সংবাদ

দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার গতি বিধি ভালো মনে হচ্ছেনা - ড. এম এম আকাশ


প্রকাশ: ২৭ মে ২০২৬, ১১:০০ এএম

দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার গতি বিধি ভালো মনে হচ্ছেনা -  ড. এম এম আকাশ

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম এম আকাশ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক। দীর্ঘ দিন ধরে তিনি গ্রামীণ অর্থনীতি, মানুষের বৈষম্য দূরীকরণ এবং বাংলাদেশের বাস্তবতা নিয়ে কাজ করছেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা কী এবং বৈদেশিক যে ঋণের বোঝা সেটি কোন পর্যায়ে নিয়ে যাবে এবং উত্তরণের উপায় কী? এসব বিষয় নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন সংবাদের ডিজিটাল বিভাগের বার্তা প্রধান রাশেদ আহমেদ। 

রাশেদ আহমেদ: বাংলাদেশে এখন মূল্যস্ফীতি অনেক বেশি। গত তিন বছর থেকে ৮, ৯, ১০ এই পর্যায়ে মূল্যস্ফীতি রয়েছে। সেটি সাধারণ মানুষের মধ্যে কিন্তু একটি বড় চাপ তৈরি করে। জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায়, সেটি মানুষের গায়ে লাগে। এই যে পরিস্থিতি, এই পরিস্থিতিতে সরকার থেকে কোনো উদ্যোগই নেওয়া হচ্ছে না। আসলে কী করা যায় এই মুহূর্তে?

ড. এম এম আকাশ: প্রথমত আমাদের দেখতে হবে যে মূল্যস্ফীতি ট্রিগারড হচ্ছে কোনখান থেকে বা তার ড্রাইভিং ফোর্সটা কী। তারপর সেগুলো কমানোর চেষ্টা করতে হবে। আমাদের অর্থনীতিতে দুটো লক্ষণ একই সঙ্গে দেখা যাচ্ছে। একটা হচ্ছে জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে, আরেকটা হচ্ছে জিনিসপত্র অনেক সময় অবিক্রীত থাকছে পার্চেজিং পাওয়ারের অভাবে। এবং বিনিয়োগ হচ্ছে না, এমপ্লয়মেন্ট তৈরি হচ্ছে না। মানুষের ইনকাম তুলনামূলকভাবে স্থির থাকছে অথবা কমে যাচ্ছে, বেকারত্ব বাড়ছে। তার ফলে আমাদের সিচুয়েশনটাকে বুঝতে হবে মন্দাস্ফীতি হিসেবে। ইনফ্লেশন বললেও পুরোটা বোঝা যাবে না, স্ট্যাগনেশন বললেও পুরোটা বোঝা যাবে না। ইংরেজিতে এরকম পরিস্থিতিতে এই দুটো জিনিসের সংমিশ্রণ অর্থনীতি শাস্ত্রে অনুমোদিত না। অর্থনীতি শাস্ত্র বলে যে মুদ্রাস্ফীতি কমে যাবে। কারণ টাকা ছুটছে জিনিসের দিকে, সেই জন্য জিনিসের দাম বাড়ছে। তো টাকা একটু ব্যাংক যদি কমিয়ে দিতে পারে তাহলে মুদ্রাস্ফীতি কমে যাবে। কিন্তু মুশকিল হলো যখন আপনি টাকা কমাবেন তখন ধার কমাবেন, সুদের হার বাড়াবেন তার ফলে বিনিয়োগ আবার কমে যাবে। বিনিয়োগ যদি কমে যায় তাহলে আবার উৎপাদন কমে যাবে। তাহলে উৎপাদন কমে গেলে টাকা কমলেও মুদ্রাস্ফীতি থেকেই যাবে। এই জন্য মন্দাস্ফীতি বলাটাই সিচুয়েশনটাকে সঠিক। একই সঙ্গে এমন পদ্ধতিতে আমাদের কাজ করতে হবে যাতে মন্দা ভেঙে আমরা প্রবৃদ্ধি, উৎপাদন, বিনিয়োগ এগুলো বাড়াতে পারি আবার মুদ্রাস্ফীতিও কমাতে পারি। কিন্তু অর্থনীতি বলে যে যদি ওটা করতে যায় তাহলে কিছুটা মুদ্রাস্ফীতি থাকবেই। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে সেই অল্প কিছু মুদ্রাস্ফীতি যেটা টনিকের মতো কাজ করবে উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সেটা কিন্তু হচ্ছে না। কেন হচ্ছে না সেটা ভালো করে বোঝা দরকার। যে আমাদের এখানে মুদ্রাস্ফীতিটা ডিমান্ডের কারণে হচ্ছে না। অনেক মানুষ ডিমান্ড করেছে, জিনিস কম সেই জন্য বেড়ে যাচ্ছে তা না। এখানে মুদ্রাস্ফীতিটা হচ্ছে কস্ট এর কারণে। কস্ট অফ প্রোডাকশন বেড়ে যাচ্ছে, সেই জন্য এটাকে আমরা অনেক সময় বলি কস্ট পুশ ইনফ্লেশন বা অনেক সময় বলি সাপ্লাই সাইড ইনফ্লেশন। এটা কিরকম ভাবে হয়? যেমন ধরেন আপনি ডলারের দাম যদি বাড়িয়ে দেন, এক ডলার ৮০ টাকা ছিল এখন হয়তো ১২২ টাকা হয়ে গেছে। তার মানে ডলারের দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে। সুতরাং এক ডলার দিয়ে আপনি যে জিনিসটা আমদানি করতেন সেটার দাম ৮০ টাকা ছিল সেটা হয়ে যাবে একশো... দ্বিগুণ যদি হয় আট দুগুনে ১৬, ১৬০ টাকা। সুতরাং এটা আপনার হাতে নাই। আপনি ওই দামে যদি আমদানি করেন তাহলে আপনি তো ওর চেয়ে কম দামে বিক্রি করতে পারবেন না। সুতরাং ডলারটা দীর্ঘকাল ধরে আন্ডারপ্রাইস রাখতেন তারপর সাডেনলি একটা শক দিয়ে ডলারের প্রাইসটা যদি বাড়িয়ে দেন বা আইএমএফের নির্দেশে যদি বাড়িয়ে দেন তাহলে আপনার সমস্ত আমদানিকৃত জিনিসের দাম দ্বিগুণ হয়ে যাবে। এখন আমাদের ইকোনমি আগে ছিল ক্লোজড ইকোনমি এখন এটা ওপেন ইকোনমি। মোর দ্যান ফিফটি পারসেন্ট অফ দ্য ট্রানজ্যাকশন এক্সপোর্ট প্লাস ইমপোর্টকে যদি আপনি জিডিপি দিয়ে ভাগ করেন তাহলে জিডিপির ৫০ শতাংশের বেশি এখন এক্সপোর্ট ইমপোর্টের মাধ্যমে হচ্ছে। সুতরাং ডলারের দামটা খুব ক্রিটিক্যাল হয়ে গেছে। এবং ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় আপনার আমদানিকৃত কাঁচামালের দাম বেড়ে গেছে, আপনার ট্রান্সপোর্ট কস্ট বেড়ে গেছে, আপনার ইন্টারমিডিয়েট প্রোডাক্টসের দাম বেড়ে গেছে, আপনার জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে। এখন এগুলোর সবটার একটা কম্বাইন্ড এফেক্টে জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। এখন এটাকে ফাইট করতে গেলে পরে আপনাকে টাকা কমালে তো হবে না। ডিমান্ড না থাকলেও ওর চেয়ে কম দামে ও বিক্রি করবে না কারণ ওই দামেই সে কিনেছে। সুতরাং মনিটরি পলিসি দিয়ে এটাকে সামলানো যাবে না। এটাকে সামলাতে হবে আমাদের উৎপাদন বৃদ্ধি করে, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করে এবং ডলারের এগেইনস্টে আমাদের এক্সচেঞ্জ রেটটাকে ইমপ্রুভ করে অথবা স্থির রেখে দিয়ে।

রাশেদ আহমেদ: আপনি যেটি বলছিলেন উৎপাদন বৃদ্ধির কথা, সেই উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হলে দেশে বিনিয়োগ দরকার। কিন্তু গত দুই বছরে বাংলাদেশের বিনিয়োগ এশিয়া মহাদেশের মধ্যে তলানিতে রয়েছে। আমাদের যে মুদ্রাস্ফীতি বলেন যেটি গ্রোথ রেট সেই তুলনায় বিনিয়োগ একেবারে নেই বললেই চলে। একটি গবেষণায় সম্প্রতি ধরা পড়েছে। 

ড. এম এম আকাশ: আমি তো সেটাই বললাম না যে বিনিয়োগ হলে প্রবৃদ্ধি হতো তাহলে মন্দা থাকতো না। কিন্তু বিনিয়োগ নাই বলে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে না, কর্মসংস্থানও হচ্ছে না, মানুষের পকেটে আয়ও আসছে না। তার মানে একদিকে আপনি পার্চেজিং পাওয়ারের অভাবে জিনিস কিনতে পারছেন না আরেকদিকে জিনিসের দাম বেড়ে যাচ্ছে। তার ফলে আপনি ভয়ঙ্কর কঠিন অবস্থায় আছেন। এখন আপনার নেক্সট কোশ্চেন হলো বিনিয়োগ কেমনে বাড়বে? বা বিনিয়োগ বাড়ছে না কেন? বিনিয়োগ বাড়ছে না কারণ আমরা কতগুলো বড় বড় হাউসের ওপরে নির্ভরশীল। যেই বড় বড় হাউসের কাছে যারা অতি ধনী তাদের কাছে বিনিয়োগযোগ্য সঞ্চয় আছে। তারা সেই সঞ্চয় দিয়ে যদি শিল্পায়ন করে তাহলে শিল্প উৎপাদন বাড়ে। কিন্তু তারা সেই সঞ্চয়কে দুই ভাগ করে ফেলেছে। এক ভাগ তারা বিদেশে রেখেছে সিকিউরিটির জন্য যে এখান থেকে যদি পালাতে হয় তাহলে দুবাইতে চলে যাব, কানাডায় চলে যাব, আমেরিকায় চলে যাব ইত্যাদি ইত্যাদি সেকেন্ড হোম যেটাকে আমরা বলি। এখন এইটা নিয়ে তো আপনি টাকা কিছু বের করলেন এক্সপোর্ট কিছু করলেন কিন্তু এক্সপোর্টের টাকাটা আর এখানে আসবে না। ওটাকে সে মানে দেখাবে আন্ডারপ্রাইসিং এক্সপোর্টের ক্ষেত্রে। আন্ডারপ্রাইসিং দেখালে পরে অল্প ডলার আসবে আর বাকি ডলারটা ও ওখানে ব্যাংকে ওই যার কাছে সে এক্সপোর্ট করল তাকে বলবে আমার অ্যাকাউন্টে রেখে দাও। ইমপোর্ট করার সময় সে ওভারপ্রাইসিং করবে। সুতরাং আপনি বেশি ডলার বাইরে দিয়ে দিবেন ইমপোর্ট করার জন্য ওখান থেকে একটা অংশ যে ইমপোর্ট করল সে আপনার ওখানকার ফরেন ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে রেখে দেবে। এবং এরকম হাজার হাজার কোটি টাকা তো এই আন্ডারইনভয়েসিং ওভারইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে দেশ থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। সেই টাকাটা যদি দেশে আসতো থাকতো যেমন রেমিট্যান্সের টাকাটা যখন দেশে আসে তখন আপনি একটু বেঁচে যান তাতে ওই ডলারগুলো আসলে আপনি ডলারের ডিপ্রেশিয়েশন মানে আপনার মূল্যের টাকার মান যে কমে যাচ্ছে এটাকে আটকাতে পারেন। আপনি এই লুটেরাদের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার কারণে আপনার ডলার আপনার কাছে থাকছে না। আপনার উৎপাদন ডলারে রূপান্তরিত হয়ে বাইরে চলে যাচ্ছে। আর আপনি উৎপাদন যেটা বাইরে থেকে আনছেন সেটা বেশি ডলার দিয়ে কিনছেন। সুতরাং আপনার রিজার্ভ কমে যাচ্ছে। আপনি রিজার্ভ যদি কমে যায় তাহলে আপনি তো ভীষণ সংকটে পড়ে এক সময় শ্রীলঙ্কার মতো দেউলিয়া হয়ে যাবেন। যেখানে মুদ্রাস্ফীতি ২০০ পারসেন্টে চলে গিয়েছিল এরকম। কিন্তু আপনি সেই দেউলিয়ার দিকে আগাবেন কি না সেটা আবার নির্ভর করবে ফরেন এইডের ওপর। আপনি যদি ফরেন এইড দেয় তাহলে টেম্পোরারি আপনি বাঁচবেন কিন্তু ফরেন এইডের জন্য আবার আপনাকে সুদ পে করতে হবে এবং সুদের বোঝা যখন বেড়ে যাবে তখন সুদের মাধ্যমে ডলার আবার বাইরে যাবে ওভারইনভয়েসিং আন্ডারইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে ডলার বাইরে যাবে আর আপনার এক্সপোর্ট যদি কমে যায় এখন তো ট্যারিফ যুদ্ধ হচ্ছে ট্রাম্প আপনার এক্সপোর্ট কমিয়ে দিচ্ছে এক্সপোর্ট করলেও সেটার একটা বড় অংশ ট্যারিফ হিসেবে রেখে দিচ্ছে ওখানে। বা যাই হোক মানে আপনি এক্সপোর্টের ফ্রন্টে খুব সুবিধা করতে পারছেন না। তাহলে আপনার একমাত্র ভরসা হলো শ্রম রপ্তানি। শ্রম রপ্তানি করে আপনি কিছু রেমিট্যান্স আনতে পারেন এখন যুদ্ধ লেগে গেছে সুতরাং সেটাও আপনি আনতে পারবেন না। তাহলে একটা ভয়ঙ্কর ক্রাইসিসের দিকে আমাদের দেশ যাচ্ছে। একমাত্র মানে চিন্তা হলো যে রেশনিং করে চাপ দিয়ে বাড়তি কর আদায় করে ফ্লাইট অফ ক্যাপিটাল যেসব বিগ হাউসগুলো করে তাদের ওপর নজরদারি বাড়িয়ে খেলাপি ঋণ নিয়ে বাইরে পাঠিয়ে দিচ্ছে সেগুলো ডিসিপ্লিন করে মানে সুশাসনটা আবার জরুরি হয়ে পড়ছে।

রাশেদ আহমেদ: না একটি বলছিলেন আপনি যে নির্ভরশীলতা বিগ হাউসগুলোর ওপরে নির্ভরশীলতা গভর্মেন্টের। এটি ছাড়া কি এই সময়ে উপায় আছে?ড. এম এম আকাশ: হ্যাঁ উপায় আছে। আপনাকে এসএমই’র দিকে নজর দিতে হবে স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজ যেগুলো গ্রামে থাকে ছোট ছোট কারখানা স্মল গ্রামে আছে এমপ্লয়মেন্ট হচ্ছে হতে পারে যে চীনে যেটা হচ্ছিল। চীন যেটা করেছে বা আপনার সাউথ কোরিয়াও যেটা করেছে বা যেকোনো ইস্ট এশিয়ান কান্ট্রি যারা শিল্পায়িত হয়েছে তারা প্রথম যুগে যেটা করেছে তারা মনোপলি তৈরি করে মনোপলির কাছে একটা করেছে যে মনোপলি তৈরি হয়েছে কিন্তু মনোপলিকে শাসনে রেখেছে। টাকা বাইরে পাচার করতে দেয়নি তারা জাতীয়তাবাদী ধনীক শ্রেণি হিসেবে তাদের উৎপাদন এবং আয় দেশের মধ্যেই ঘুরপাক খেয়েছে। এইটা একটা করেছে। আরেকটা করেছে চীনের মতো দেশগুলো এটা সবচেয়ে সাকসেসফুলি করেছে যে ওরা দুটো খাতকে একই সঙ্গে হেল্প করেছে। গ্রামীণ শিল্পায়ন এবং সাংহাইয়ের শিল্পায়ন দুটোকে একসঙ্গে করাতে তাদের এমপ্লয়মেন্ট প্রবলেম হয়নি পোভার্টির প্রবলেম হয়নি ইনইকুয়ালিটিটা কমে গেছে। আর যেহেতু চীনের প্রবলেম আরও চীন এবং ভিয়েতনাম আরও সুবিধা কারণ ওগুলো তো রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে। ধরেন জমিটা পুরোটাই রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে। সুতরাং জমি আদান-প্রদান করে যে রেন্ট ইনকাম সহজ ইনকাম ভাড়া দিয়ে বাড়িতে ভাড়া দিয়ে সেই টাকা দিয়ে ইনকাম এগুলো তো মানে আমরা দূর করতে পারব না যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা মালিকানা কাঠামোটা কিছুটা ওয়েলথের ডিস্ট্রিবিউশনটাকেও নিচে নামাতে না পারছি। আমরা যদি টাকার ফ্লো ব্যাংক থেকে টাকার ফ্লো বড় শিল্পপতিদের দিয়ে তাদের ওখানে ৪০ পারসেন্ট খেলাপি ঋণ তৈরি না করে স্মল এবং মিডিয়াম এবং মাইক্রো ইন্ডাস্ট্রিতে টাকাটা দিতাম এবং যেখানে খেলাপির হার ২ পারসেন্ট ৩ পারসেন্টের মতো। আপনি দেখেন এখন ব্র্যাক ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংকে খেলাপির হার কম। ব্র্যাক ব্যাংকের পোর্টফোলিও আপনি দেখেন দেখবেন ৪৫ পারসেন্ট যাচ্ছে স্মল এবং মিডিয়ামে। আর আপনি ইসলামী ব্যাংক বা যেগুলো খেলাপি হয়েছে সেগুলো দেখেন সেগুলো এস আলমের কাছে গেছে অমুকের কাছে গেছে। তার মানে হচ্ছে আমাদের সমাধানের উপায়টা হচ্ছে একটা শ্রেণি পক্ষপাতহীন অ্যাটলিস্ট যাতে স্মলকেও আমি যা দিব বিগকেও তাই দেব খালি দেখব যে প্রোডাক্টিভিটি হচ্ছে কি না এবং ইনভেস্টমেন্টের রিটার্নটা সে শোধ করছে কি না ইনভেস্টমেন্টটা। পাবলিক সেক্টরে তো আরেকটা বড় ব্যাপার আছে পাবলিক সেক্টরে আপনি একটা বিশাল শ্বেতহস্তী তৈরি করে ফেলেছেন। সেই শ্বেতহস্তী খাওয়াতে যে খরচ হচ্ছে সেই শ্বেতহস্তী আপনাকে সেই আয় দিচ্ছে না। আপনি এত বড় একটা ১৮ কোটি মানুষের দেশ সেখানে কয়জন ট্যাক্স দিচ্ছে? আর যার যার ট্যাক্স দেওয়ার কথা সেটা দিচ্ছে কি না। আপনি মূলত নির্ভর করছেন ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্সের ওপর যেটা আবার মুদ্রাস্ফীতিকে বাড়াচ্ছে। সুতরাং সব দিক দিয়ে আপনি মন্দা এবং মুদ্রাস্ফীতিকে এনকারেজ করছেন। আপনার বণ্টন আয় বণ্টন এবং সম্পদ বণ্টন এটাকে এনকারেজ করছে আপনার শাসন ব্যবস্থা এটাকে এনকারেজ করছে।

রাশেদ আহমেদ: একটি বিষয় বলছিলেন আপনি যে স্মল ইন্ডাস্ট্রিগুলো যারা মাইক্রো লেভেলের যেগুলো সেগুলোকে আপনার ঋণ সুবিধার আওতায় আনা বাড়িয়ে দেওয়া। কিন্তু বাড়িয়ে দিলে ঋণ সুবিধার আওতায় আনলে যেটি হয় সেটি তো আধুনিকায়ন হয় না। আধুনিকায়ন না হলে সেটা বাজার অর্থনীতিতে ওইভাবে প্রভাব ফেলতে পারে না। 

ড. এম এম আকাশ: আপনাকে দুই পায়ে চলতে হবে। এক পায়ে খালি আধুনিকায়ন করলেও হবে না আবার খালি স্মল ইন্ডাস্ট্রি করলেও হবে না। আপনাকে ইন্টারমিডিয়েট টেকনোলজি খুঁজে বের করতে হবে। আমি একটা ছোট্ট উদাহরণ দিই যে লোক রিকশা চালাত তার কত আয় হতো পা দিয়ে? আর যে লোক ব্যাটারিচালিত রিকশা চালাচ্ছে তার কত আয় হয়? দেখবেন এখানে আয়ের ছোট হলেও একটা উল্লম্ফন হয়েছে। আপনি ধরেন এই যে রূপপুর পারমাণবিক নিউক্লিয়ার এনার্জি ওখানে কিন্তু মানে গ্যাসে ইলেকট্রিসিটির যা কস্ট হয় তারপরের কস্ট এটা। কিন্তু ইমপোর্টেড গ্যাসের বদলে যদি আপনি ওটা করেন আবার সোলার করেন ইমিডিয়েটলি আপনার কস্ট বেড়ে যাবে কিন্তু লং টার্মে যেহেতু আপনার এগুলো রিনিউয়েবল হয়ে যাবে তখন আবার আপনার কস্ট কমে যাবে। সুতরাং আপনাকে লং টার্ম শর্ট টার্ম দুই রকম মেজার নিতে হবে। আপনাকে ডাইভার্সিফাই করতে হবে। একটা দেশের ওপর সমস্ত এক্সপোর্ট নির্ভর করলে ট্রাম্পের এক হুমকিতে আপনি নতিজানু হয়ে যাবেন। কিন্তু আপনার যদি অল্টারনেটিভ ব্রিকস কান্ট্রি যেগুলো যা করেছে ব্রিকস কান্ট্রির সঙ্গে যদি আপনি যোগাযোগ রাখেন তাহলে সেখান থেকে আপনি এক্সপোর্ট সেখানে করে ট্রাম্প বা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের হুমকি সত্ত্বেও সারভাইভ করতে পারবেন। আর এখন তো ট্রাম্প বলে দিয়েছে যে রুলস অফ অরিজিন অনুযায়ী আপনি সবচেয়ে কম দামে কাপড় কিনে গার্মেন্টস বানাতে পারবেন না। বা তুলা যদি কেনেনও তাহলে নিজের দেশের তুলা হলে হবে কিন্তু অন্য দেশ থেকে ভারত থেকে বা ওখান থেকে এইসব নানা ঝামেলার মধ্যে পড়ে আপনার এক্সপোর্টও কস্টলি হয়ে যাচ্ছে ট্যারিফ বসে যাচ্ছে শিল্পের উৎপাদনও কস্টলি হয়ে যাচ্ছে কারণ আপনি সবচেয়ে কম দামে জিনিসটা ইমপোর্ট করতে পারছেন না কেনার ব্যাপারে ফ্রি ট্রেড করতে তিনি দিচ্ছেন না। তো আপনি যখন ফ্রি ট্রেড করতে পারছেন না তখন আপনাকে স্ট্র্যাটেজিক ট্রেড করতে হবে। আপনাকে বলতে হবে যে আমার রিয়্যালাইনমেন্ট করব আমি ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ। 

রাশেদ আহমেদ: এটা কি চাইলেই করা সম্ভব হবে? কারণ নানা কারণে তো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আমরা ধরা মানে এই মুহূর্তে নানা বিষয়ে নানা দিক দিয়ে। আপনি যেটি সহজভাবে বললেন সেটা কি চাইলেই করা সম্ভব হবে এখন?

ড. এম এম আকাশ: এটা রাজনৈতিক শর্ত আছে। কিন্তু ভারত করতে পারছে, ভিয়েতনাম করতে পারছে, চায়না করতে পারছে, ইস্ট এশিয়া করতে পারছে। এখন আপনি কিভাবে করবেন সেটা আপনার ওপর আপনার পলিটিকসের ওপর। আপনি যদি এমন পলিটিক্যাল পার্টি হন যে আপনি প্রথমে ডোমেস্টিক সক্ষমতাগুলোকে বাড়ালেন। আপনি ইমপোর্ট সাবস্টিটিউট করলেন আপনাকে তো আর কিছু বলতে পারবে না। আপনি বললেন এই জিনিসটা আমি কিনব না বাইরে থেকে এটা আমি এখানে তৈরি করব। আপনাকে মূলত নির্ভর করতে হবে আপনার মানব সম্পদের ওপর। এবং মানব সম্পদকে ব্যবহার করে আপনাকে উপরে উঠতে হবে। কিন্তু মানব সম্পদকে তো আপনি ব্যবহার করতে পারছেন না কারণ আপনি হোল এডুকেশন সিস্টেম হচ্ছে অ্যান্টি এমপ্লয়মেন্ট। মানে এমন সব গ্রাজুয়েট আপনি তৈরি করছেন এমন সব টেকনোক্র্যাট আপনি তৈরি করছেন যাদের সার্ভিস কারও প্রয়োজন নাই বা যেই সার্ভিস প্রোডাক্টিভ না। কিন্তু আপনি যদি এমনভাবে আপনার কারিকুলাম তৈরি করতেন যেমন ধরেন ফিলিপাইন নার্সিং শিখিয়ে সেই নার্স দিয়ে তার হসপিটালগুলোকে সাজিয়ে ফেলেছে। বাড়তি নার্সকে মিডল ইস্টে পাঠিয়েছে। আপনি তো পাঠাচ্ছেন একদম ক্ষেত মজুরকে যার ইনকামও কম রেমিট্যান্সও কম এডুকেশনও কম। আপনার তো হোল হিউম্যান রিসোর্সটাকে আপনি মিস ইউটিলাইজ করছেন। আপনার ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড আছে আপনি বলেন আপনার এত তরুণ আছে ভারতের তরুণরা বড় বড় আইসিটি কোম্পানিতে আমেরিকায় গিয়ে কাজ করছে ওখান থেকে শিখছে আবার দেশে ফিরে আসছে। এই যে ইউনুস বলে যে আমরা কি আমরা চাকরি করব কেন আমরা চাকরি সৃষ্টি করব। এটা তো কথার কথা। চাকরি সৃষ্টি করবে তরুণরা তো তরুণরা ক্যাপিটাল পাবে কোথা থেকে? তরুণরা সেই স্কিল পাবে কোথা থেকে? তরুণরা সেই টেকনোলজি পাবে কোথা থেকে? সেগুলো তো তাদের জন্য অ্যারেনঞ্জ করতে হবে। স্কিল যদি অ্যারেনঞ্জ করতে হয় তাহলে এডুকেশন সিস্টেম চেঞ্জ করতে হবে। টেকনোলজি যদি আনতে হয় তাহলে দেশপ্রেমিক হতে হবে। যাও গিয়ে শিখে এসো আমাদের আমলারা যায় ভিজিট করতে টেকনোলজি শিখতে সেখানে কিছু বাজার টাজার করে আবার ফিরে আসে।              

রাশেদ আহমেদ: বৈষম্য দূর করার জন্য একটি আন্দোলন হলো ২০২৪-এ। একটি রেজিমের পরিবর্তন হলো। একটি প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু সেটির ১৮ মাস ১৯ মাসে আপনি কী দেখেছেন?

ড. এম এম আকাশ: না এখন তো একমাত্র হলো পপুলিস্ট প্রোগ্রাম। কতগুলো ফ্যামিলি কার্ড আমরা তৈরি করব। এমনিতেই তো আমাদের বিধবা ভাতা সহ ১৪৯ রকম সোশ্যাল সেফটি মেজারস আছে। এখন এখানে নতুন নতুন কার্ড তৈরি করা হচ্ছে। এত নতুন কার্ড তো তৈরি করার কোনো দরকারই নেই। আপনার ইন্ডিয়াতে একটা আধার কার্ডে যেই ইনফরমেশন থাকে আপনার এনআইডিতে সেই ইনফরমেশন থাকতে পারে। এবং সেখানে আপনি ইজিলি রেগুলারলি চেকআপ রাখতে পারেন স্থানীয় সরকারটা যদি আপনি ঠিকমতো করতে পারেন তাহলে স্থানীয় সরকার চেকআপ রাখবে এনআইডি। এবং এনআইডির মধ্যে ইনফরমেশন থাকবে কার ইনকাম কত। দারিদ্র সীমার ওপরে গেলে তাকে আর কোনো কার্ড টার্ড দেওয়া হবে না কিছু দেওয়া হবে না। দারিদ্র সীমার নিচে আসলে তার মোবাইলে অটোমেটিক্যালি ফান্ড চলে যাবে। এই সিস্টেমটা করার জন্যই তো এনআইডি করা হয়েছিল। কেউ কেউ তো মনে করে এগুলো হচ্ছে বিশাল একটা প্যাট্রন ক্লায়েন্ট রিলেশনশিপ তৈরি করবে প্রোডাক্টিভিটি তৈরি করবে না। সুতরাং আমাদের রিডিস্ট্রিবিউশন করতে হবে ট্যাক্স করে ওই ধনিদের কাছ থেকে টাকা আদায় করতে হবে এবং ইউনিভার্সাল মিনিমাম ইনকাম এনশিওর করতে হবে। শিল্পায়নের কথা বললেন কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে গত ১৫-২০ বছরে আমাদের উৎপাদনমুখী জমির পরিমাণ অনেক কমে গেছে এই শিল্পায়নের কথা বললেন সেখানে কিন্তু উৎপাদন বাড়ছে আমাদের ১৮ কোটি মানুষের খাদ্য চাহিদা মেটানো সেটিও কিন্তু একটা হুমকির মধ্যে পড়ছে সেটি কি লক্ষ্য করেছেন কি না? আমাদের কৃষককে স্যালুট করব যে কৃষক জমি কমে গেছে লোক বেড়ে গেছে তারপরেও আপনাকে দুর্ভিক্ষ উপহার দেয় নাই। সুতরাং সে কিন্তু তার কাজ করেছে। কিন্তু এখন যেটা হবে সেটা হলো ওখানে জমির বণ্টনটা এমন হয়ে গেছে যে অ্যাবসেন্ট ল্যান্ডলর্ড অনেক বেড়ে গেছে। আপনার যদি দুই ফসলি জমিকে তিন ফসলি করতে পারতেন এবং বর্গা চাষিরা এখন যেহেতু বর্গা চাষিরাই অধীর তাদেরকে এটা করতে হবে তাহলে তাদের সার লাগবে তাদের পানি লাগবে। সার এবং পানি এবং উন্নত বীজ লাগবে। এখন সার এবং পানি যদি আপনি দেন উন্নত বীজ দেন তাহলে তার কস্ট অফ প্রোডাকশন বেড়ে যাবে। কস্ট অফ প্রোডাকশন বেড়ে গেলে ধানের দাম বেড়ে যাবে। ধানের দাম বেড়ে গেলে চালের দাম বেড়ে যাবে। চালের দাম বেড়ে গেলে ওয়েজ বাড়াতে হবে নাইলে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিসকন্টেন্ট তৈরি হবে। এগুলো তো সব চেইন এফেক্ট। এখন শোনা যাচ্ছে এইবার যে ধানের দাম গভর্মেন্ট দিচ্ছে না ঠিকমতো আগেই প্রকিউরমেন্ট প্রাইস অ্যানাউন্স করছে না। সুতরাং তাতে যেটা হচ্ছে কি মধ্যস্বত্বভোগীরা ধান কিনে চাল বানিয়ে স্টোর করে রাখছে আর ধান ছাড়া যে অন্যান্য ফসল যেটা করে কৃষক একটু করে খায় শাক-সবজি ইত্যাদি সেটার চেইন অফ ডিস্ট্রিবিউশন এমন হয়েছে যে মাঝখানে কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ের নামে অথবা অন্যান্য নামে বিগ এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফার্মগুলো ঢুকে পড়ছে এবং অনেক লেয়ারে ফড়িয়া রিটেইল তৈরি করে শেষ পর্যন্ত কনজ্যুমারের কাছে অনেক দাম হয়ে যাচ্ছে আর কৃষকও কম দাম পাচ্ছে আর রেন্ট হিসেবে বাকিটা ভাগাভাগি হয়ে যাচ্ছে।

রাশেদ আহমেদ: ২০২৪-এ যে আন্দোলনটা হলো একটা বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন। সেই আন্দোলনে মানুষের অনেক প্রত্যাশা ছিল। ১৮ মাসে তো আমরা দেখেছি অনেক স্বপ্ন দেখানো হয়েছে কিন্তু স্বপ্নের বাস্তবায়ন হয় নাই। তারপর ইলেকশনের মাধ্যমে নতুন একটি গভর্নমেন্ট আসলো বিএনপি গভর্নমেন্ট। তাদের যে প্ল্যান পলিসি সেগুলো দেখে আপনার কী মনে হচ্ছে কোন দিকে?

ড. এম এম আকাশ: না আপনি বাংলাদেশ ব্যাংকের দিকে তাদের পলিসিটা দেখেন। আহসান মনসুরকে মব করে তাড়িয়ে দিল। নিয়ে আসলো কাকে? এমন একজনকে আনল যার কোনো ব্যাংকিং এক্সপেরিয়েন্স নাই যার বাড়ি আনোয়ার থানায় এবং যেটা এস আলমের পুত্রের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব আছে বলে শোনা যায়। আর এস আলমকে মালিকানা দেওয়ার জন্য এরা এসে আইন করল যে যেই টাকাটা ওরা ঢেলেছে ইসলামী ব্যাংকগুলোতে সেখান থেকে সেভেন পারসেন্ট পে করে পুরো মালিক হয়ে যাবে। তো আপনি তাহলে তো আবার আওয়ামী লীগের অবস্থাতেই ফেরত যাচ্ছেন। আর বাণিজ্য চুক্তি যেটা আমেরিকা করেছিল যেটা খারাপ করেছিল অন্তর্র্বতী সরকার সেই বাণিজ্য চুক্তি ওরা বাতিল করছে না বরং পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তাকেই নিয়োগ করেছে যিনি ছিলেন এই বাণিজ্য চুক্তির মূল হোতা। সুতরাং লোকগুলো তো আমি দেখে ভরসা পাচ্ছি না। এস আলমকে আবার মালিকানার সুযোগ করে দিচ্ছে।

রাশেদ আহমেদ: চুক্তির আসলে প্রভাবটা কী হতে পারে পড়তে পারে?

ড. এম এম আকাশ: ভয়াবহ প্রভাব। আমি আজকে শুনলাম যে বোয়িং বিমান কিনতে চাচ্ছে অনেক দাম দিয়ে। যেটা টাকা নাই ফরেন এক্সচেঞ্জ নাই। আগামীতে যদি চাল কিনতে হয় তাহলে সেই চাল কিনতে হবে আমেরিকা থেকে বেশি দাম দিয়ে। সুতরাং এই চুক্তি তো অবভিয়াসলি খুব খারাপ চুক্তি। আপনাকে বলে দিয়েছে যে কোথা থেকে কিনতে হবে কী কিনতে হবে আমার নির্দেশে কিনতে হবে। কিন্তু আমি কি আমেরিকাকে বলতে পারব যে তোমাকে আমার কাছ থেকে কিনতে হবে? তা তো আমি পারব না। আর বলে দিয়েছে যে তুমি যা বসাবে তার ওপরে আমি ট্যারিফ বসাব আমার ওপরে তুমি বাড়তি ট্যারিফ বসাতে পারবে না। বলে দিয়েছে যে আমার পণ্যের কোয়ালিটি আমি মাংস পাঠাব মাছ পাঠাব। আমি ঠিক করে দিয়েছি এটা জিএমও না। বা জিএমও হলেও আমি বলে দিয়েছি এটা ভালো। কিন্তু জেনেটিক্যালি মডিফাইড এসব জিনিস অনেক সস্তায় আমরা পাব কিন্তু এটা আমাদের ক্যান্সার এবং অন্যান্য অসুখ-বিসুখ ঘটাবে। তো আমরা কি চুক্তিতে এটা এই ধারা কী রেখেছি যে হ্যাঁ আপনার মতে এটা কোয়ালিটি স্ট্যান্ডার্ড আমার মতে যদি কোয়ালিটি স্ট্যান্ডার্ড না হয় তাহলে আমি এটা গ্রহণও করব না। সেটা তো নাই এখানে হলো যে আপনি কিচ্ছু বলতে পারবেন না আপনার বিএসটিআই এখানে কোনো রায় দিতে পারবে না আমেরিকার রায়টাই আপনার মানতে হবে। কিন্তু আপনি যখন পণ্য পাঠাবেন তখন ওর রায়টা আপনাকে মানতে হবে।

রাশেদ আহমেদ: এইটা থেকে এখন বাঁচার উপায় কী? সরে আসার উপায় কী আছে কি না?

ড. এম এম আকাশ: সরে আসার উপায় আছে পার্লামেন্টে এটাকে আলোচনার বিষয়বস্তু হিসেবে রুমিন ফারহানা যেটা দাবি করেছে সেটা করলে পরে তখন আলাপ আলোচনা করে একটা তো সুবিধা আছে যে বিএনপি টু থার্ড মেজরিটি নিয়ে আছে। সুতরাং বিএনপি চাইলে পার্লামেন্টে গিয়ে যেকোনো কিছু করতে পারে। আইন বদলাতে পারে চুক্তি বাতিল করে দিতে পারে সেটা তো পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব। কিন্তু বিএনপি সেটা কি চাইবে?

রাশেদ আহমেদ: একটা বড় রাষ্ট্রের সাথে কি এভাবে করা যাবে পারবে কি না?

ড. এম এম আকাশ: এখানে তো রিঅ্যালাইনমেন্টটা হলো পূর্বশর্ত। আপনাকে ঠিক করতে হবে যে আমি জিওপলিটিক্সে কাদের সঙ্গে থাকব। আমি কি ব্রিকসের সঙ্গে থাকব না আমেরিকার সঙ্গে থাকব। আপনি বড়র সঙ্গে ইরান বড়র সঙ্গে ফাইট করে থাকছে না আত্মসমর্পণ তো করছে না ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে কিন্তু আত্মসমর্পণ করছে না। সুতরাং আপনি ফাইট করে থাকতে পারবেন এবং ইরানের চেয়ে আপনার বেটার অবস্থা হবে কারণ আপনার পাশেই ভারত আছে ভারত চীন আর রাশিয়া যদি আপনার পক্ষে থাকে এবং এশিয়া ফর এশিয়া এই নীতিতে যদি আপনি আসেন তাহলে আপনি নিশ্চিতভাবে আমেরিকা ইউরোপ ছাড়াই চলতে পারবেন।

রাশেদ আহমেদ: আপনার কী মনে হয় ইউনুস সরকার এই চুক্তিটা কেন করল?

ড. এম এম আকাশ: এই চুক্তিটা করার জন্যই তো সে এসেছে। এটা তো মেটিকুলাস ডিজাইনের একটা পার্ট। সেই মেটিকুলাস ডিজাইন একদিন উদ্ধার হবে একদিন জানা যাবে যে কোথায় মাহফুজ গিয়ে কী মেটিকুলাস ডিজাইন করেছিল। কোন কোন সময়ে আমেরিকান রাষ্ট্রদূত কার কার সঙ্গে জুলাই অভ্যুত্থানের আগে মিটিং করেছিল। এনইডি কী পরিমাণ টাকা কালার রেভলুশনের জন্য কখন কোথায় ব্যয় করেছিল। বাংলাদেশে কিরকম ব্যয় করেছিল কারা কারা এই টাকা পেয়েছিল এগুলো সবই তো জানা যাবে। এখন যে রাষ্ট্র চলছে যেটি বলছিলাম একটা বড় তেলের ক্রাইসিস সেটা ম্যানেজ করা যায় নাই। ভবিষ্যতে কী হবে সেটি এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না মুদ্রাস্ফীতি যেটি বললাম সেটি বেড়ে যাচ্ছে। কর্মহীন হয়েছে একটা বড় জনগোষ্ঠী অনেকগুলো ইন্ডাস্ট্রি পুড়ে গেছে কিছু বন্ধ হয়ে গেছে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিও ৪০০-এর ওপরে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়েছে এটা আমাদের গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির মালিকরাও বলছেন। আসলে কোন দিকে যাচ্ছে পরিস্থিতিটা? আওয়ামী লীগের আমলে লুটেরা বুর্জোয়াদের অধীনে এবং তার সঙ্গে বাড়তি ফ্যাসিবাদ ছিল ফ্যাসিবাদী প্রবণতা ছিল। এখানে হয়তো ফ্যাসিবাদী প্রবণতাটা একটু কমেছে। একটা ভোট হয়েছে একটু কিন্তু ঘাড়ের ওপরে নিশ্বাস ফেলছে জামায়াতে ইসলাম যারা দেশটাকে ধর্মীয় রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। এবং ধর্মীয় রাষ্ট্রের তো সবচেয়ে বড় অসুবিধা হলো সে ধর্মভিত্তিক আইন করবে এবং ধর্মভিত্তিক আইন করলে অন্য ধর্মাবলম্বী যারা তারা দ্বিতীয় শ্রেণির সিটিজেন হয়ে যাবে এবং ওই ধর্মকে শ্রেষ্ঠ বলার কারণে সেখানে একটা ফ্যাসিবাদী প্রবণতা চলে আসবে। আমি খুব বেশি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পরিবর্তন হবে আমি মনে করি না। প্রথমত তারেক রহমান সম্পর্কেও তো প্রশ্ন থাকতে পারে তাই না? যেমন হাওয়া ভবন সম্পর্কে প্রশ্ন ছিল। তো ধরে নিলাম যে এতকাল বিদেশে ছিল সংশোধিত হয়েছে তার মেয়ের কথাবার্তা দেখে বুঝলাম যে তারা একটু আধুনিক হয়েছে। কিন্তু সেই রিফ্লেক্টেড তো ব্যক্তির ওপর তো দলের চরিত্র নির্ভর করে না। শেখ মুজিব তো ব্যক্তিগতভাবে অনেক ভালো ছিল। কিন্তু সব সময় কি তার দলের মধ্যে নব্য ধনিক শ্রেণির উদ্ভব কী উনি ঠেকাতে পেরেছেন? মোশতাককে কি উনি সরাতে পেরেছেন? তাজউদ্দীনের সঙ্গে মোশতাকের মধ্যে দ্বন্দ্ব হলে উনি কি তাজউদ্দীনের দিকে যেতে পেরেছেন? উনিই যেতে পারেননি। তো এখানে আপনি সালাহউদ্দিনকে রাখবেন যিনি দীর্ঘকাল ভারতে আশ্রয়ে ছিলেন এবং এসেছেন এখানে আপনি মির্জা ফখরুলকে লাইমলাইটে নিয়ে যাবেন এখানে আপনি নিজে চুপচাপ থাকবেন খালি টেবিল চাপড়ে সমর্থন দিবেন বেশি কথা বলবেন না আর কথা বললেও এমন কথা বলবেন যেটা নিয়ে হাস্যরসের উদ্রেক হয়। তাহলে আপনি কিভাবে মানে দেশটাকে ঠিক করবেন? তারেক রহমান আসার আগে মানে একটি প্ল্যানের কথা বলছিলেন ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ যেটি তার বিখ্যাত একটি বক্তৃতায় ওই প্ল্যান কী আপনি আভাস পেয়েছেন যে প্ল্যানটা কী আসলে কী করতে চায়? প্ল্যান তো উনি ছাপিয়েছেন নির্বাচনী ইশতেহারে ৩১ দফা ছাপানো আছে। কিন্তু আমাদের দেশে তো বাক্য এবং কর্মের মধ্যে বিরাট তফাৎ থাকে। বাক্যে যা আছে কর্মে তা নাই। ৩১ দফা যেটি তারা দিয়েছে নির্বাচনী ইশতেহারে মানে সেটি তো পড়েছেন আপনি মানে সেটির মধ্যে কী কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি প্রতিশ্রুতি কী আছে? সেটি দেখতে পেয়েছেন? সামগ্রিক কোহ্যারেন্ট এবং যেটা বাস্তবায়নযোগ্য ওরকম নাই। একটা খালি সুবিধা হয়েছে যে জামায়াতের রাইসটা একটু আটকাতে পেরেছে আর বাকি সব জায়গায় যেসব করেছে তাতে আওয়ামী লীগ যেই দক্ষিণপন্থী পলিসি নিয়ে চলতো তার বাইরে এরা চলবে বলে মনে হয় না। মানে কেন চলবে না চলতে পারবে না কি কোনো কমিটমেন্টের জায়গায় আছে কোথাও শর্ত টর্ত আছে কী মনে হয়? আপনি দেখবেন যে তাদের যে নির্বাচনী এলাকাগুলোতে যে নির্বাচন হয়েছে আপনি খালি সেখানে গিয়ে তাদের অর্থায়নটা কোথা থেকে হয়েছে সেই হিস্ট্রিটা বের করেন। তাহলেই আপনি বুঝতে পারবেন আপনি দেখবেন সালাহউদ্দিন উনি তো এখন অন্যতম একজন নেতা তাদের। তো উনি যখন ঢুকলেন বাংলাদেশে কক্সবাজারে গেলেন তখন যে গাড়িতে গেলেন সেই গাড়িটা ছিল এস আলমের গাড়ি। তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হলো উনি বললেন আমি জানতাম না। সেটা কি সম্ভব? সুতরাং আপনি অনেক ইনকনসিস্টেন্সি পাবেন। আবার আপনি অনেক পপুলিস্ট পদক্ষেপ পাবেন যেমন আমাদের দেশের মানুষ যেগুলোতে খুব সহজে উৎফুল্ল হয় যে হ্যাঁ তারেক রহমান তার মেয়েকে নিয়ে সিনেমা দেখতে গিয়েছে একটা সাধারণ হোটেলে খেতে গিয়েছে। তারেক রহমান গণভবনে না থেকে গুলশানে থাকছে। কিন্তু তারেক রহমান কী খোঁজ খোঁজ নিয়েছে যে হাসিনা যেখানে থাকতো সেখানে আগের যে শিল্পকলা দপ্তরের যে অথরিটি ছিল বা শিল্প সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের যিনি কী ফারুকী সাহেব তিনি কাকে টাকা দিয়েছেন কী টাকা দিয়েছেন কিভাবে এটা হয়েছে? আওয়ামী লীগকে সম্প্রতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে যে তার আইন পাস হয়েছে সংসদে। এটাও তো একটা প্রশ্ন আওয়ামী লীগ একটা দল। আওয়ামী লীগের মধ্যে যারা অপরাধ করেছে তাদেরকে নিষিদ্ধ করতে হবে বা তাদের বিচার করতে হবে। তাদের ইলেকশনের অধিকার কেড়ে নিতে হবে। কিন্তু যেই লোকটা আওয়ামী লীগ সাপোর্ট করে কিন্তু কোনো অপরাধে জড়িত ছিল না এমনকি হয়তো জুলাই মুভমেন্টের সাপোর্টারও ছিল। সেই সব লোককেও তো জেলখানায় ধরে রেখে দিয়েছে। আওয়ামী লীগ পন্থীর দুর্নীতি প্রমাণিত হলে তার শাস্তি হবে আর বিএনপি পন্থী বা জামায়াত পন্থী বা ইউনুস পন্থী কারও দুর্নীতি প্রমাণিত হলে তার শাস্তি হবে না এইভাবে করলে তো সুশাসন আসবে না। ড. ইউনুস যদি এখন গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করে ঢাকা ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলরকে নিয়ে সেখানে সেই বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করতে দায়িত্ব দেন তাহলে তো একটু খোঁজ নেওয়া দরকার না যে এই বিশ্ববিদ্যালয়টা হঠাৎ করে উনি পেলেন কেন তার সময়। ড. ইউনুস যে কোটি কোটি টাকা ট্যাক্স মাফ করিয়ে নিলেন সেটা কেন কিভাবে করলেন এটা দেখা দরকার না?

রাশেদ আহমেদ: এম এম আকাশ আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমাদের সময় দেওয়ার জন্য।

ড. এম এম আকাশ: ধন্যবাদ আপনাকেও ।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২৭ মে ২০২৬


দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার গতি বিধি ভালো মনে হচ্ছেনা - ড. এম এম আকাশ

প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬

featured Image

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম এম আকাশ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক। দীর্ঘ দিন ধরে তিনি গ্রামীণ অর্থনীতি, মানুষের বৈষম্য দূরীকরণ এবং বাংলাদেশের বাস্তবতা নিয়ে কাজ করছেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা কী এবং বৈদেশিক যে ঋণের বোঝা সেটি কোন পর্যায়ে নিয়ে যাবে এবং উত্তরণের উপায় কী? এসব বিষয় নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন সংবাদের ডিজিটাল বিভাগের বার্তা প্রধান রাশেদ আহমেদ। 

রাশেদ আহমেদ: বাংলাদেশে এখন মূল্যস্ফীতি অনেক বেশি। গত তিন বছর থেকে ৮, ৯, ১০ এই পর্যায়ে মূল্যস্ফীতি রয়েছে। সেটি সাধারণ মানুষের মধ্যে কিন্তু একটি বড় চাপ তৈরি করে। জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায়, সেটি মানুষের গায়ে লাগে। এই যে পরিস্থিতি, এই পরিস্থিতিতে সরকার থেকে কোনো উদ্যোগই নেওয়া হচ্ছে না। আসলে কী করা যায় এই মুহূর্তে?

ড. এম এম আকাশ: প্রথমত আমাদের দেখতে হবে যে মূল্যস্ফীতি ট্রিগারড হচ্ছে কোনখান থেকে বা তার ড্রাইভিং ফোর্সটা কী। তারপর সেগুলো কমানোর চেষ্টা করতে হবে। আমাদের অর্থনীতিতে দুটো লক্ষণ একই সঙ্গে দেখা যাচ্ছে। একটা হচ্ছে জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে, আরেকটা হচ্ছে জিনিসপত্র অনেক সময় অবিক্রীত থাকছে পার্চেজিং পাওয়ারের অভাবে। এবং বিনিয়োগ হচ্ছে না, এমপ্লয়মেন্ট তৈরি হচ্ছে না। মানুষের ইনকাম তুলনামূলকভাবে স্থির থাকছে অথবা কমে যাচ্ছে, বেকারত্ব বাড়ছে। তার ফলে আমাদের সিচুয়েশনটাকে বুঝতে হবে মন্দাস্ফীতি হিসেবে। ইনফ্লেশন বললেও পুরোটা বোঝা যাবে না, স্ট্যাগনেশন বললেও পুরোটা বোঝা যাবে না। ইংরেজিতে এরকম পরিস্থিতিতে এই দুটো জিনিসের সংমিশ্রণ অর্থনীতি শাস্ত্রে অনুমোদিত না। অর্থনীতি শাস্ত্র বলে যে মুদ্রাস্ফীতি কমে যাবে। কারণ টাকা ছুটছে জিনিসের দিকে, সেই জন্য জিনিসের দাম বাড়ছে। তো টাকা একটু ব্যাংক যদি কমিয়ে দিতে পারে তাহলে মুদ্রাস্ফীতি কমে যাবে। কিন্তু মুশকিল হলো যখন আপনি টাকা কমাবেন তখন ধার কমাবেন, সুদের হার বাড়াবেন তার ফলে বিনিয়োগ আবার কমে যাবে। বিনিয়োগ যদি কমে যায় তাহলে আবার উৎপাদন কমে যাবে। তাহলে উৎপাদন কমে গেলে টাকা কমলেও মুদ্রাস্ফীতি থেকেই যাবে। এই জন্য মন্দাস্ফীতি বলাটাই সিচুয়েশনটাকে সঠিক। একই সঙ্গে এমন পদ্ধতিতে আমাদের কাজ করতে হবে যাতে মন্দা ভেঙে আমরা প্রবৃদ্ধি, উৎপাদন, বিনিয়োগ এগুলো বাড়াতে পারি আবার মুদ্রাস্ফীতিও কমাতে পারি। কিন্তু অর্থনীতি বলে যে যদি ওটা করতে যায় তাহলে কিছুটা মুদ্রাস্ফীতি থাকবেই। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে সেই অল্প কিছু মুদ্রাস্ফীতি যেটা টনিকের মতো কাজ করবে উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সেটা কিন্তু হচ্ছে না। কেন হচ্ছে না সেটা ভালো করে বোঝা দরকার। যে আমাদের এখানে মুদ্রাস্ফীতিটা ডিমান্ডের কারণে হচ্ছে না। অনেক মানুষ ডিমান্ড করেছে, জিনিস কম সেই জন্য বেড়ে যাচ্ছে তা না। এখানে মুদ্রাস্ফীতিটা হচ্ছে কস্ট এর কারণে। কস্ট অফ প্রোডাকশন বেড়ে যাচ্ছে, সেই জন্য এটাকে আমরা অনেক সময় বলি কস্ট পুশ ইনফ্লেশন বা অনেক সময় বলি সাপ্লাই সাইড ইনফ্লেশন। এটা কিরকম ভাবে হয়? যেমন ধরেন আপনি ডলারের দাম যদি বাড়িয়ে দেন, এক ডলার ৮০ টাকা ছিল এখন হয়তো ১২২ টাকা হয়ে গেছে। তার মানে ডলারের দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে। সুতরাং এক ডলার দিয়ে আপনি যে জিনিসটা আমদানি করতেন সেটার দাম ৮০ টাকা ছিল সেটা হয়ে যাবে একশো... দ্বিগুণ যদি হয় আট দুগুনে ১৬, ১৬০ টাকা। সুতরাং এটা আপনার হাতে নাই। আপনি ওই দামে যদি আমদানি করেন তাহলে আপনি তো ওর চেয়ে কম দামে বিক্রি করতে পারবেন না। সুতরাং ডলারটা দীর্ঘকাল ধরে আন্ডারপ্রাইস রাখতেন তারপর সাডেনলি একটা শক দিয়ে ডলারের প্রাইসটা যদি বাড়িয়ে দেন বা আইএমএফের নির্দেশে যদি বাড়িয়ে দেন তাহলে আপনার সমস্ত আমদানিকৃত জিনিসের দাম দ্বিগুণ হয়ে যাবে। এখন আমাদের ইকোনমি আগে ছিল ক্লোজড ইকোনমি এখন এটা ওপেন ইকোনমি। মোর দ্যান ফিফটি পারসেন্ট অফ দ্য ট্রানজ্যাকশন এক্সপোর্ট প্লাস ইমপোর্টকে যদি আপনি জিডিপি দিয়ে ভাগ করেন তাহলে জিডিপির ৫০ শতাংশের বেশি এখন এক্সপোর্ট ইমপোর্টের মাধ্যমে হচ্ছে। সুতরাং ডলারের দামটা খুব ক্রিটিক্যাল হয়ে গেছে। এবং ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় আপনার আমদানিকৃত কাঁচামালের দাম বেড়ে গেছে, আপনার ট্রান্সপোর্ট কস্ট বেড়ে গেছে, আপনার ইন্টারমিডিয়েট প্রোডাক্টসের দাম বেড়ে গেছে, আপনার জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে। এখন এগুলোর সবটার একটা কম্বাইন্ড এফেক্টে জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। এখন এটাকে ফাইট করতে গেলে পরে আপনাকে টাকা কমালে তো হবে না। ডিমান্ড না থাকলেও ওর চেয়ে কম দামে ও বিক্রি করবে না কারণ ওই দামেই সে কিনেছে। সুতরাং মনিটরি পলিসি দিয়ে এটাকে সামলানো যাবে না। এটাকে সামলাতে হবে আমাদের উৎপাদন বৃদ্ধি করে, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করে এবং ডলারের এগেইনস্টে আমাদের এক্সচেঞ্জ রেটটাকে ইমপ্রুভ করে অথবা স্থির রেখে দিয়ে।

রাশেদ আহমেদ: আপনি যেটি বলছিলেন উৎপাদন বৃদ্ধির কথা, সেই উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হলে দেশে বিনিয়োগ দরকার। কিন্তু গত দুই বছরে বাংলাদেশের বিনিয়োগ এশিয়া মহাদেশের মধ্যে তলানিতে রয়েছে। আমাদের যে মুদ্রাস্ফীতি বলেন যেটি গ্রোথ রেট সেই তুলনায় বিনিয়োগ একেবারে নেই বললেই চলে। একটি গবেষণায় সম্প্রতি ধরা পড়েছে। 

ড. এম এম আকাশ: আমি তো সেটাই বললাম না যে বিনিয়োগ হলে প্রবৃদ্ধি হতো তাহলে মন্দা থাকতো না। কিন্তু বিনিয়োগ নাই বলে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে না, কর্মসংস্থানও হচ্ছে না, মানুষের পকেটে আয়ও আসছে না। তার মানে একদিকে আপনি পার্চেজিং পাওয়ারের অভাবে জিনিস কিনতে পারছেন না আরেকদিকে জিনিসের দাম বেড়ে যাচ্ছে। তার ফলে আপনি ভয়ঙ্কর কঠিন অবস্থায় আছেন। এখন আপনার নেক্সট কোশ্চেন হলো বিনিয়োগ কেমনে বাড়বে? বা বিনিয়োগ বাড়ছে না কেন? বিনিয়োগ বাড়ছে না কারণ আমরা কতগুলো বড় বড় হাউসের ওপরে নির্ভরশীল। যেই বড় বড় হাউসের কাছে যারা অতি ধনী তাদের কাছে বিনিয়োগযোগ্য সঞ্চয় আছে। তারা সেই সঞ্চয় দিয়ে যদি শিল্পায়ন করে তাহলে শিল্প উৎপাদন বাড়ে। কিন্তু তারা সেই সঞ্চয়কে দুই ভাগ করে ফেলেছে। এক ভাগ তারা বিদেশে রেখেছে সিকিউরিটির জন্য যে এখান থেকে যদি পালাতে হয় তাহলে দুবাইতে চলে যাব, কানাডায় চলে যাব, আমেরিকায় চলে যাব ইত্যাদি ইত্যাদি সেকেন্ড হোম যেটাকে আমরা বলি। এখন এইটা নিয়ে তো আপনি টাকা কিছু বের করলেন এক্সপোর্ট কিছু করলেন কিন্তু এক্সপোর্টের টাকাটা আর এখানে আসবে না। ওটাকে সে মানে দেখাবে আন্ডারপ্রাইসিং এক্সপোর্টের ক্ষেত্রে। আন্ডারপ্রাইসিং দেখালে পরে অল্প ডলার আসবে আর বাকি ডলারটা ও ওখানে ব্যাংকে ওই যার কাছে সে এক্সপোর্ট করল তাকে বলবে আমার অ্যাকাউন্টে রেখে দাও। ইমপোর্ট করার সময় সে ওভারপ্রাইসিং করবে। সুতরাং আপনি বেশি ডলার বাইরে দিয়ে দিবেন ইমপোর্ট করার জন্য ওখান থেকে একটা অংশ যে ইমপোর্ট করল সে আপনার ওখানকার ফরেন ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে রেখে দেবে। এবং এরকম হাজার হাজার কোটি টাকা তো এই আন্ডারইনভয়েসিং ওভারইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে দেশ থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। সেই টাকাটা যদি দেশে আসতো থাকতো যেমন রেমিট্যান্সের টাকাটা যখন দেশে আসে তখন আপনি একটু বেঁচে যান তাতে ওই ডলারগুলো আসলে আপনি ডলারের ডিপ্রেশিয়েশন মানে আপনার মূল্যের টাকার মান যে কমে যাচ্ছে এটাকে আটকাতে পারেন। আপনি এই লুটেরাদের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার কারণে আপনার ডলার আপনার কাছে থাকছে না। আপনার উৎপাদন ডলারে রূপান্তরিত হয়ে বাইরে চলে যাচ্ছে। আর আপনি উৎপাদন যেটা বাইরে থেকে আনছেন সেটা বেশি ডলার দিয়ে কিনছেন। সুতরাং আপনার রিজার্ভ কমে যাচ্ছে। আপনি রিজার্ভ যদি কমে যায় তাহলে আপনি তো ভীষণ সংকটে পড়ে এক সময় শ্রীলঙ্কার মতো দেউলিয়া হয়ে যাবেন। যেখানে মুদ্রাস্ফীতি ২০০ পারসেন্টে চলে গিয়েছিল এরকম। কিন্তু আপনি সেই দেউলিয়ার দিকে আগাবেন কি না সেটা আবার নির্ভর করবে ফরেন এইডের ওপর। আপনি যদি ফরেন এইড দেয় তাহলে টেম্পোরারি আপনি বাঁচবেন কিন্তু ফরেন এইডের জন্য আবার আপনাকে সুদ পে করতে হবে এবং সুদের বোঝা যখন বেড়ে যাবে তখন সুদের মাধ্যমে ডলার আবার বাইরে যাবে ওভারইনভয়েসিং আন্ডারইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে ডলার বাইরে যাবে আর আপনার এক্সপোর্ট যদি কমে যায় এখন তো ট্যারিফ যুদ্ধ হচ্ছে ট্রাম্প আপনার এক্সপোর্ট কমিয়ে দিচ্ছে এক্সপোর্ট করলেও সেটার একটা বড় অংশ ট্যারিফ হিসেবে রেখে দিচ্ছে ওখানে। বা যাই হোক মানে আপনি এক্সপোর্টের ফ্রন্টে খুব সুবিধা করতে পারছেন না। তাহলে আপনার একমাত্র ভরসা হলো শ্রম রপ্তানি। শ্রম রপ্তানি করে আপনি কিছু রেমিট্যান্স আনতে পারেন এখন যুদ্ধ লেগে গেছে সুতরাং সেটাও আপনি আনতে পারবেন না। তাহলে একটা ভয়ঙ্কর ক্রাইসিসের দিকে আমাদের দেশ যাচ্ছে। একমাত্র মানে চিন্তা হলো যে রেশনিং করে চাপ দিয়ে বাড়তি কর আদায় করে ফ্লাইট অফ ক্যাপিটাল যেসব বিগ হাউসগুলো করে তাদের ওপর নজরদারি বাড়িয়ে খেলাপি ঋণ নিয়ে বাইরে পাঠিয়ে দিচ্ছে সেগুলো ডিসিপ্লিন করে মানে সুশাসনটা আবার জরুরি হয়ে পড়ছে।

রাশেদ আহমেদ: না একটি বলছিলেন আপনি যে নির্ভরশীলতা বিগ হাউসগুলোর ওপরে নির্ভরশীলতা গভর্মেন্টের। এটি ছাড়া কি এই সময়ে উপায় আছে?ড. এম এম আকাশ: হ্যাঁ উপায় আছে। আপনাকে এসএমই’র দিকে নজর দিতে হবে স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজ যেগুলো গ্রামে থাকে ছোট ছোট কারখানা স্মল গ্রামে আছে এমপ্লয়মেন্ট হচ্ছে হতে পারে যে চীনে যেটা হচ্ছিল। চীন যেটা করেছে বা আপনার সাউথ কোরিয়াও যেটা করেছে বা যেকোনো ইস্ট এশিয়ান কান্ট্রি যারা শিল্পায়িত হয়েছে তারা প্রথম যুগে যেটা করেছে তারা মনোপলি তৈরি করে মনোপলির কাছে একটা করেছে যে মনোপলি তৈরি হয়েছে কিন্তু মনোপলিকে শাসনে রেখেছে। টাকা বাইরে পাচার করতে দেয়নি তারা জাতীয়তাবাদী ধনীক শ্রেণি হিসেবে তাদের উৎপাদন এবং আয় দেশের মধ্যেই ঘুরপাক খেয়েছে। এইটা একটা করেছে। আরেকটা করেছে চীনের মতো দেশগুলো এটা সবচেয়ে সাকসেসফুলি করেছে যে ওরা দুটো খাতকে একই সঙ্গে হেল্প করেছে। গ্রামীণ শিল্পায়ন এবং সাংহাইয়ের শিল্পায়ন দুটোকে একসঙ্গে করাতে তাদের এমপ্লয়মেন্ট প্রবলেম হয়নি পোভার্টির প্রবলেম হয়নি ইনইকুয়ালিটিটা কমে গেছে। আর যেহেতু চীনের প্রবলেম আরও চীন এবং ভিয়েতনাম আরও সুবিধা কারণ ওগুলো তো রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে। ধরেন জমিটা পুরোটাই রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে। সুতরাং জমি আদান-প্রদান করে যে রেন্ট ইনকাম সহজ ইনকাম ভাড়া দিয়ে বাড়িতে ভাড়া দিয়ে সেই টাকা দিয়ে ইনকাম এগুলো তো মানে আমরা দূর করতে পারব না যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা মালিকানা কাঠামোটা কিছুটা ওয়েলথের ডিস্ট্রিবিউশনটাকেও নিচে নামাতে না পারছি। আমরা যদি টাকার ফ্লো ব্যাংক থেকে টাকার ফ্লো বড় শিল্পপতিদের দিয়ে তাদের ওখানে ৪০ পারসেন্ট খেলাপি ঋণ তৈরি না করে স্মল এবং মিডিয়াম এবং মাইক্রো ইন্ডাস্ট্রিতে টাকাটা দিতাম এবং যেখানে খেলাপির হার ২ পারসেন্ট ৩ পারসেন্টের মতো। আপনি দেখেন এখন ব্র্যাক ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংকে খেলাপির হার কম। ব্র্যাক ব্যাংকের পোর্টফোলিও আপনি দেখেন দেখবেন ৪৫ পারসেন্ট যাচ্ছে স্মল এবং মিডিয়ামে। আর আপনি ইসলামী ব্যাংক বা যেগুলো খেলাপি হয়েছে সেগুলো দেখেন সেগুলো এস আলমের কাছে গেছে অমুকের কাছে গেছে। তার মানে হচ্ছে আমাদের সমাধানের উপায়টা হচ্ছে একটা শ্রেণি পক্ষপাতহীন অ্যাটলিস্ট যাতে স্মলকেও আমি যা দিব বিগকেও তাই দেব খালি দেখব যে প্রোডাক্টিভিটি হচ্ছে কি না এবং ইনভেস্টমেন্টের রিটার্নটা সে শোধ করছে কি না ইনভেস্টমেন্টটা। পাবলিক সেক্টরে তো আরেকটা বড় ব্যাপার আছে পাবলিক সেক্টরে আপনি একটা বিশাল শ্বেতহস্তী তৈরি করে ফেলেছেন। সেই শ্বেতহস্তী খাওয়াতে যে খরচ হচ্ছে সেই শ্বেতহস্তী আপনাকে সেই আয় দিচ্ছে না। আপনি এত বড় একটা ১৮ কোটি মানুষের দেশ সেখানে কয়জন ট্যাক্স দিচ্ছে? আর যার যার ট্যাক্স দেওয়ার কথা সেটা দিচ্ছে কি না। আপনি মূলত নির্ভর করছেন ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্সের ওপর যেটা আবার মুদ্রাস্ফীতিকে বাড়াচ্ছে। সুতরাং সব দিক দিয়ে আপনি মন্দা এবং মুদ্রাস্ফীতিকে এনকারেজ করছেন। আপনার বণ্টন আয় বণ্টন এবং সম্পদ বণ্টন এটাকে এনকারেজ করছে আপনার শাসন ব্যবস্থা এটাকে এনকারেজ করছে।

রাশেদ আহমেদ: একটি বিষয় বলছিলেন আপনি যে স্মল ইন্ডাস্ট্রিগুলো যারা মাইক্রো লেভেলের যেগুলো সেগুলোকে আপনার ঋণ সুবিধার আওতায় আনা বাড়িয়ে দেওয়া। কিন্তু বাড়িয়ে দিলে ঋণ সুবিধার আওতায় আনলে যেটি হয় সেটি তো আধুনিকায়ন হয় না। আধুনিকায়ন না হলে সেটা বাজার অর্থনীতিতে ওইভাবে প্রভাব ফেলতে পারে না। 

ড. এম এম আকাশ: আপনাকে দুই পায়ে চলতে হবে। এক পায়ে খালি আধুনিকায়ন করলেও হবে না আবার খালি স্মল ইন্ডাস্ট্রি করলেও হবে না। আপনাকে ইন্টারমিডিয়েট টেকনোলজি খুঁজে বের করতে হবে। আমি একটা ছোট্ট উদাহরণ দিই যে লোক রিকশা চালাত তার কত আয় হতো পা দিয়ে? আর যে লোক ব্যাটারিচালিত রিকশা চালাচ্ছে তার কত আয় হয়? দেখবেন এখানে আয়ের ছোট হলেও একটা উল্লম্ফন হয়েছে। আপনি ধরেন এই যে রূপপুর পারমাণবিক নিউক্লিয়ার এনার্জি ওখানে কিন্তু মানে গ্যাসে ইলেকট্রিসিটির যা কস্ট হয় তারপরের কস্ট এটা। কিন্তু ইমপোর্টেড গ্যাসের বদলে যদি আপনি ওটা করেন আবার সোলার করেন ইমিডিয়েটলি আপনার কস্ট বেড়ে যাবে কিন্তু লং টার্মে যেহেতু আপনার এগুলো রিনিউয়েবল হয়ে যাবে তখন আবার আপনার কস্ট কমে যাবে। সুতরাং আপনাকে লং টার্ম শর্ট টার্ম দুই রকম মেজার নিতে হবে। আপনাকে ডাইভার্সিফাই করতে হবে। একটা দেশের ওপর সমস্ত এক্সপোর্ট নির্ভর করলে ট্রাম্পের এক হুমকিতে আপনি নতিজানু হয়ে যাবেন। কিন্তু আপনার যদি অল্টারনেটিভ ব্রিকস কান্ট্রি যেগুলো যা করেছে ব্রিকস কান্ট্রির সঙ্গে যদি আপনি যোগাযোগ রাখেন তাহলে সেখান থেকে আপনি এক্সপোর্ট সেখানে করে ট্রাম্প বা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের হুমকি সত্ত্বেও সারভাইভ করতে পারবেন। আর এখন তো ট্রাম্প বলে দিয়েছে যে রুলস অফ অরিজিন অনুযায়ী আপনি সবচেয়ে কম দামে কাপড় কিনে গার্মেন্টস বানাতে পারবেন না। বা তুলা যদি কেনেনও তাহলে নিজের দেশের তুলা হলে হবে কিন্তু অন্য দেশ থেকে ভারত থেকে বা ওখান থেকে এইসব নানা ঝামেলার মধ্যে পড়ে আপনার এক্সপোর্টও কস্টলি হয়ে যাচ্ছে ট্যারিফ বসে যাচ্ছে শিল্পের উৎপাদনও কস্টলি হয়ে যাচ্ছে কারণ আপনি সবচেয়ে কম দামে জিনিসটা ইমপোর্ট করতে পারছেন না কেনার ব্যাপারে ফ্রি ট্রেড করতে তিনি দিচ্ছেন না। তো আপনি যখন ফ্রি ট্রেড করতে পারছেন না তখন আপনাকে স্ট্র্যাটেজিক ট্রেড করতে হবে। আপনাকে বলতে হবে যে আমার রিয়্যালাইনমেন্ট করব আমি ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ। 

রাশেদ আহমেদ: এটা কি চাইলেই করা সম্ভব হবে? কারণ নানা কারণে তো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আমরা ধরা মানে এই মুহূর্তে নানা বিষয়ে নানা দিক দিয়ে। আপনি যেটি সহজভাবে বললেন সেটা কি চাইলেই করা সম্ভব হবে এখন?

ড. এম এম আকাশ: এটা রাজনৈতিক শর্ত আছে। কিন্তু ভারত করতে পারছে, ভিয়েতনাম করতে পারছে, চায়না করতে পারছে, ইস্ট এশিয়া করতে পারছে। এখন আপনি কিভাবে করবেন সেটা আপনার ওপর আপনার পলিটিকসের ওপর। আপনি যদি এমন পলিটিক্যাল পার্টি হন যে আপনি প্রথমে ডোমেস্টিক সক্ষমতাগুলোকে বাড়ালেন। আপনি ইমপোর্ট সাবস্টিটিউট করলেন আপনাকে তো আর কিছু বলতে পারবে না। আপনি বললেন এই জিনিসটা আমি কিনব না বাইরে থেকে এটা আমি এখানে তৈরি করব। আপনাকে মূলত নির্ভর করতে হবে আপনার মানব সম্পদের ওপর। এবং মানব সম্পদকে ব্যবহার করে আপনাকে উপরে উঠতে হবে। কিন্তু মানব সম্পদকে তো আপনি ব্যবহার করতে পারছেন না কারণ আপনি হোল এডুকেশন সিস্টেম হচ্ছে অ্যান্টি এমপ্লয়মেন্ট। মানে এমন সব গ্রাজুয়েট আপনি তৈরি করছেন এমন সব টেকনোক্র্যাট আপনি তৈরি করছেন যাদের সার্ভিস কারও প্রয়োজন নাই বা যেই সার্ভিস প্রোডাক্টিভ না। কিন্তু আপনি যদি এমনভাবে আপনার কারিকুলাম তৈরি করতেন যেমন ধরেন ফিলিপাইন নার্সিং শিখিয়ে সেই নার্স দিয়ে তার হসপিটালগুলোকে সাজিয়ে ফেলেছে। বাড়তি নার্সকে মিডল ইস্টে পাঠিয়েছে। আপনি তো পাঠাচ্ছেন একদম ক্ষেত মজুরকে যার ইনকামও কম রেমিট্যান্সও কম এডুকেশনও কম। আপনার তো হোল হিউম্যান রিসোর্সটাকে আপনি মিস ইউটিলাইজ করছেন। আপনার ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড আছে আপনি বলেন আপনার এত তরুণ আছে ভারতের তরুণরা বড় বড় আইসিটি কোম্পানিতে আমেরিকায় গিয়ে কাজ করছে ওখান থেকে শিখছে আবার দেশে ফিরে আসছে। এই যে ইউনুস বলে যে আমরা কি আমরা চাকরি করব কেন আমরা চাকরি সৃষ্টি করব। এটা তো কথার কথা। চাকরি সৃষ্টি করবে তরুণরা তো তরুণরা ক্যাপিটাল পাবে কোথা থেকে? তরুণরা সেই স্কিল পাবে কোথা থেকে? তরুণরা সেই টেকনোলজি পাবে কোথা থেকে? সেগুলো তো তাদের জন্য অ্যারেনঞ্জ করতে হবে। স্কিল যদি অ্যারেনঞ্জ করতে হয় তাহলে এডুকেশন সিস্টেম চেঞ্জ করতে হবে। টেকনোলজি যদি আনতে হয় তাহলে দেশপ্রেমিক হতে হবে। যাও গিয়ে শিখে এসো আমাদের আমলারা যায় ভিজিট করতে টেকনোলজি শিখতে সেখানে কিছু বাজার টাজার করে আবার ফিরে আসে।              

রাশেদ আহমেদ: বৈষম্য দূর করার জন্য একটি আন্দোলন হলো ২০২৪-এ। একটি রেজিমের পরিবর্তন হলো। একটি প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু সেটির ১৮ মাস ১৯ মাসে আপনি কী দেখেছেন?

ড. এম এম আকাশ: না এখন তো একমাত্র হলো পপুলিস্ট প্রোগ্রাম। কতগুলো ফ্যামিলি কার্ড আমরা তৈরি করব। এমনিতেই তো আমাদের বিধবা ভাতা সহ ১৪৯ রকম সোশ্যাল সেফটি মেজারস আছে। এখন এখানে নতুন নতুন কার্ড তৈরি করা হচ্ছে। এত নতুন কার্ড তো তৈরি করার কোনো দরকারই নেই। আপনার ইন্ডিয়াতে একটা আধার কার্ডে যেই ইনফরমেশন থাকে আপনার এনআইডিতে সেই ইনফরমেশন থাকতে পারে। এবং সেখানে আপনি ইজিলি রেগুলারলি চেকআপ রাখতে পারেন স্থানীয় সরকারটা যদি আপনি ঠিকমতো করতে পারেন তাহলে স্থানীয় সরকার চেকআপ রাখবে এনআইডি। এবং এনআইডির মধ্যে ইনফরমেশন থাকবে কার ইনকাম কত। দারিদ্র সীমার ওপরে গেলে তাকে আর কোনো কার্ড টার্ড দেওয়া হবে না কিছু দেওয়া হবে না। দারিদ্র সীমার নিচে আসলে তার মোবাইলে অটোমেটিক্যালি ফান্ড চলে যাবে। এই সিস্টেমটা করার জন্যই তো এনআইডি করা হয়েছিল। কেউ কেউ তো মনে করে এগুলো হচ্ছে বিশাল একটা প্যাট্রন ক্লায়েন্ট রিলেশনশিপ তৈরি করবে প্রোডাক্টিভিটি তৈরি করবে না। সুতরাং আমাদের রিডিস্ট্রিবিউশন করতে হবে ট্যাক্স করে ওই ধনিদের কাছ থেকে টাকা আদায় করতে হবে এবং ইউনিভার্সাল মিনিমাম ইনকাম এনশিওর করতে হবে। শিল্পায়নের কথা বললেন কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে গত ১৫-২০ বছরে আমাদের উৎপাদনমুখী জমির পরিমাণ অনেক কমে গেছে এই শিল্পায়নের কথা বললেন সেখানে কিন্তু উৎপাদন বাড়ছে আমাদের ১৮ কোটি মানুষের খাদ্য চাহিদা মেটানো সেটিও কিন্তু একটা হুমকির মধ্যে পড়ছে সেটি কি লক্ষ্য করেছেন কি না? আমাদের কৃষককে স্যালুট করব যে কৃষক জমি কমে গেছে লোক বেড়ে গেছে তারপরেও আপনাকে দুর্ভিক্ষ উপহার দেয় নাই। সুতরাং সে কিন্তু তার কাজ করেছে। কিন্তু এখন যেটা হবে সেটা হলো ওখানে জমির বণ্টনটা এমন হয়ে গেছে যে অ্যাবসেন্ট ল্যান্ডলর্ড অনেক বেড়ে গেছে। আপনার যদি দুই ফসলি জমিকে তিন ফসলি করতে পারতেন এবং বর্গা চাষিরা এখন যেহেতু বর্গা চাষিরাই অধীর তাদেরকে এটা করতে হবে তাহলে তাদের সার লাগবে তাদের পানি লাগবে। সার এবং পানি এবং উন্নত বীজ লাগবে। এখন সার এবং পানি যদি আপনি দেন উন্নত বীজ দেন তাহলে তার কস্ট অফ প্রোডাকশন বেড়ে যাবে। কস্ট অফ প্রোডাকশন বেড়ে গেলে ধানের দাম বেড়ে যাবে। ধানের দাম বেড়ে গেলে চালের দাম বেড়ে যাবে। চালের দাম বেড়ে গেলে ওয়েজ বাড়াতে হবে নাইলে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিসকন্টেন্ট তৈরি হবে। এগুলো তো সব চেইন এফেক্ট। এখন শোনা যাচ্ছে এইবার যে ধানের দাম গভর্মেন্ট দিচ্ছে না ঠিকমতো আগেই প্রকিউরমেন্ট প্রাইস অ্যানাউন্স করছে না। সুতরাং তাতে যেটা হচ্ছে কি মধ্যস্বত্বভোগীরা ধান কিনে চাল বানিয়ে স্টোর করে রাখছে আর ধান ছাড়া যে অন্যান্য ফসল যেটা করে কৃষক একটু করে খায় শাক-সবজি ইত্যাদি সেটার চেইন অফ ডিস্ট্রিবিউশন এমন হয়েছে যে মাঝখানে কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ের নামে অথবা অন্যান্য নামে বিগ এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফার্মগুলো ঢুকে পড়ছে এবং অনেক লেয়ারে ফড়িয়া রিটেইল তৈরি করে শেষ পর্যন্ত কনজ্যুমারের কাছে অনেক দাম হয়ে যাচ্ছে আর কৃষকও কম দাম পাচ্ছে আর রেন্ট হিসেবে বাকিটা ভাগাভাগি হয়ে যাচ্ছে।

রাশেদ আহমেদ: ২০২৪-এ যে আন্দোলনটা হলো একটা বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন। সেই আন্দোলনে মানুষের অনেক প্রত্যাশা ছিল। ১৮ মাসে তো আমরা দেখেছি অনেক স্বপ্ন দেখানো হয়েছে কিন্তু স্বপ্নের বাস্তবায়ন হয় নাই। তারপর ইলেকশনের মাধ্যমে নতুন একটি গভর্নমেন্ট আসলো বিএনপি গভর্নমেন্ট। তাদের যে প্ল্যান পলিসি সেগুলো দেখে আপনার কী মনে হচ্ছে কোন দিকে?

ড. এম এম আকাশ: না আপনি বাংলাদেশ ব্যাংকের দিকে তাদের পলিসিটা দেখেন। আহসান মনসুরকে মব করে তাড়িয়ে দিল। নিয়ে আসলো কাকে? এমন একজনকে আনল যার কোনো ব্যাংকিং এক্সপেরিয়েন্স নাই যার বাড়ি আনোয়ার থানায় এবং যেটা এস আলমের পুত্রের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব আছে বলে শোনা যায়। আর এস আলমকে মালিকানা দেওয়ার জন্য এরা এসে আইন করল যে যেই টাকাটা ওরা ঢেলেছে ইসলামী ব্যাংকগুলোতে সেখান থেকে সেভেন পারসেন্ট পে করে পুরো মালিক হয়ে যাবে। তো আপনি তাহলে তো আবার আওয়ামী লীগের অবস্থাতেই ফেরত যাচ্ছেন। আর বাণিজ্য চুক্তি যেটা আমেরিকা করেছিল যেটা খারাপ করেছিল অন্তর্র্বতী সরকার সেই বাণিজ্য চুক্তি ওরা বাতিল করছে না বরং পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তাকেই নিয়োগ করেছে যিনি ছিলেন এই বাণিজ্য চুক্তির মূল হোতা। সুতরাং লোকগুলো তো আমি দেখে ভরসা পাচ্ছি না। এস আলমকে আবার মালিকানার সুযোগ করে দিচ্ছে।

রাশেদ আহমেদ: চুক্তির আসলে প্রভাবটা কী হতে পারে পড়তে পারে?

ড. এম এম আকাশ: ভয়াবহ প্রভাব। আমি আজকে শুনলাম যে বোয়িং বিমান কিনতে চাচ্ছে অনেক দাম দিয়ে। যেটা টাকা নাই ফরেন এক্সচেঞ্জ নাই। আগামীতে যদি চাল কিনতে হয় তাহলে সেই চাল কিনতে হবে আমেরিকা থেকে বেশি দাম দিয়ে। সুতরাং এই চুক্তি তো অবভিয়াসলি খুব খারাপ চুক্তি। আপনাকে বলে দিয়েছে যে কোথা থেকে কিনতে হবে কী কিনতে হবে আমার নির্দেশে কিনতে হবে। কিন্তু আমি কি আমেরিকাকে বলতে পারব যে তোমাকে আমার কাছ থেকে কিনতে হবে? তা তো আমি পারব না। আর বলে দিয়েছে যে তুমি যা বসাবে তার ওপরে আমি ট্যারিফ বসাব আমার ওপরে তুমি বাড়তি ট্যারিফ বসাতে পারবে না। বলে দিয়েছে যে আমার পণ্যের কোয়ালিটি আমি মাংস পাঠাব মাছ পাঠাব। আমি ঠিক করে দিয়েছি এটা জিএমও না। বা জিএমও হলেও আমি বলে দিয়েছি এটা ভালো। কিন্তু জেনেটিক্যালি মডিফাইড এসব জিনিস অনেক সস্তায় আমরা পাব কিন্তু এটা আমাদের ক্যান্সার এবং অন্যান্য অসুখ-বিসুখ ঘটাবে। তো আমরা কি চুক্তিতে এটা এই ধারা কী রেখেছি যে হ্যাঁ আপনার মতে এটা কোয়ালিটি স্ট্যান্ডার্ড আমার মতে যদি কোয়ালিটি স্ট্যান্ডার্ড না হয় তাহলে আমি এটা গ্রহণও করব না। সেটা তো নাই এখানে হলো যে আপনি কিচ্ছু বলতে পারবেন না আপনার বিএসটিআই এখানে কোনো রায় দিতে পারবে না আমেরিকার রায়টাই আপনার মানতে হবে। কিন্তু আপনি যখন পণ্য পাঠাবেন তখন ওর রায়টা আপনাকে মানতে হবে।

রাশেদ আহমেদ: এইটা থেকে এখন বাঁচার উপায় কী? সরে আসার উপায় কী আছে কি না?

ড. এম এম আকাশ: সরে আসার উপায় আছে পার্লামেন্টে এটাকে আলোচনার বিষয়বস্তু হিসেবে রুমিন ফারহানা যেটা দাবি করেছে সেটা করলে পরে তখন আলাপ আলোচনা করে একটা তো সুবিধা আছে যে বিএনপি টু থার্ড মেজরিটি নিয়ে আছে। সুতরাং বিএনপি চাইলে পার্লামেন্টে গিয়ে যেকোনো কিছু করতে পারে। আইন বদলাতে পারে চুক্তি বাতিল করে দিতে পারে সেটা তো পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব। কিন্তু বিএনপি সেটা কি চাইবে?

রাশেদ আহমেদ: একটা বড় রাষ্ট্রের সাথে কি এভাবে করা যাবে পারবে কি না?

ড. এম এম আকাশ: এখানে তো রিঅ্যালাইনমেন্টটা হলো পূর্বশর্ত। আপনাকে ঠিক করতে হবে যে আমি জিওপলিটিক্সে কাদের সঙ্গে থাকব। আমি কি ব্রিকসের সঙ্গে থাকব না আমেরিকার সঙ্গে থাকব। আপনি বড়র সঙ্গে ইরান বড়র সঙ্গে ফাইট করে থাকছে না আত্মসমর্পণ তো করছে না ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে কিন্তু আত্মসমর্পণ করছে না। সুতরাং আপনি ফাইট করে থাকতে পারবেন এবং ইরানের চেয়ে আপনার বেটার অবস্থা হবে কারণ আপনার পাশেই ভারত আছে ভারত চীন আর রাশিয়া যদি আপনার পক্ষে থাকে এবং এশিয়া ফর এশিয়া এই নীতিতে যদি আপনি আসেন তাহলে আপনি নিশ্চিতভাবে আমেরিকা ইউরোপ ছাড়াই চলতে পারবেন।

রাশেদ আহমেদ: আপনার কী মনে হয় ইউনুস সরকার এই চুক্তিটা কেন করল?

ড. এম এম আকাশ: এই চুক্তিটা করার জন্যই তো সে এসেছে। এটা তো মেটিকুলাস ডিজাইনের একটা পার্ট। সেই মেটিকুলাস ডিজাইন একদিন উদ্ধার হবে একদিন জানা যাবে যে কোথায় মাহফুজ গিয়ে কী মেটিকুলাস ডিজাইন করেছিল। কোন কোন সময়ে আমেরিকান রাষ্ট্রদূত কার কার সঙ্গে জুলাই অভ্যুত্থানের আগে মিটিং করেছিল। এনইডি কী পরিমাণ টাকা কালার রেভলুশনের জন্য কখন কোথায় ব্যয় করেছিল। বাংলাদেশে কিরকম ব্যয় করেছিল কারা কারা এই টাকা পেয়েছিল এগুলো সবই তো জানা যাবে। এখন যে রাষ্ট্র চলছে যেটি বলছিলাম একটা বড় তেলের ক্রাইসিস সেটা ম্যানেজ করা যায় নাই। ভবিষ্যতে কী হবে সেটি এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না মুদ্রাস্ফীতি যেটি বললাম সেটি বেড়ে যাচ্ছে। কর্মহীন হয়েছে একটা বড় জনগোষ্ঠী অনেকগুলো ইন্ডাস্ট্রি পুড়ে গেছে কিছু বন্ধ হয়ে গেছে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিও ৪০০-এর ওপরে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়েছে এটা আমাদের গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির মালিকরাও বলছেন। আসলে কোন দিকে যাচ্ছে পরিস্থিতিটা? আওয়ামী লীগের আমলে লুটেরা বুর্জোয়াদের অধীনে এবং তার সঙ্গে বাড়তি ফ্যাসিবাদ ছিল ফ্যাসিবাদী প্রবণতা ছিল। এখানে হয়তো ফ্যাসিবাদী প্রবণতাটা একটু কমেছে। একটা ভোট হয়েছে একটু কিন্তু ঘাড়ের ওপরে নিশ্বাস ফেলছে জামায়াতে ইসলাম যারা দেশটাকে ধর্মীয় রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। এবং ধর্মীয় রাষ্ট্রের তো সবচেয়ে বড় অসুবিধা হলো সে ধর্মভিত্তিক আইন করবে এবং ধর্মভিত্তিক আইন করলে অন্য ধর্মাবলম্বী যারা তারা দ্বিতীয় শ্রেণির সিটিজেন হয়ে যাবে এবং ওই ধর্মকে শ্রেষ্ঠ বলার কারণে সেখানে একটা ফ্যাসিবাদী প্রবণতা চলে আসবে। আমি খুব বেশি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পরিবর্তন হবে আমি মনে করি না। প্রথমত তারেক রহমান সম্পর্কেও তো প্রশ্ন থাকতে পারে তাই না? যেমন হাওয়া ভবন সম্পর্কে প্রশ্ন ছিল। তো ধরে নিলাম যে এতকাল বিদেশে ছিল সংশোধিত হয়েছে তার মেয়ের কথাবার্তা দেখে বুঝলাম যে তারা একটু আধুনিক হয়েছে। কিন্তু সেই রিফ্লেক্টেড তো ব্যক্তির ওপর তো দলের চরিত্র নির্ভর করে না। শেখ মুজিব তো ব্যক্তিগতভাবে অনেক ভালো ছিল। কিন্তু সব সময় কি তার দলের মধ্যে নব্য ধনিক শ্রেণির উদ্ভব কী উনি ঠেকাতে পেরেছেন? মোশতাককে কি উনি সরাতে পেরেছেন? তাজউদ্দীনের সঙ্গে মোশতাকের মধ্যে দ্বন্দ্ব হলে উনি কি তাজউদ্দীনের দিকে যেতে পেরেছেন? উনিই যেতে পারেননি। তো এখানে আপনি সালাহউদ্দিনকে রাখবেন যিনি দীর্ঘকাল ভারতে আশ্রয়ে ছিলেন এবং এসেছেন এখানে আপনি মির্জা ফখরুলকে লাইমলাইটে নিয়ে যাবেন এখানে আপনি নিজে চুপচাপ থাকবেন খালি টেবিল চাপড়ে সমর্থন দিবেন বেশি কথা বলবেন না আর কথা বললেও এমন কথা বলবেন যেটা নিয়ে হাস্যরসের উদ্রেক হয়। তাহলে আপনি কিভাবে মানে দেশটাকে ঠিক করবেন? তারেক রহমান আসার আগে মানে একটি প্ল্যানের কথা বলছিলেন ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ যেটি তার বিখ্যাত একটি বক্তৃতায় ওই প্ল্যান কী আপনি আভাস পেয়েছেন যে প্ল্যানটা কী আসলে কী করতে চায়? প্ল্যান তো উনি ছাপিয়েছেন নির্বাচনী ইশতেহারে ৩১ দফা ছাপানো আছে। কিন্তু আমাদের দেশে তো বাক্য এবং কর্মের মধ্যে বিরাট তফাৎ থাকে। বাক্যে যা আছে কর্মে তা নাই। ৩১ দফা যেটি তারা দিয়েছে নির্বাচনী ইশতেহারে মানে সেটি তো পড়েছেন আপনি মানে সেটির মধ্যে কী কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি প্রতিশ্রুতি কী আছে? সেটি দেখতে পেয়েছেন? সামগ্রিক কোহ্যারেন্ট এবং যেটা বাস্তবায়নযোগ্য ওরকম নাই। একটা খালি সুবিধা হয়েছে যে জামায়াতের রাইসটা একটু আটকাতে পেরেছে আর বাকি সব জায়গায় যেসব করেছে তাতে আওয়ামী লীগ যেই দক্ষিণপন্থী পলিসি নিয়ে চলতো তার বাইরে এরা চলবে বলে মনে হয় না। মানে কেন চলবে না চলতে পারবে না কি কোনো কমিটমেন্টের জায়গায় আছে কোথাও শর্ত টর্ত আছে কী মনে হয়? আপনি দেখবেন যে তাদের যে নির্বাচনী এলাকাগুলোতে যে নির্বাচন হয়েছে আপনি খালি সেখানে গিয়ে তাদের অর্থায়নটা কোথা থেকে হয়েছে সেই হিস্ট্রিটা বের করেন। তাহলেই আপনি বুঝতে পারবেন আপনি দেখবেন সালাহউদ্দিন উনি তো এখন অন্যতম একজন নেতা তাদের। তো উনি যখন ঢুকলেন বাংলাদেশে কক্সবাজারে গেলেন তখন যে গাড়িতে গেলেন সেই গাড়িটা ছিল এস আলমের গাড়ি। তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হলো উনি বললেন আমি জানতাম না। সেটা কি সম্ভব? সুতরাং আপনি অনেক ইনকনসিস্টেন্সি পাবেন। আবার আপনি অনেক পপুলিস্ট পদক্ষেপ পাবেন যেমন আমাদের দেশের মানুষ যেগুলোতে খুব সহজে উৎফুল্ল হয় যে হ্যাঁ তারেক রহমান তার মেয়েকে নিয়ে সিনেমা দেখতে গিয়েছে একটা সাধারণ হোটেলে খেতে গিয়েছে। তারেক রহমান গণভবনে না থেকে গুলশানে থাকছে। কিন্তু তারেক রহমান কী খোঁজ খোঁজ নিয়েছে যে হাসিনা যেখানে থাকতো সেখানে আগের যে শিল্পকলা দপ্তরের যে অথরিটি ছিল বা শিল্প সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের যিনি কী ফারুকী সাহেব তিনি কাকে টাকা দিয়েছেন কী টাকা দিয়েছেন কিভাবে এটা হয়েছে? আওয়ামী লীগকে সম্প্রতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে যে তার আইন পাস হয়েছে সংসদে। এটাও তো একটা প্রশ্ন আওয়ামী লীগ একটা দল। আওয়ামী লীগের মধ্যে যারা অপরাধ করেছে তাদেরকে নিষিদ্ধ করতে হবে বা তাদের বিচার করতে হবে। তাদের ইলেকশনের অধিকার কেড়ে নিতে হবে। কিন্তু যেই লোকটা আওয়ামী লীগ সাপোর্ট করে কিন্তু কোনো অপরাধে জড়িত ছিল না এমনকি হয়তো জুলাই মুভমেন্টের সাপোর্টারও ছিল। সেই সব লোককেও তো জেলখানায় ধরে রেখে দিয়েছে। আওয়ামী লীগ পন্থীর দুর্নীতি প্রমাণিত হলে তার শাস্তি হবে আর বিএনপি পন্থী বা জামায়াত পন্থী বা ইউনুস পন্থী কারও দুর্নীতি প্রমাণিত হলে তার শাস্তি হবে না এইভাবে করলে তো সুশাসন আসবে না। ড. ইউনুস যদি এখন গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করে ঢাকা ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলরকে নিয়ে সেখানে সেই বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করতে দায়িত্ব দেন তাহলে তো একটু খোঁজ নেওয়া দরকার না যে এই বিশ্ববিদ্যালয়টা হঠাৎ করে উনি পেলেন কেন তার সময়। ড. ইউনুস যে কোটি কোটি টাকা ট্যাক্স মাফ করিয়ে নিলেন সেটা কেন কিভাবে করলেন এটা দেখা দরকার না?

রাশেদ আহমেদ: এম এম আকাশ আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমাদের সময় দেওয়ার জন্য।

ড. এম এম আকাশ: ধন্যবাদ আপনাকেও ।




সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত