পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় পশুর মাংস ও হাড় কাটার কাঠের গুঁড়ি বা ‘খাইট্টা’র চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। সারা বছর এই বিশেষ বস্তুটির বেচাকেনা তেমন একটা না থাকলেও কোরবানির ঈদের আগে চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যায়। ফলে এটি মূলত একটি মৌসুমি ব্যবসা।
গ্রাম থেকে শহর সব জায়গাতেই কোরবানির মাংস কাটার জন্য শক্ত কাঠের এই খাইট্টা বা পাটাতনের প্রয়োজন হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, একটি গরুর মাংস প্রস্তুত করতে সাধারণত ২ থেকে ৩ টি খাইট্টা লাগে। আর একটি ছাগলের জন্য ১ টি খাইট্টাই যথেষ্ট।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন করাতকলে গাছের গুঁড়ি গোল করে কেটে এসব খাইট্টা তৈরি করা হয়। অঞ্চলভেদে এগুলোকে খাইট্টা, খটিয়া, কাইটে, গুঁড়ি কিংবা শপার নামেও ডাকা হয়। দেবহাটা উপজেলার সখিপুর মোড় থেকে সখিপুর হাসপাতাল সংলগ্ন রাস্তার দুই ধারে সারি সারি খাইট্টা সাজিয়ে রাখতে দেখা গেছে। আকার ও কাঠের মানভেদে প্রতিটি খাইট্টা ১৫০ টাকা থেকে শুরু করে এক হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের আশা, ঈদের আগের দিনগুলোতে বিক্রি আরও বাড়বে।
মাঝ সখিপুর গ্রামের কাঠ ব্যবসায়ী আকাশ হোসেন বলেন, মাংস কাটার কাজে কাঠের খাইট্টার কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে তেঁতুল কাঠের তৈরি খাইট্টার চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
একই এলাকার মামুন হোসেন বলেন, তেঁতুল কাঠ অত্যন্ত শক্ত হওয়ায় চাপাতির কোপ সহজে বসে না এবং কাঠের গুঁড়ো খুব কম ওঠে। ফলে মাংসে কাঠের গুঁড়ো মিশে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। এই স্থায়িত্বের কারণেই তেঁতুল কাঠের খাইট্টার কদর বেশি।
আমতলা মোড়ের ফজলে রাব্বি বলেন, কোরবানির মাংস কাটার জন্য ভালো মানের খাইট্টা খুবই দরকার। ছাগলের মাংস কাটতে ছোট এবং গরু বা মহিষের মাংস কাটতে বড় আকারের খাইট্টা ব্যবহার করা হয়।
সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, ভালো লাভের আশায় সাধারণ কাঠ ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ীও এখন এই ব্যবসায় নেমেছেন। ক্রেতারাও নিজেদের বাজেট ও প্রয়োজন অনুযায়ী দরদাম করে কিনে নিচ্ছেন কোরবানির এই অতি প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গটি।

বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় পশুর মাংস ও হাড় কাটার কাঠের গুঁড়ি বা ‘খাইট্টা’র চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। সারা বছর এই বিশেষ বস্তুটির বেচাকেনা তেমন একটা না থাকলেও কোরবানির ঈদের আগে চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যায়। ফলে এটি মূলত একটি মৌসুমি ব্যবসা।
গ্রাম থেকে শহর সব জায়গাতেই কোরবানির মাংস কাটার জন্য শক্ত কাঠের এই খাইট্টা বা পাটাতনের প্রয়োজন হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, একটি গরুর মাংস প্রস্তুত করতে সাধারণত ২ থেকে ৩ টি খাইট্টা লাগে। আর একটি ছাগলের জন্য ১ টি খাইট্টাই যথেষ্ট।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন করাতকলে গাছের গুঁড়ি গোল করে কেটে এসব খাইট্টা তৈরি করা হয়। অঞ্চলভেদে এগুলোকে খাইট্টা, খটিয়া, কাইটে, গুঁড়ি কিংবা শপার নামেও ডাকা হয়। দেবহাটা উপজেলার সখিপুর মোড় থেকে সখিপুর হাসপাতাল সংলগ্ন রাস্তার দুই ধারে সারি সারি খাইট্টা সাজিয়ে রাখতে দেখা গেছে। আকার ও কাঠের মানভেদে প্রতিটি খাইট্টা ১৫০ টাকা থেকে শুরু করে এক হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের আশা, ঈদের আগের দিনগুলোতে বিক্রি আরও বাড়বে।
মাঝ সখিপুর গ্রামের কাঠ ব্যবসায়ী আকাশ হোসেন বলেন, মাংস কাটার কাজে কাঠের খাইট্টার কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে তেঁতুল কাঠের তৈরি খাইট্টার চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
একই এলাকার মামুন হোসেন বলেন, তেঁতুল কাঠ অত্যন্ত শক্ত হওয়ায় চাপাতির কোপ সহজে বসে না এবং কাঠের গুঁড়ো খুব কম ওঠে। ফলে মাংসে কাঠের গুঁড়ো মিশে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। এই স্থায়িত্বের কারণেই তেঁতুল কাঠের খাইট্টার কদর বেশি।
আমতলা মোড়ের ফজলে রাব্বি বলেন, কোরবানির মাংস কাটার জন্য ভালো মানের খাইট্টা খুবই দরকার। ছাগলের মাংস কাটতে ছোট এবং গরু বা মহিষের মাংস কাটতে বড় আকারের খাইট্টা ব্যবহার করা হয়।
সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, ভালো লাভের আশায় সাধারণ কাঠ ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ীও এখন এই ব্যবসায় নেমেছেন। ক্রেতারাও নিজেদের বাজেট ও প্রয়োজন অনুযায়ী দরদাম করে কিনে নিচ্ছেন কোরবানির এই অতি প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গটি।

আপনার মতামত লিখুন