ফেনীর সোনাগাজীতে বিএনপির রাজনৈতিক সভায় স্থানীয় দুই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি এখন ফেনীর ‘টক অব দ্য টাউন’-এ পরিণত হয়েছে।
রোববার (৩১ মে) বিকেলে সোনাগাজী পৌর মিলনায়তনে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বস্ত্র ও খাদ্য বিতরণ কর্মসূচিতে এ ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, অনুষ্ঠান চলাকালে সোনাগাজী থানার ওসি কামরুল ইসলামকে মঞ্চে প্রধান অতিথির পাশে এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহারের পাশের আসনে বসে থাকতে দেখা যায়। একই সময়ে দাগনভূঞা থানার ওসি ফয়জুল আজিম নোমানও মঞ্চের সামনের সারিতে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন। দুই পুলিশ কর্মকর্তার রাজনৈতিক মঞ্চে ও প্রথম সারিতে বসার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই একে সরকারি চাকরিবিধি ও পেশাগত নিরপেক্ষতার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক শহিদুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘দলীয় কর্মসূচির মঞ্চে অংশ নেওয়া সরকারি চাকরিবিধি ও পেশাগত নিরপেক্ষতার স্পষ্ট পরিপন্থী। পুলিশের এমন বিতর্কিত কাজে জড়ানো কাম্য নয়।’
সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন বাবলু বলেন, ওসিরা আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন না। মূলত মন্ত্রীর (আবদুল আউয়াল মিন্টু) নিরাপত্তার প্রটোকল দিতে এসে তারা সেখানে বসেছিলেন। পরে তাদের অবস্থান নিয়ে কিছু বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে সোনাগাজী থানার ওসি কামরুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি কেবল নিরাপত্তার দায়িত্বে সেখানে ছিলেন, কোনো বক্তব্য দেননি।
তবে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘পোশাক পরিহিত অবস্থায় কোনো দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন না। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।’
ফেনীর পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম বলেন, বিধি অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মকর্তা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন না। প্রটোকলের জন্য গেলেও অনুষ্ঠানস্থলের ভেতরে এভাবে বসা ঠিক হয়নি। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন