সংবাদ

কয়েকশ’ মিটার সড়কের জন্য দিনভর ২০ কিমি যানজট


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, কুমিল্লা
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, কুমিল্লা
প্রকাশ: ৭ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৬ পিএম

কয়েকশ’ মিটার সড়কের জন্য দিনভর ২০ কিমি যানজট
লাখো যাত্রীর ছুটির দিন মাটি হলো কুমিল্লা মহাসড়কে। ছবি: প্রতিনিধি

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে সংস্কারকাজের ধীরগতি এবং টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট খানাখন্দের কারণে দিনভর যানজটের চরম ভোগান্তিতে যাত্রী ও পরিবহন চালক -শ্রমিকদের নাকাল অবস্থার সৃষ্টি হয়।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভোরে ছুটির দিনে শুরু হওয়া থেমে থেমে যানজট অন্তত ১৫-২০ কিলোমিটার ছড়িয়ে পড়ে।

হাইওয়ে পুলিশ বলছে, এ মহাসড়কের আদর্শ সদর উপজেলার আমতলী এলাকায় সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের সংস্কার কাজের ধীরগতির কারণে যানজট তৈরি হয়। গাড়ির চাপ বেড়ে ধীরগতিতে চলাচল করায় উভয় লেনে যানজটে যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন পরিবহনের চালকরা জানান, আমতলীতে মাত্র আধা কিলোমিটার মহাসড়কে মাসের পর মাস চলছে সংস্কার কাজ। তার ওপর টানা বৃষ্টিতে সড়কের বিভিন্নস্থানে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে যানজট ছড়িয়ে পড়ে।

শুক্রবার ভোর রাত থেকে যানজটের সৃষ্টি  হয়। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ঢাকামুখী লেনে যানবাহনের চাপ বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।  পরে দুপুরের দিকে উভয় লেনে যানজট ছড়িয়ে পড়ে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন এই রুটে চলাচলকারী সাধারণ যাত্রী ও চালকেরা।

ফেনী থেকে প্রাইভেটকারে পরিবার নিয়ে ঢাকায় ফেরা ব্যবসায়ী আলমাস খান বলেন, দুপুর ১২টার দিকে মহাসড়কের পদুয়ার বাজারে এসে যানজটে আটকা পড়েন। ময়নামতি আসতে সময় লাগে আড়াই ঘণ্টা। এসময়ে তার রাজধানীতে পৌঁছার কথা। যানজটে অনেক রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স আটকে থাকতে দেখা যায়।

কুমিল্লা থেকে ঢাকায় যাওয়া মিয়ামী পরিবহনের চালক নাজমুল হাসান বলেন, বাস স্টেশন থেকে বের হয়ে চান্দিনায় পৌঁছাতে সময় গেছে প্রায় ৩ ঘণ্টা। 

ময়নামতিক্রসিং হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট নাজমুল হাসান জানান, সংস্কার কাজের জন্য সড়কে গাড়ির জটলা সৃস্টি হয়। ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে যানজট ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে, ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানা থেকে হাইওয়ে কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার বরাবরে শুক্রবার সকালে প্রেরিত এক জরুরি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়,  ‘মহাসড়কের আমতলী (কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের নিকট) এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে রাস্তায় বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ঢাকামুখী লেনে যানবাহন থামিয়ে থেমে থেমে ধীরগতিতে চলাচল করছে। ঢাকামুখী লেনে জট তীব্র হওয়ায় অনেক যানবাহন বাধ্য হয়ে উল্টো পথে যাওয়ার চেষ্টা করছে, যার প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রামমুখী লেনেও। এতে মহাসড়কের উভয় পথেই যানজট ছড়িয়ে পড়ছে।

যানজট নিরসন ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশের ২টি মোবাইল টিমসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বাড়তি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আমতলী অংশের এই বেহাল দশা ও খানাখন্দ দ্রুত মেরামতের জন্য সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরকে বারবার অবহিত করা হলেও তারা স্থায়ী বা অস্থায়ী কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে প্রতিদিনই এ স্থানে সাধারণ সড়ক ব্যবহারকারীদের তীব্র ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

কুমিল্লা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. তাজুল ইসলাম বলেন, গত ৩-৪ মাস ধরে ময়নামতি সংলগ্ন আমতলী এলাকায় কয়েকশ মিটার সড়কের সংস্কার কাজ চলে আসছে। সময়মতো কাজ হলে এখন আর এ ভোগান্তি হতো না।

হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কীর্তিমান চাকমা জানান, গত তিন-চার সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে মহাসড়কের আমতলী এলাকার অংশটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সওজকে সড়ক সংস্কার করতে অনুরোধ করা হয়েছে। কাজ শেষ না হওয়ায় গত দুই দিনেই এই অংশে অন্তত চারটি মালবাহী ট্রাক গর্তে আটকে যায়, যা রেকার দিয়ে সরাতে গিয়ে দীর্ঘ সময় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। 

যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম ভোর থেকে কাজ করছে।

কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, বৃষ্টির কারণে জরুরি সংস্কার কাজ বিঘ্ন ঘটেছে। এরপরেও কাজ থেমে নেই। শিগগিরই সেখানে সংস্কার কাজ সম্পন্ন হলে জনভোগান্তি নিরসন হবে। 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬


কয়েকশ’ মিটার সড়কের জন্য দিনভর ২০ কিমি যানজট

প্রকাশের তারিখ : ০৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে সংস্কারকাজের ধীরগতি এবং টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট খানাখন্দের কারণে দিনভর যানজটের চরম ভোগান্তিতে যাত্রী ও পরিবহন চালক -শ্রমিকদের নাকাল অবস্থার সৃষ্টি হয়।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভোরে ছুটির দিনে শুরু হওয়া থেমে থেমে যানজট অন্তত ১৫-২০ কিলোমিটার ছড়িয়ে পড়ে।

হাইওয়ে পুলিশ বলছে, এ মহাসড়কের আদর্শ সদর উপজেলার আমতলী এলাকায় সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের সংস্কার কাজের ধীরগতির কারণে যানজট তৈরি হয়। গাড়ির চাপ বেড়ে ধীরগতিতে চলাচল করায় উভয় লেনে যানজটে যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন পরিবহনের চালকরা জানান, আমতলীতে মাত্র আধা কিলোমিটার মহাসড়কে মাসের পর মাস চলছে সংস্কার কাজ। তার ওপর টানা বৃষ্টিতে সড়কের বিভিন্নস্থানে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে যানজট ছড়িয়ে পড়ে।

শুক্রবার ভোর রাত থেকে যানজটের সৃষ্টি  হয়। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ঢাকামুখী লেনে যানবাহনের চাপ বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।  পরে দুপুরের দিকে উভয় লেনে যানজট ছড়িয়ে পড়ে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন এই রুটে চলাচলকারী সাধারণ যাত্রী ও চালকেরা।

ফেনী থেকে প্রাইভেটকারে পরিবার নিয়ে ঢাকায় ফেরা ব্যবসায়ী আলমাস খান বলেন, দুপুর ১২টার দিকে মহাসড়কের পদুয়ার বাজারে এসে যানজটে আটকা পড়েন। ময়নামতি আসতে সময় লাগে আড়াই ঘণ্টা। এসময়ে তার রাজধানীতে পৌঁছার কথা। যানজটে অনেক রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স আটকে থাকতে দেখা যায়।

কুমিল্লা থেকে ঢাকায় যাওয়া মিয়ামী পরিবহনের চালক নাজমুল হাসান বলেন, বাস স্টেশন থেকে বের হয়ে চান্দিনায় পৌঁছাতে সময় গেছে প্রায় ৩ ঘণ্টা। 

ময়নামতিক্রসিং হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট নাজমুল হাসান জানান, সংস্কার কাজের জন্য সড়কে গাড়ির জটলা সৃস্টি হয়। ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে যানজট ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে, ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানা থেকে হাইওয়ে কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার বরাবরে শুক্রবার সকালে প্রেরিত এক জরুরি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়,  ‘মহাসড়কের আমতলী (কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের নিকট) এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে রাস্তায় বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ঢাকামুখী লেনে যানবাহন থামিয়ে থেমে থেমে ধীরগতিতে চলাচল করছে। ঢাকামুখী লেনে জট তীব্র হওয়ায় অনেক যানবাহন বাধ্য হয়ে উল্টো পথে যাওয়ার চেষ্টা করছে, যার প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রামমুখী লেনেও। এতে মহাসড়কের উভয় পথেই যানজট ছড়িয়ে পড়ছে।

যানজট নিরসন ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশের ২টি মোবাইল টিমসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বাড়তি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আমতলী অংশের এই বেহাল দশা ও খানাখন্দ দ্রুত মেরামতের জন্য সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরকে বারবার অবহিত করা হলেও তারা স্থায়ী বা অস্থায়ী কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে প্রতিদিনই এ স্থানে সাধারণ সড়ক ব্যবহারকারীদের তীব্র ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

কুমিল্লা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. তাজুল ইসলাম বলেন, গত ৩-৪ মাস ধরে ময়নামতি সংলগ্ন আমতলী এলাকায় কয়েকশ মিটার সড়কের সংস্কার কাজ চলে আসছে। সময়মতো কাজ হলে এখন আর এ ভোগান্তি হতো না।

হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কীর্তিমান চাকমা জানান, গত তিন-চার সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে মহাসড়কের আমতলী এলাকার অংশটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সওজকে সড়ক সংস্কার করতে অনুরোধ করা হয়েছে। কাজ শেষ না হওয়ায় গত দুই দিনেই এই অংশে অন্তত চারটি মালবাহী ট্রাক গর্তে আটকে যায়, যা রেকার দিয়ে সরাতে গিয়ে দীর্ঘ সময় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। 

যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম ভোর থেকে কাজ করছে।

কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, বৃষ্টির কারণে জরুরি সংস্কার কাজ বিঘ্ন ঘটেছে। এরপরেও কাজ থেমে নেই। শিগগিরই সেখানে সংস্কার কাজ সম্পন্ন হলে জনভোগান্তি নিরসন হবে। 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত