটি বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং নির্বাচনী এলাকায় গেলে এই সমস্যার কারণে সাধারণ মানুষের মুখোমুখি হতে তারা বিব্রতবোধ করছেন।
বুধবার (৮ জুলাই) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ কথা বলেন। একই অধিবেশনে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু জানিয়েছেন, সরকারি খাসজমি অবৈধ দখলমুক্ত করতে সরকার সব ধরনের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সম্পূরক প্রশ্নের সুযোগ নিয়ে সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বলেন, ‘গ্রামে-গঞ্জে বিদ্যুৎ এখন সবচেয়ে বড় ইস্যু। আমরা যখন গ্রামে যাই, এই সমস্যা আমাদের বিব্রত করে, অস্বস্তিতে ফেলে।’
তিনি নিজের নির্বাচনী এলাকা মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ উপজেলার উদাহরণ টেনে জানান, পিক আওয়ারে সেখানে বিদ্যুতের চাহিদা ৪৩ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২৭ মেগাওয়াট। অফ-পিক সময়েও চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। ফলে গড়ে ৩৪ থেকে ৩৮ শতাংশ লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে কবে নাগাদ উত্তরণ সম্ভব হবে, সে বিষয়ে তিনি বিদ্যুৎমন্ত্রীর কাছে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা চান।
জবাবে বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ট্রান্সমিশন লাইনের সমস্যার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘ময়মনসিংহ অঞ্চলে বিদ্যুৎ সংকটের মূল কারণ হলো সঞ্চালন লাইনের সীমাবদ্ধতা। এ সমস্যা সমাধানে নতুন ট্রান্সমিশন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। তবে বড় আকারের টাওয়ার নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণে আইনি জটিলতার কারণে কাজ বিলম্বিত হয়েছে। ভালুকা এলাকায় জমি সংক্রান্ত একটি মামলায় সরকার জয়ী হলেও কাজ পুরোপুরি শুরু করা সম্ভব হয়নি।’
তবে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সহযোগিতায় দ্রুত কাজ শেষ করে ওই অঞ্চলের বিদ্যুৎ সংকট কমানোর আশ্বাস দেন মন্ত্রী।
সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের একটি জনগুরুত্বসম্পন্ন নোটিশের জবাবে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ভূমিদস্যুদের কবল থেকে সরকারি খাসজমি উদ্ধার করে প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে তা বিতরণে সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি জানান, সরকারের ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মসূচিতে খাসজমি উদ্ধারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে কোনো এলাকায় বসবাসরত দরিদ্র পরিবারগুলোকে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় খাসজমি বন্দোবস্ত দেওয়া হবে। প্রয়োজনে প্রতিটি পরিবারকে এক থেকে দুই কাঠা পর্যন্ত জমি দেওয়ার বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।
অতীতে কিছু কর্মকর্তার গাফিলতি এবং স্থানীয় প্রভাবশালী ভূমিদস্যুদের কারণে অনেক জমি বেহাত হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মাঠপর্যায়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ ও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুলাই ২০২৬
গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতের চরম লোডশেডিং নিয়ে জাতীয় সংসদে ক্ষোভ ও অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল। তিনি বলেছেন, বিদ্যুৎ এখন গ্রামে একটি বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং নির্বাচনী এলাকায় গেলে এই সমস্যার কারণে সাধারণ মানুষের মুখোমুখি হতে তারা বিব্রতবোধ করছেন।
বুধবার (৮ জুলাই) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ কথা বলেন। একই অধিবেশনে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু জানিয়েছেন, সরকারি খাসজমি অবৈধ দখলমুক্ত করতে সরকার সব ধরনের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সম্পূরক প্রশ্নের সুযোগ নিয়ে সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বলেন, ‘গ্রামে-গঞ্জে বিদ্যুৎ এখন সবচেয়ে বড় ইস্যু। আমরা যখন গ্রামে যাই, এই সমস্যা আমাদের বিব্রত করে, অস্বস্তিতে ফেলে।’
তিনি নিজের নির্বাচনী এলাকা মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ উপজেলার উদাহরণ টেনে জানান, পিক আওয়ারে সেখানে বিদ্যুতের চাহিদা ৪৩ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২৭ মেগাওয়াট। অফ-পিক সময়েও চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। ফলে গড়ে ৩৪ থেকে ৩৮ শতাংশ লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে কবে নাগাদ উত্তরণ সম্ভব হবে, সে বিষয়ে তিনি বিদ্যুৎমন্ত্রীর কাছে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা চান।
জবাবে বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ট্রান্সমিশন লাইনের সমস্যার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘ময়মনসিংহ অঞ্চলে বিদ্যুৎ সংকটের মূল কারণ হলো সঞ্চালন লাইনের সীমাবদ্ধতা। এ সমস্যা সমাধানে নতুন ট্রান্সমিশন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। তবে বড় আকারের টাওয়ার নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণে আইনি জটিলতার কারণে কাজ বিলম্বিত হয়েছে। ভালুকা এলাকায় জমি সংক্রান্ত একটি মামলায় সরকার জয়ী হলেও কাজ পুরোপুরি শুরু করা সম্ভব হয়নি।’
তবে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সহযোগিতায় দ্রুত কাজ শেষ করে ওই অঞ্চলের বিদ্যুৎ সংকট কমানোর আশ্বাস দেন মন্ত্রী।
সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের একটি জনগুরুত্বসম্পন্ন নোটিশের জবাবে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ভূমিদস্যুদের কবল থেকে সরকারি খাসজমি উদ্ধার করে প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে তা বিতরণে সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি জানান, সরকারের ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মসূচিতে খাসজমি উদ্ধারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে কোনো এলাকায় বসবাসরত দরিদ্র পরিবারগুলোকে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় খাসজমি বন্দোবস্ত দেওয়া হবে। প্রয়োজনে প্রতিটি পরিবারকে এক থেকে দুই কাঠা পর্যন্ত জমি দেওয়ার বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।
অতীতে কিছু কর্মকর্তার গাফিলতি এবং স্থানীয় প্রভাবশালী ভূমিদস্যুদের কারণে অনেক জমি বেহাত হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মাঠপর্যায়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ ও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন