ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের বাগান মাঠের বড়বিল এলাকায় একটি মৎস্য খামারে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) রাতে এ ঘটনা ঘটে। এতে কয়েক লাখ টাকার মাছ মারা গেছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষি।
ভুক্তভোগী মৎস্য চাষি মো. শাহাজামাল খাঁ (৫৫) জানান, প্রায় সাত বিঘা জমির ওপর দীর্ঘ ১২ বছর ধরে তিনি মাছ চাষ করে আসছেন। চলতি মৌসুমে পুকুরে তেলাপিয়া, রুই, কাতলা, মৃগেল, পাবদা, টেংরা, সিলভার কার্প ও পুঁটিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষে প্রায় ৩০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। আর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই এসব মাছ বাজারজাত করার কথা ছিল।
শাহাজামাল খাঁ বলেন, মঙ্গলবার (২৬ মে) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে পুকুরের তত্ত্বাবধায়ক (কেয়ারটেকার) নাসিম মাছ মরে পানিতে ভেসে উঠতে দেখে তাকে খবর দেন। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বিপুল পরিমাণ মাছ মরে ভেসে থাকতে দেখেন। প্রথমে অক্সিজেন স্বল্পতা বা গ্যাসজনিত কারণে এমনটা হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও, পরে তার সন্দেহ হয় যে কেউ পরিকল্পিতভাবে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করেছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, ‘আমি ব্যাংক ঋণ ও ধারদেনা করে মাছ চাষ করেছি। এই পুকুরই আমার পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস। হঠাৎ এমন ঘটনায় আমি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছি। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীকে শনাক্ত করার দাবি জানাচ্ছি।’
স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল হোসেন বলেন, শাহাজামাল দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সফলভাবে মাছ চাষ করছেন। এর আগে এখানে এমন ঘটনা কখনো ঘটেনি। এই ঘটনায় তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। শাহাজামালের আত্মীয় খোকন হোসেনও ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, পুকুরের বিভিন্ন স্থানে রুই, কাতলাসহ নানা প্রজাতির মরা মাছ ভেসে রয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই ঘটনাটিকে শত্রুতামূলক ও রহস্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন।
তবে এ ঘটনায় আজ দুপুর পর্যন্ত থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমরা এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের বাগান মাঠের বড়বিল এলাকায় একটি মৎস্য খামারে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) রাতে এ ঘটনা ঘটে। এতে কয়েক লাখ টাকার মাছ মারা গেছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষি।
ভুক্তভোগী মৎস্য চাষি মো. শাহাজামাল খাঁ (৫৫) জানান, প্রায় সাত বিঘা জমির ওপর দীর্ঘ ১২ বছর ধরে তিনি মাছ চাষ করে আসছেন। চলতি মৌসুমে পুকুরে তেলাপিয়া, রুই, কাতলা, মৃগেল, পাবদা, টেংরা, সিলভার কার্প ও পুঁটিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষে প্রায় ৩০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। আর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই এসব মাছ বাজারজাত করার কথা ছিল।
শাহাজামাল খাঁ বলেন, মঙ্গলবার (২৬ মে) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে পুকুরের তত্ত্বাবধায়ক (কেয়ারটেকার) নাসিম মাছ মরে পানিতে ভেসে উঠতে দেখে তাকে খবর দেন। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বিপুল পরিমাণ মাছ মরে ভেসে থাকতে দেখেন। প্রথমে অক্সিজেন স্বল্পতা বা গ্যাসজনিত কারণে এমনটা হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও, পরে তার সন্দেহ হয় যে কেউ পরিকল্পিতভাবে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করেছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, ‘আমি ব্যাংক ঋণ ও ধারদেনা করে মাছ চাষ করেছি। এই পুকুরই আমার পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস। হঠাৎ এমন ঘটনায় আমি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছি। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীকে শনাক্ত করার দাবি জানাচ্ছি।’
স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল হোসেন বলেন, শাহাজামাল দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সফলভাবে মাছ চাষ করছেন। এর আগে এখানে এমন ঘটনা কখনো ঘটেনি। এই ঘটনায় তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। শাহাজামালের আত্মীয় খোকন হোসেনও ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, পুকুরের বিভিন্ন স্থানে রুই, কাতলাসহ নানা প্রজাতির মরা মাছ ভেসে রয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই ঘটনাটিকে শত্রুতামূলক ও রহস্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন।
তবে এ ঘটনায় আজ দুপুর পর্যন্ত থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমরা এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আপনার মতামত লিখুন