প্রতীক্ষার অবসান। সোমবার (২৫ মে) পড়ন্ত বিকেলে দিল্লির রাইসিনা হিলসে অবস্থিত রাষ্ট্রপতি ভবন-এ আয়োজিত ‘সিভিল ইনভেস্টিচার সেরিমনিতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপাদি মুর্মুর হাত থেকে ‘পদ্মশ্রী’ সম্মান গ্রহণ করলেন টলিউডের সুপারস্টার প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জী। বাংলা চলচ্চিত্রে প্রায় চার দশকের অসামান্য অবদান, অসংখ্য জনপ্রিয় চরিত্র এবং ইন্ডাস্ট্রির দুঃসময়ে নেতৃত্ব দেওয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মান তার হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এদিন, রাষ্ট্রপতি ভবন হয়ে ওঠে দেশের কৃতি ব্যক্তিত্বদের মিলনক্ষেত্র। ভারত সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, এবছর মোট ১৩১টি পদ্ম সম্মান প্রদান করা হচ্ছে- যার মধ্যে রয়েছে ৫টি পদ্মবিভূষণ, ১৩টি পদ্মভূষণ এবং ১১৩টি পদ্মশ্রী। বিভিন্ন ক্ষেত্র—শিল্প, সাহিত্য, বিজ্ঞান, চিকিৎসা ও সমাজসেবায় অসামান্য অবদানের জন্য দেশজুড়ে বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের এই সম্মান দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত ছিল কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর মরণোত্তর ‘পদ্মবিভূষণ’ প্রদান। তার হয়ে এই সম্মান গ্রহণ করেন স্ত্রী হেমা মালিনী। সঙ্গে ছিলেন তাদের কন্যা অহনা। পুরস্কার গ্রহণের সময় আবেগাপ্লুত কণ্ঠে হেমা মালিনী জানান, এই সম্মান তাদের পরিবারের কাছে গর্বের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
এছাড়াও বিনোদন জগতের আরও বহু তারকা এদিন সম্মানিত হন। জনপ্রিয় গায়িকা আলকা যাগ্নিক এবং মালয়ালম চলচ্চিত্রের মেগাস্টার মাম্মুত্তি, তারা প্রাপ্য সম্মান গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি ভবনের এই বর্ণময় অনুষ্ঠানে।
বাংলার জন্যও এদিন ছিল বিশেষ গর্বের। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ থেকে আরও একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন- অশোক কুমার হালদার, গম্ভীর সিং ইয়োনজোন, হরি মাধব মুখোপাধ্যায় (মরণোত্তর), জ্যোতিষ দেবনাথ, কুমার বোস, মহেন্দ্র নাথ রায়, রবিলাল টুডু, সরোজ মণ্ডল এবং তরুণ ভট্টাচার্য। সাহিত্য, সঙ্গীত, চিকিৎসা ও শিল্পকলার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁদের অবদানকে স্বীকৃতি দিয়েছে দেশ।
প্রসঙ্গত, ১৯৬৮ সালে ‘ছোট্ট জিজ্ঞাসা’ ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেবে যাত্রা শুরু করেন প্রসেনজিৎ। এরপর ‘অমরসঙ্গী’র হাত ধরে বাংলা ছবির অবিসংবাদিত নায়ক হয়ে ওঠেন তিনি। তিন শতাধিক ছবিতে অভিনয় করে তিনি শুধু জনপ্রিয়তার শিখরেই পৌঁছাননি, বরং বাংলা চলচ্চিত্রের সংকটকালে ইন্ডাস্ট্রিকে ধরে রাখার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
রাইসিনা হিলসের এই বর্ণময় সন্ধ্যায় তাই একদিকে যেমন দেশের শ্রেষ্ঠদের সম্মানিত করা হলো, অন্যদিকে বাংলা চলচ্চিত্রের এক জীবন্ত কিংবদন্তির সাফল্যে গর্বিত হয়ে উঠল সমগ্র বাংলা। এই সম্মান শুধু একজন অভিনেতার প্রাপ্তি নয়- এটি বাংলার সংস্কৃতি ও সিনেমার প্রতি দেশের শ্রদ্ধার প্রতীক।
প্রসঙ্গত, এই পুরস্কার তিনটি ভাগে বিভক্ত: পদ্মবিভূষণ দেওয়া হয় অসাধারণ ও ব্যতিক্রমী সেবার জন্য। উচ্চমানের বিশেষ অবদানের জন্য। আর পদ্মশ্রী দেওয়া হয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য। প্রতিটি পুরস্কারের সঙ্গে দেওয়া হয় একটি পদক, রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরিত সনদপত্র এবং আজীবনের জাতীয় সম্মানl

মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬
প্রতীক্ষার অবসান। সোমবার (২৫ মে) পড়ন্ত বিকেলে দিল্লির রাইসিনা হিলসে অবস্থিত রাষ্ট্রপতি ভবন-এ আয়োজিত ‘সিভিল ইনভেস্টিচার সেরিমনিতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপাদি মুর্মুর হাত থেকে ‘পদ্মশ্রী’ সম্মান গ্রহণ করলেন টলিউডের সুপারস্টার প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জী। বাংলা চলচ্চিত্রে প্রায় চার দশকের অসামান্য অবদান, অসংখ্য জনপ্রিয় চরিত্র এবং ইন্ডাস্ট্রির দুঃসময়ে নেতৃত্ব দেওয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মান তার হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এদিন, রাষ্ট্রপতি ভবন হয়ে ওঠে দেশের কৃতি ব্যক্তিত্বদের মিলনক্ষেত্র। ভারত সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, এবছর মোট ১৩১টি পদ্ম সম্মান প্রদান করা হচ্ছে- যার মধ্যে রয়েছে ৫টি পদ্মবিভূষণ, ১৩টি পদ্মভূষণ এবং ১১৩টি পদ্মশ্রী। বিভিন্ন ক্ষেত্র—শিল্প, সাহিত্য, বিজ্ঞান, চিকিৎসা ও সমাজসেবায় অসামান্য অবদানের জন্য দেশজুড়ে বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের এই সম্মান দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত ছিল কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর মরণোত্তর ‘পদ্মবিভূষণ’ প্রদান। তার হয়ে এই সম্মান গ্রহণ করেন স্ত্রী হেমা মালিনী। সঙ্গে ছিলেন তাদের কন্যা অহনা। পুরস্কার গ্রহণের সময় আবেগাপ্লুত কণ্ঠে হেমা মালিনী জানান, এই সম্মান তাদের পরিবারের কাছে গর্বের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
এছাড়াও বিনোদন জগতের আরও বহু তারকা এদিন সম্মানিত হন। জনপ্রিয় গায়িকা আলকা যাগ্নিক এবং মালয়ালম চলচ্চিত্রের মেগাস্টার মাম্মুত্তি, তারা প্রাপ্য সম্মান গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি ভবনের এই বর্ণময় অনুষ্ঠানে।
বাংলার জন্যও এদিন ছিল বিশেষ গর্বের। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ থেকে আরও একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন- অশোক কুমার হালদার, গম্ভীর সিং ইয়োনজোন, হরি মাধব মুখোপাধ্যায় (মরণোত্তর), জ্যোতিষ দেবনাথ, কুমার বোস, মহেন্দ্র নাথ রায়, রবিলাল টুডু, সরোজ মণ্ডল এবং তরুণ ভট্টাচার্য। সাহিত্য, সঙ্গীত, চিকিৎসা ও শিল্পকলার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁদের অবদানকে স্বীকৃতি দিয়েছে দেশ।
প্রসঙ্গত, ১৯৬৮ সালে ‘ছোট্ট জিজ্ঞাসা’ ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেবে যাত্রা শুরু করেন প্রসেনজিৎ। এরপর ‘অমরসঙ্গী’র হাত ধরে বাংলা ছবির অবিসংবাদিত নায়ক হয়ে ওঠেন তিনি। তিন শতাধিক ছবিতে অভিনয় করে তিনি শুধু জনপ্রিয়তার শিখরেই পৌঁছাননি, বরং বাংলা চলচ্চিত্রের সংকটকালে ইন্ডাস্ট্রিকে ধরে রাখার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
রাইসিনা হিলসের এই বর্ণময় সন্ধ্যায় তাই একদিকে যেমন দেশের শ্রেষ্ঠদের সম্মানিত করা হলো, অন্যদিকে বাংলা চলচ্চিত্রের এক জীবন্ত কিংবদন্তির সাফল্যে গর্বিত হয়ে উঠল সমগ্র বাংলা। এই সম্মান শুধু একজন অভিনেতার প্রাপ্তি নয়- এটি বাংলার সংস্কৃতি ও সিনেমার প্রতি দেশের শ্রদ্ধার প্রতীক।
প্রসঙ্গত, এই পুরস্কার তিনটি ভাগে বিভক্ত: পদ্মবিভূষণ দেওয়া হয় অসাধারণ ও ব্যতিক্রমী সেবার জন্য। উচ্চমানের বিশেষ অবদানের জন্য। আর পদ্মশ্রী দেওয়া হয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য। প্রতিটি পুরস্কারের সঙ্গে দেওয়া হয় একটি পদক, রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরিত সনদপত্র এবং আজীবনের জাতীয় সম্মানl

আপনার মতামত লিখুন