২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রাউন্ড অব
১৬’র আর্জেন্টিনা বনাম মিশরের মধ্যকার ম্যাচটি মাঠের ফুটবলকে ছাপিয়ে এখন রূপ
নিয়েছে চরম এক বিতর্কে। গতকালের ম্যাচে ফ্রান্সের রেফারি ফ্রাঁসোয়া ল্যতেক্সিয়ের
বেশ কিছু বিতর্কিত ও একপেশে সিদ্ধান্তের কারণে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছে ফুটবল
বিশ্ব। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম
আল জাজিরা
(Al Jazeera) এই
ম্যাচের রেফারিংকে সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ করে লিখেছে, "ভিএআর (VAR) কল ও
আর্জেন্টিনার জয় বিশ্বকাপের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছে।"
মিশরের গোল বাতিল ও পক্ষপাতিত্বের শুরু
ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে মিশরের মোস্তফা জিকো গোল করে দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু ভিএআর (VAR) রিভিউয়ের মাধ্যমে রেফারি গোলটি বাতিল করেন। কারণ হিসেবে দেখানো হয়, গোল হওয়ার বেশ কিছুক্ষণ আগে মাঝমাঠে আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেসকে ফাউল করা হয়েছিল। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, ফাউলটি অত্যন্ত ‘হালকা’ (soft) ছিল এবং এত আগের ঘটনা টেনে গোল বাতিল করা ফিফার ভিএআর প্রোটোকলের পরিপন্থী।
পেনাল্টি বঞ্চিত মিশর, কাউন্টার অ্যাটাকে আর্জেন্টিনার জয়
ম্যাচের সবচেয়ে বড় নাটকীয়তা তৈরি হয় শেষ মুহূর্তে। আর্জেন্টিনার ডি-বক্সে আলেক্সিস ম্যাকালেস্টার ও জুলিয়ান আলভারেজ যথাক্রমে মিশরের হামদি ফাথি এবং মোহামেদ সালাহকে স্পষ্ট ফাউল করলেও রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজাননি, এমনকি ভিএআর রিভিউ দেখারও প্রয়োজন মনে করেননি। আরও দুর্ভাগ্যজনকভাবে, মিশরের খেলোয়াড়রা যখন ফাউলের আবেদন জানাচ্ছিলেন, রেফারি খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন এবং সেখান থেকে পাওয়া দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজ ম্যাচের জয়সূচক ৩-২ গোলের ব্যবধান এনে দেন। পেনাল্টি পাওয়ার যোগ্য দল উল্টো গোল হজম করে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়।
বর্ণবাদ বিরোধী প্রোটোকল উপেক্ষা ও কার্ডের অসঙ্গতি
ম্যাচ জুড়ে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের আগ্রাসী ফাউলগুলোকে রেফারি এড়িয়ে গেলেও, সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করায় মিশরের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের একের পর এক কার্ড দেখান। চরম উত্তেজনার মুহূর্তে মিশরের কোচ হোসাম হাসান রেফারির সামনে দুই হাত দিয়ে 'X' চিহ্ন প্রদর্শন করেন-যা ফিফা কর্তৃক বর্ণবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর অফিশিয়াল প্রতীক। নিয়ম অনুযায়ী রেফারি তৎক্ষণাৎ খেলা থামিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা থাকলেও, তিনি তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে কোচকে হলুদ কার্ড দেখান।
মেসি-আর্জেন্টিনাকে টিকিয়ে রাখার চাপ
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান ফিফা ও রেফারিং প্যানেলের বিরুদ্ধে বৈষম্যের বিস্ফোরক অভিযোগ এনে বলেন, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসিকে টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখার জন্য মাঠের ভেতর ও বাইরে থেকে রেফারির ওপর অদৃশ্য চাপ ছিল। এছাড়া মাত্র ৪ দিনের ব্যবধানে দুপুর ১২টার তীব্র রোদে নকআউট ম্যাচ আয়োজন করায় খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি ফিফার তীব্র সমালোচনা করেন।
ফিফায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ
এই ম্যাচটিকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম একটি "কালো অধ্যায়" হিসেবে আখ্যা দিয়ে ইতিমধ্যে মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (EFA) ফিফার কাছে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পত্র জমা দিয়েছে। তারা ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া ল্যতেক্সিয়েকে চলতি বিশ্বকাপ থেকে অবিলম্বে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছে। ফুটবল অনুরাগী ও বিশেষজ্ঞদের মতে, রেফারিংয়ের এই নিম্নমান বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরের নিরপেক্ষতাকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে।

বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুলাই ২০২৬
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রাউন্ড অব
১৬’র আর্জেন্টিনা বনাম মিশরের মধ্যকার ম্যাচটি মাঠের ফুটবলকে ছাপিয়ে এখন রূপ
নিয়েছে চরম এক বিতর্কে। গতকালের ম্যাচে ফ্রান্সের রেফারি ফ্রাঁসোয়া ল্যতেক্সিয়ের
বেশ কিছু বিতর্কিত ও একপেশে সিদ্ধান্তের কারণে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছে ফুটবল
বিশ্ব। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম
আল জাজিরা
(Al Jazeera) এই
ম্যাচের রেফারিংকে সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ করে লিখেছে, "ভিএআর (VAR) কল ও
আর্জেন্টিনার জয় বিশ্বকাপের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছে।"
মিশরের গোল বাতিল ও পক্ষপাতিত্বের শুরু
ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে মিশরের মোস্তফা জিকো গোল করে দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু ভিএআর (VAR) রিভিউয়ের মাধ্যমে রেফারি গোলটি বাতিল করেন। কারণ হিসেবে দেখানো হয়, গোল হওয়ার বেশ কিছুক্ষণ আগে মাঝমাঠে আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেসকে ফাউল করা হয়েছিল। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, ফাউলটি অত্যন্ত ‘হালকা’ (soft) ছিল এবং এত আগের ঘটনা টেনে গোল বাতিল করা ফিফার ভিএআর প্রোটোকলের পরিপন্থী।
পেনাল্টি বঞ্চিত মিশর, কাউন্টার অ্যাটাকে আর্জেন্টিনার জয়
ম্যাচের সবচেয়ে বড় নাটকীয়তা তৈরি হয় শেষ মুহূর্তে। আর্জেন্টিনার ডি-বক্সে আলেক্সিস ম্যাকালেস্টার ও জুলিয়ান আলভারেজ যথাক্রমে মিশরের হামদি ফাথি এবং মোহামেদ সালাহকে স্পষ্ট ফাউল করলেও রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজাননি, এমনকি ভিএআর রিভিউ দেখারও প্রয়োজন মনে করেননি। আরও দুর্ভাগ্যজনকভাবে, মিশরের খেলোয়াড়রা যখন ফাউলের আবেদন জানাচ্ছিলেন, রেফারি খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন এবং সেখান থেকে পাওয়া দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজ ম্যাচের জয়সূচক ৩-২ গোলের ব্যবধান এনে দেন। পেনাল্টি পাওয়ার যোগ্য দল উল্টো গোল হজম করে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়।
বর্ণবাদ বিরোধী প্রোটোকল উপেক্ষা ও কার্ডের অসঙ্গতি
ম্যাচ জুড়ে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের আগ্রাসী ফাউলগুলোকে রেফারি এড়িয়ে গেলেও, সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করায় মিশরের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের একের পর এক কার্ড দেখান। চরম উত্তেজনার মুহূর্তে মিশরের কোচ হোসাম হাসান রেফারির সামনে দুই হাত দিয়ে 'X' চিহ্ন প্রদর্শন করেন-যা ফিফা কর্তৃক বর্ণবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর অফিশিয়াল প্রতীক। নিয়ম অনুযায়ী রেফারি তৎক্ষণাৎ খেলা থামিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা থাকলেও, তিনি তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে কোচকে হলুদ কার্ড দেখান।
মেসি-আর্জেন্টিনাকে টিকিয়ে রাখার চাপ
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান ফিফা ও রেফারিং প্যানেলের বিরুদ্ধে বৈষম্যের বিস্ফোরক অভিযোগ এনে বলেন, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসিকে টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখার জন্য মাঠের ভেতর ও বাইরে থেকে রেফারির ওপর অদৃশ্য চাপ ছিল। এছাড়া মাত্র ৪ দিনের ব্যবধানে দুপুর ১২টার তীব্র রোদে নকআউট ম্যাচ আয়োজন করায় খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি ফিফার তীব্র সমালোচনা করেন।
ফিফায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ
এই ম্যাচটিকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম একটি "কালো অধ্যায়" হিসেবে আখ্যা দিয়ে ইতিমধ্যে মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (EFA) ফিফার কাছে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পত্র জমা দিয়েছে। তারা ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া ল্যতেক্সিয়েকে চলতি বিশ্বকাপ থেকে অবিলম্বে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছে। ফুটবল অনুরাগী ও বিশেষজ্ঞদের মতে, রেফারিংয়ের এই নিম্নমান বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরের নিরপেক্ষতাকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে।

আপনার মতামত লিখুন