সংবাদ

জনস্বাস্থ্যে এমপির আকস্মিক পরিদর্শনে অনিয়ম ফাঁস


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, কুমিল্লা
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, কুমিল্লা
প্রকাশ: ১ জুন ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম

জনস্বাস্থ্যে এমপির আকস্মিক পরিদর্শনে অনিয়ম ফাঁস
কুমিল্লায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে আকস্মিক পরিদর্শন করেন সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। ছবি : সংবাদ

ঈদুল আজহার ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে কুমিল্লার সরকারি দপ্তরগুলোতে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও অনুপস্থিতি শনাক্ত করেছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। সোমবার (১ জুন) সকালে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কুমিল্লা কার্যালয়ে গিয়ে তিনি দেখেন, শীর্ষ কর্মকর্তারা দপ্তরে নেই এবং এক কর্মচারী তড়িঘড়ি করে একসঙ্গে চার দিনের হাজিরা স্বাক্ষর করছেন। এই পরিদর্শনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

এমপির ব্যক্তিগত সহকারী আনোয়ার হোসেন জানান, সোমবার বেলা ১১টার দিকে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কুমিল্লা বিভাগীয় কার্যালয়ে যান। সেখানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলীসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের অনুপস্থিত পাওয়া যায়। এ সময় হাজিরা খাতা তলব করলে দেখা যায়, হিসাব সহকারী শাহীন আলম গত চার দিনের হাজিরায় একসঙ্গে স্বাক্ষর করছেন।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ক্ষুব্ধ সংসদ সদস্য ওই কর্মচারীকে উদ্দেশ্য করে বলছেন, ‘এটা কি সরকারি অফিস না? তুমি কি এখানে ফুটবল খেলতে এসেছ? আগের হাজিরা আজ কেন?’ পরে তিনি ওই দপ্তর থেকেই মুঠোফোনে অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেন।

কথোপকথনে এমপিকে বলতে শোনা যায়, ‘অফিস প্রায় খালি। একজন কর্মচারী আগের হাজিরায় আজ সই করছে। পাবলিক হেলথের নিজেরই তো হেলথ ঠিক নেই। আমার মনে হয় এটা বন্ধ করা দরকার।’ প্রধান প্রকৌশলী এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

পরিদর্শন শেষে মনিরুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘কর্মকর্তারা ঢাকায় বসে কুমিল্লায় অফিস করবেন, তা আর হতে দেওয়া হবে না। এতে সেবাগ্রহীতারা ভোগান্তিতে পড়েন। সরকারি অফিসগুলো নিয়মিত মনিটরিং করা হবে এবং বিষয়টি জেলা প্রশাসককেও জানানো হবে।’

তবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিউল হক দাবি করেছেন, তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকায় সকালে সেখানে ছিলেন। পরে এমপির পরিদর্শনের খবর পেয়ে কুমিল্লায় চলে আসেন। আর কর্মচারীর হাজিরা স্বাক্ষরের বিষয়ে তিনি বলেন, ওই কর্মচারী আগে অফিস করলেও স্বাক্ষর করতে ভুলে গিয়েছিলেন।

এর আগে সংসদ সদস্য কুমিল্লা জেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি দলিল লেখকদের পেশাগত মানোন্নয়ন এবং স্পষ্ট ও শুদ্ধ বানানে দলিল লেখার নির্দেশনা দেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০১ জুন ২০২৬


জনস্বাস্থ্যে এমপির আকস্মিক পরিদর্শনে অনিয়ম ফাঁস

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুন ২০২৬

featured Image

ঈদুল আজহার ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে কুমিল্লার সরকারি দপ্তরগুলোতে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও অনুপস্থিতি শনাক্ত করেছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। সোমবার (১ জুন) সকালে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কুমিল্লা কার্যালয়ে গিয়ে তিনি দেখেন, শীর্ষ কর্মকর্তারা দপ্তরে নেই এবং এক কর্মচারী তড়িঘড়ি করে একসঙ্গে চার দিনের হাজিরা স্বাক্ষর করছেন। এই পরিদর্শনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

এমপির ব্যক্তিগত সহকারী আনোয়ার হোসেন জানান, সোমবার বেলা ১১টার দিকে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কুমিল্লা বিভাগীয় কার্যালয়ে যান। সেখানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলীসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের অনুপস্থিত পাওয়া যায়। এ সময় হাজিরা খাতা তলব করলে দেখা যায়, হিসাব সহকারী শাহীন আলম গত চার দিনের হাজিরায় একসঙ্গে স্বাক্ষর করছেন।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ক্ষুব্ধ সংসদ সদস্য ওই কর্মচারীকে উদ্দেশ্য করে বলছেন, ‘এটা কি সরকারি অফিস না? তুমি কি এখানে ফুটবল খেলতে এসেছ? আগের হাজিরা আজ কেন?’ পরে তিনি ওই দপ্তর থেকেই মুঠোফোনে অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেন।

কথোপকথনে এমপিকে বলতে শোনা যায়, ‘অফিস প্রায় খালি। একজন কর্মচারী আগের হাজিরায় আজ সই করছে। পাবলিক হেলথের নিজেরই তো হেলথ ঠিক নেই। আমার মনে হয় এটা বন্ধ করা দরকার।’ প্রধান প্রকৌশলী এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

পরিদর্শন শেষে মনিরুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘কর্মকর্তারা ঢাকায় বসে কুমিল্লায় অফিস করবেন, তা আর হতে দেওয়া হবে না। এতে সেবাগ্রহীতারা ভোগান্তিতে পড়েন। সরকারি অফিসগুলো নিয়মিত মনিটরিং করা হবে এবং বিষয়টি জেলা প্রশাসককেও জানানো হবে।’

তবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিউল হক দাবি করেছেন, তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকায় সকালে সেখানে ছিলেন। পরে এমপির পরিদর্শনের খবর পেয়ে কুমিল্লায় চলে আসেন। আর কর্মচারীর হাজিরা স্বাক্ষরের বিষয়ে তিনি বলেন, ওই কর্মচারী আগে অফিস করলেও স্বাক্ষর করতে ভুলে গিয়েছিলেন।

এর আগে সংসদ সদস্য কুমিল্লা জেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি দলিল লেখকদের পেশাগত মানোন্নয়ন এবং স্পষ্ট ও শুদ্ধ বানানে দলিল লেখার নির্দেশনা দেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত