ফেনীর ফুলগাজীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মা ও মেয়ের নিথর দেহ হিমায়িত ভ্যানে (ফ্রিজার ভ্যান) পাশাপাশি রাখা হয়েছে। শেষবারের মতো তাদের মুখ দেখতে সৌদি আরব ও ইতালি থেকে দেশে ফিরছেন তাদের স্বামীরা। তাদের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে শোকস্তব্ধ পরিবার ও স্বজনরা। পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
গত শনিবার রাতে ফেনী-বিলোনিয়া আঞ্চলিক সড়কের ফুলগাজী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। একটি পিকআপ ভ্যান ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন জাকিয়া আক্তার (৩৮) ও তার বড় মেয়ে ওয়াহিদা আক্তার জুহা (২০)। এই দুর্ঘটনায় মোহাম্মদ কাউসার (৩২) নামে অটোরিকশার আরও একজন আরোহী নিহত হন।
নিহত জাকিয়া আক্তার উপজেলার উত্তর আনন্দপুর গ্রামের সৌদি প্রবাসী নূরের ছফা মজুমদার সোহেলের স্ত্রী। স্বজনরা জানান, শনিবার সকালে ক্যানসারে আক্রান্ত ননদকে দেখতে বাড়ি থেকে মেয়েসহ বের হয়েছিলেন জাকিয়া। রাতে বাড়ি ফেরার পথে তারা দুর্ঘটনার শিকার হন। জাকিয়ার বড় ছেলে সৌরভ ও ছোট মেয়ে জিদনি মা-বোনকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জাকিয়া আক্তারের স্বামী নূরের ছফা দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে সৌদি আরবে কর্মরত। স্ত্রী ও মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি গতকাল রোববার দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। কাকতালীয়ভাবে, ঠিক ১৪ বছর আগে এই ২৭ জুন তারিখেই তিনি তার মাকে হারিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, মাত্র আট মাস আগে বিয়ে হওয়া মেয়ে ওয়াহিদা আক্তার জুহার স্বামী কাজী আজাদ হোসেন একজন ইতালি প্রবাসী। বিয়ের এক সপ্তাহ পরই তিনি কর্মস্থলে ফিরে যান। আগামী ১২ জুলাই স্ত্রীকে নিয়ে তার ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। স্ত্রীর অকালমৃত্যুর খবরে সব স্বপ্ন ভেঙে গেছে তার। তিনিও জরুরি ভিত্তিতে দেশে ফিরছেন।
স্বজনরা জানান, দুই প্রবাসি স্বামী দেশে পৌঁছানোর পর আজ সোমবার জানাজা শেষে আনন্দপুর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে মা ও মেয়েকে পাশাপাশি দাফন করা হবে।
এদিকে দুর্ঘটনার পরদিন রোববার নিহত কাউসারের বাবা আবুল কালাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা পিকআপ চালকের বিরুদ্ধে ফুলগাজী থানায় মামলা করেছেন। ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আপনার মতামত লিখুন