ফেনীর মহিপালে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে টমটম চালক মো. সবুজ হত্যা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে ফেনীর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. সিরাজুদ্দৌলাহ কুতুবীর আদালতে প্রথম দিনে সাক্ষ্য দেন মামলার বাদী ও নিহত সবুজের ভাই মো. ইউছুফ।
আদালত সূত্র জানায়, সাক্ষ্য দেওয়ার সময় বাদী মো. ইউছুফ বলেন, তার চোখের সামনেই সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা গুলি করে তার ভাই সবুজকে হত্যা করে। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন। দায়রা-৩৫৭/২০২৬ নম্বর মামলায় আজ এই সাক্ষ্য গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মহিপালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের গুলিবর্ষণে বেশ কয়েকজন প্রাণ হারান। ওই ঘটনায় ফেনী মডেল থানায় ও আদালতে মোট ২৪টি মামলা করা হয়। এর মধ্যে ৭টি হত্যা এবং ১৭টি হত্যাচেষ্টা ও সহিংসতার মামলা। এই প্রথম কোনো একটি মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হলো।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন ভূঞা বলেন, ‘কারা আসামি সেটি বড় কথা নয়, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে-এটাই ফেনীবাসীর প্রত্যাশা।’
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট সবুজের ভাই মো. ইউছুফ বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় মামলা করেন। এতে ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা নিজাম উদ্দিন হাজারী, সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শুসেন চন্দ্র শীল, সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজীসহ ৬২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাত আসামি করা হয় আরও ৩০০ থেকে ৪০০ জনকে।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত বছরের ৯ ডিসেম্বর ১২৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেয় পুলিশ। আদালত গত ৫ মে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্য গ্রহণের আদেশ দেন। মামলার এজাহারনামীয় ৬২ জনের মধ্যে বর্তমানে ৪৪ জন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীসহ পলাতক ৭১ আসামির বিরুদ্ধে গত বছরের ২২ ডিসেম্বর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আদালত।
আপনার মতামত লিখুন