সংবাদ

বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম সম্পর্কের নতুন অধ্যায়


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ৮ জুলাই ২০২৬, ১১:৩১ এএম

বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম সম্পর্কের নতুন অধ্যায়
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম প্রতিনিধি দল।

বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসন রোধে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে। দেশ দুটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং ভিয়েতনাম প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির জননিরাপত্তা বিষয়ক উপমন্ত্রী সিনিয়র লেফটেন্যান্ট জেনারেল নগুয়েন ভ্যান লং।

বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টির ১৪তম জাতীয় কংগ্রেস সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় ভিয়েতনাম সরকারকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের নতুন সরকার ভিয়েতনামের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গতিশীল করতে আগ্রহী।

১৯৭৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত কূটনৈতিক সম্পর্কের পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে এসেছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ভিয়েতনামের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়।

বৈঠকে ভিয়েতনামে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা জটিলতা এবং অনিয়মিত অভিবাসীদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রকৃত পর্যটক, ব্যবসায়ী, বৈধ কর্মজীবী এবং পারিবারিক ভিসাপ্রত্যাশীদের জন্য ভিয়েতনামের ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ ও শিথিলকরণের অনুরোধ জানান।

আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, মানব পাচার, মাদক চোরাচালান ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ জোরদার করা প্রয়োজন।

দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ইতোমধ্যে ১ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের মধ্যে প্রেফারেন্সিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট (পিটিএ) স্বাক্ষরিত হলে দ্রুতই বাণিজ্যের পরিমাণ দ্বিগুণ হবে।

বাংলাদেশ থেকে আলু আমদানির অনুমতি দেওয়ায় ভিয়েতনাম সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি এবং আন্তর্জাতিক মানের বাংলাদেশি ওষুধ সাশ্রয়ী মূল্যে আমদানির অনুরোধ জানান। একইসঙ্গে ভিয়েতনামের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ আসিয়ানে (আসিয়ান) বাংলাদেশের ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ হওয়া এবং আরসিইপি (আরসিইপি)-এর সদস্যপদ প্রাপ্তিতে ভিয়েতনামের জোরালো সমর্থন প্রত্যাশা করেন।

ভিয়েতনাম পক্ষ বাংলাদেশের উত্থাপিত বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেয়। দুই দেশের সম্পর্ক আগামীতে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬


বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম সম্পর্কের নতুন অধ্যায়

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসন রোধে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে। দেশ দুটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং ভিয়েতনাম প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির জননিরাপত্তা বিষয়ক উপমন্ত্রী সিনিয়র লেফটেন্যান্ট জেনারেল নগুয়েন ভ্যান লং।

বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টির ১৪তম জাতীয় কংগ্রেস সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় ভিয়েতনাম সরকারকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের নতুন সরকার ভিয়েতনামের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গতিশীল করতে আগ্রহী।

১৯৭৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত কূটনৈতিক সম্পর্কের পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে এসেছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ভিয়েতনামের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়।

বৈঠকে ভিয়েতনামে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা জটিলতা এবং অনিয়মিত অভিবাসীদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রকৃত পর্যটক, ব্যবসায়ী, বৈধ কর্মজীবী এবং পারিবারিক ভিসাপ্রত্যাশীদের জন্য ভিয়েতনামের ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ ও শিথিলকরণের অনুরোধ জানান।

আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, মানব পাচার, মাদক চোরাচালান ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ জোরদার করা প্রয়োজন।

দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ইতোমধ্যে ১ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের মধ্যে প্রেফারেন্সিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট (পিটিএ) স্বাক্ষরিত হলে দ্রুতই বাণিজ্যের পরিমাণ দ্বিগুণ হবে।

বাংলাদেশ থেকে আলু আমদানির অনুমতি দেওয়ায় ভিয়েতনাম সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি এবং আন্তর্জাতিক মানের বাংলাদেশি ওষুধ সাশ্রয়ী মূল্যে আমদানির অনুরোধ জানান। একইসঙ্গে ভিয়েতনামের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ আসিয়ানে (আসিয়ান) বাংলাদেশের ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ হওয়া এবং আরসিইপি (আরসিইপি)-এর সদস্যপদ প্রাপ্তিতে ভিয়েতনামের জোরালো সমর্থন প্রত্যাশা করেন।

ভিয়েতনাম পক্ষ বাংলাদেশের উত্থাপিত বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেয়। দুই দেশের সম্পর্ক আগামীতে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত