শ্রীমঙ্গলের নাম উচ্চারণ করলেই চোখে ভেসে ওঠে অন্তহীন চা–বাগান, কুয়াশা ঢাকা পাহাড় আর সবুজের শান্ত বিস্তার। সেই পরিচিত সৌন্দর্যের ভেতরই নিভৃত এক বিস্ময় হয়ে ধীরে ধীরে পর্যটকদের নজর কাড়ছে শ্রীমঙ্গলের ‘পাইন বন’। স্থানীয়দের অনেকেই একে ঝাউ বন নামেও চেনেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ট্রাভেল ভ্লগ আর চমৎকার সব আলোকচিত্রের মাধ্যমে এখন এটি দেশি–বিদেশি ভ্রমণপিপাসুদের কাছে নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি ও চায়ের রাজধানীখ্যাত শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভারতীয় সীমান্তবর্তী হরিণছড়া চা–বাগান এলাকায় অবস্থিত এই পাইন বন। চা–বাগানের আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে সেখানে পৌঁছাতে হয়। চারদিকে সবুজ চা–গাছের সারির মাঝখানে হঠাৎ করেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা দীর্ঘ পাইন গাছের সারি দর্শনার্থীদের মনে ভিন্ন এক অনুভূতি জাগায়। অনেকের কাছেই জায়গাটি যেন দেশের ভেতর বিদেশের কোনো নীরব পাহাড়ি অরণ্যের আবহ তৈরি করে।
বাতাসে পাইন পাতার মৃদু শব্দ, চারপাশের নিস্তব্ধতা আর পাখির ডাক মিলিয়ে জায়গাটি হয়ে উঠেছে স্বপ্নময়। উঁচু গাছের ফাঁক গলে সূর্যের আলো মাটিতে পড়ে তৈরি করে অপূর্ব আলোকছায়া। বর্ষাকালে চারপাশের সবুজ আরও গভীর হয়ে ওঠে, আর শীতের সকালে কুয়াশা ঘিরে ধরে বনটিকে রহস্যময় রূপে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক বছর আগেও এই জায়গাটি খুব বেশি পরিচিত ছিল না। দুর্গম অবস্থান ও সীমিত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে কেবল আশপাশের মানুষই এর সৌন্দর্যের কথা জানতেন। পরে ইউটিউবার, ট্রাভেল ভ্লগার ও আলোকচিত্রীরা এখানে এসে ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করলে ধীরে ধীরে দেশজুড়ে পরিচিতি পেতে শুরু করে পাইন বন। এখন প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন জেলা থেকে পর্যটকেরা ছুটে আসছেন এই নীরব সৌন্দর্য দেখতে।
ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা এক পর্যটক বলেন, “ছবিতে দেখে যতটা সুন্দর মনে হয়েছিল, বাস্তবে এসে তার চেয়েও বেশি মুগ্ধ হয়েছি। মনে হচ্ছে যেন বাংলাদেশের বাইরে কোনো পাহাড়ি অরণ্যে দাঁড়িয়ে আছি।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, ঈদ ও দীর্ঘ ছুটির সময় এখানে পর্যটকের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। আসন্ন ঈদুল আজহার ছুটিতেও রেকর্ডসংখ্যক পর্যটকের সমাগম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, চা–বাগানের বিস্তৃত সবুজ, পাহাড়ি পথ আর ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা মনোরম দৃশ্যপট মিলিয়ে জায়গাটি এখন ভ্রমণপ্রেমীদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।
তবে এই পাইন বনে প্রবেশের ক্ষেত্রে চা–বাগান কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণের স্বার্থে দর্শনার্থীদের সচেতন থাকার আহ্বানও জানিয়েছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের মতে, পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হলে পাইন বন শ্রীমঙ্গলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইকো–ট্যুরিজম স্পট হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে প্লাস্টিক বর্জ্য ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
শ্রীমঙ্গল শহর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, চাঁদের গাড়ি কিংবা মোটরসাইকেলে সহজেই পৌঁছানো যায় পাইন বনের কাছাকাছি। একই সফরে পর্যটকেরা ঘুরে দেখতে পারেন হাইল হাওর, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, নূরজাহান টি গার্ডেনসহ আশপাশের পাহাড়ি চা–বাগান।
সবুজের শহর শ্রীমঙ্গলে প্রকৃতি যেন বারবার নতুন রূপে ধরা দেয়। আর সেই রূপের ভাঁজে নির্জন, নান্দনিক ও অপার্থিব সৌন্দর্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে পাইন বন—যা এখন ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য।

মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬
শ্রীমঙ্গলের নাম উচ্চারণ করলেই চোখে ভেসে ওঠে অন্তহীন চা–বাগান, কুয়াশা ঢাকা পাহাড় আর সবুজের শান্ত বিস্তার। সেই পরিচিত সৌন্দর্যের ভেতরই নিভৃত এক বিস্ময় হয়ে ধীরে ধীরে পর্যটকদের নজর কাড়ছে শ্রীমঙ্গলের ‘পাইন বন’। স্থানীয়দের অনেকেই একে ঝাউ বন নামেও চেনেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ট্রাভেল ভ্লগ আর চমৎকার সব আলোকচিত্রের মাধ্যমে এখন এটি দেশি–বিদেশি ভ্রমণপিপাসুদের কাছে নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি ও চায়ের রাজধানীখ্যাত শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভারতীয় সীমান্তবর্তী হরিণছড়া চা–বাগান এলাকায় অবস্থিত এই পাইন বন। চা–বাগানের আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে সেখানে পৌঁছাতে হয়। চারদিকে সবুজ চা–গাছের সারির মাঝখানে হঠাৎ করেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা দীর্ঘ পাইন গাছের সারি দর্শনার্থীদের মনে ভিন্ন এক অনুভূতি জাগায়। অনেকের কাছেই জায়গাটি যেন দেশের ভেতর বিদেশের কোনো নীরব পাহাড়ি অরণ্যের আবহ তৈরি করে।
বাতাসে পাইন পাতার মৃদু শব্দ, চারপাশের নিস্তব্ধতা আর পাখির ডাক মিলিয়ে জায়গাটি হয়ে উঠেছে স্বপ্নময়। উঁচু গাছের ফাঁক গলে সূর্যের আলো মাটিতে পড়ে তৈরি করে অপূর্ব আলোকছায়া। বর্ষাকালে চারপাশের সবুজ আরও গভীর হয়ে ওঠে, আর শীতের সকালে কুয়াশা ঘিরে ধরে বনটিকে রহস্যময় রূপে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক বছর আগেও এই জায়গাটি খুব বেশি পরিচিত ছিল না। দুর্গম অবস্থান ও সীমিত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে কেবল আশপাশের মানুষই এর সৌন্দর্যের কথা জানতেন। পরে ইউটিউবার, ট্রাভেল ভ্লগার ও আলোকচিত্রীরা এখানে এসে ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করলে ধীরে ধীরে দেশজুড়ে পরিচিতি পেতে শুরু করে পাইন বন। এখন প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন জেলা থেকে পর্যটকেরা ছুটে আসছেন এই নীরব সৌন্দর্য দেখতে।
ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা এক পর্যটক বলেন, “ছবিতে দেখে যতটা সুন্দর মনে হয়েছিল, বাস্তবে এসে তার চেয়েও বেশি মুগ্ধ হয়েছি। মনে হচ্ছে যেন বাংলাদেশের বাইরে কোনো পাহাড়ি অরণ্যে দাঁড়িয়ে আছি।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, ঈদ ও দীর্ঘ ছুটির সময় এখানে পর্যটকের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। আসন্ন ঈদুল আজহার ছুটিতেও রেকর্ডসংখ্যক পর্যটকের সমাগম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, চা–বাগানের বিস্তৃত সবুজ, পাহাড়ি পথ আর ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা মনোরম দৃশ্যপট মিলিয়ে জায়গাটি এখন ভ্রমণপ্রেমীদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।
তবে এই পাইন বনে প্রবেশের ক্ষেত্রে চা–বাগান কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণের স্বার্থে দর্শনার্থীদের সচেতন থাকার আহ্বানও জানিয়েছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের মতে, পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হলে পাইন বন শ্রীমঙ্গলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইকো–ট্যুরিজম স্পট হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে প্লাস্টিক বর্জ্য ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
শ্রীমঙ্গল শহর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, চাঁদের গাড়ি কিংবা মোটরসাইকেলে সহজেই পৌঁছানো যায় পাইন বনের কাছাকাছি। একই সফরে পর্যটকেরা ঘুরে দেখতে পারেন হাইল হাওর, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, নূরজাহান টি গার্ডেনসহ আশপাশের পাহাড়ি চা–বাগান।
সবুজের শহর শ্রীমঙ্গলে প্রকৃতি যেন বারবার নতুন রূপে ধরা দেয়। আর সেই রূপের ভাঁজে নির্জন, নান্দনিক ও অপার্থিব সৌন্দর্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে পাইন বন—যা এখন ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য।

আপনার মতামত লিখুন