উত্তরাঞ্চলে অধিকাংশ সংসদ সদস্য বিরোধী দলের হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে এই এলাকার বড় বড় উন্নয়ন বাজেট কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) কুড়িগ্রামের টগরাইহাট দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ‘কৃষক সমাবেশ ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘তৎকালীন সরকারের পুলিশ বাহিনী রংপুরের আবু সাঈদকে দুহাত প্রসারিত অবস্থায় গুলি করে হত্যা করেছিল। সেই আবু সাঈদ ছিলেন একজন কৃষকের সন্তান। এই আন্দোলনে যারা নেতৃত্ব দিয়েছিল, তাদের অধিকাংশই কৃষকের সন্তান। তাই আমরা কৃষকদের দুঃখ-কষ্ট অন্তর দিয়ে অনুভব করি।’
কৃষি খাতে বৈষম্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ হওয়া সত্ত্বেও কৃষকরা সংগঠিত নয়। বর্তমান সরকার কৃষকদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য দিচ্ছে না, ফলে মানুষ কৃষি পেশার প্রতি অনাগ্রহী হয়ে পড়ছে। এছাড়া তিস্তা পরিকল্পনা নিয়ে সরকার চীন সফর করলেও কোনো সুসংবাদ আনতে পারেনি। উত্তরাঞ্চলের মানুষ জীবন দিয়ে এবং ভোট দিয়ে ১১ দলকে জয়যুক্ত করেছে; তাদের ভোটাধিকার ও অর্থনৈতিক অধিকার রক্ষা করা আমাদের বড় দায়িত্ব।’
সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, ‘আমাদের কৃষকরা বাজারে বৈষম্যের শিকার। বড় বড় ঋণখেলাপিরা হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করলেও ১০-২০ হাজার টাকা ঋণের দায়ে কৃষকদের জীবন দিতে হয় বা আত্মহত্যা করতে হয়। এটি অত্যন্ত লজ্জার ও দুঃখের বিষয়। কৃষিকে আধুনিকায়ন করতে হলে কৃষি নীতিমালায় আমূল পরিবর্তন আনতে হবে।’
এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক আতিকুর রহমান মোজাহিদ এমপির সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জেলা কৃষক সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক সাঈদ উজ্জ্বল, সদস্য সচিব গোলাম মর্তুজা সেলিম, এনসিপির জেলা আহ্বায়ক মুকুল মিয়া ও সদস্য সচিব মাসুম মিয়া। ‘কৃষকের শক্তি জাতীয় মুক্তি’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে সমাবেশটি এনসিপির রাজনৈতিক শক্তির নতুন আত্মপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন