সংবাদ

ম‌্যা‌চের আগে কি চিন্তা কর‌ছে জার্মানি ও প্যারাগুয়ের কোচ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০১:৩৩ এএম

ম‌্যা‌চের আগে কি চিন্তা কর‌ছে জার্মানি ও প্যারাগুয়ের কোচ

  • আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলকে হারালে জার্মানিকেও সম্ভব: হুঙ্কার প্যারাগুয়ে কোচের

  • জয়ের বিকল্প দেখছেন না জার্মানির নাগেলসমান
​বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানি ও লড়াকু প্যারাগুয়ে। গ্রুপ পর্বে সেরা তৃতীয় দল হয়ে নকআউট রাউন্ড নিশ্চিত করা প্যারাগুয়ে এবার সামনে পেয়েছে শক্তিশালী জার্মানদের।

তবে প্রতিপক্ষ যতই শক্তিশালী হোক না কেন, বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলকে হারানোর সুখস্মৃতি থেকে অনুপ্রেরণা খুঁজছে লাতিন আমেরিকার দলটি।

অন্যদিকে শেষ ম্যাচে ইকুয়েডরের কাছে হেরে সমালোচনার মুখে পড়া জার্মানি এই ম্যাচ জিতে সব সমালোচনার জবাব দিতে মরিয়া।

ম্যাচের আগে ফক্সবরোর জিলেট স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে প্যারাগুয়ের আর্জেন্টাইন কোচ গুস্তাভো আলফারো জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচটিকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, "আমরা এর আগেও আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের মতো দলের মুখোমুখি হয়েছি, যাদের মান জার্মানির সমান বা তার চেয়েও বেশি। তারা সবাই বিশ্বকাপ জয়ের দাবিদার। আমরা তাদের মুখোমুখি হয়েছি এবং নিঃসন্দেহে তা অত্যন্ত কঠিন ছিল, কিন্তু আমরা তাদের বাধা অতিক্রম করতে পেরেছি। তাহলে এবার কেন পারবো না?"

​গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অতি-রক্ষণাত্মক কৌশল ব্যবহারের কারণে সমালোচিত হয়েছিলেন আলফারো। সেই সমালোচনার জবাবে কিছুটা ব্যঙ্গাত্মক সুরে তিনি বলেন, "পারাগুয়েই হয়তো একমাত্র জায়গা যেখানে পরবর্তী ধাপে আমাদের উত্তীর্ণ হওয়াটা উদযাপন করা হয়নি। কারণ আমরা দ্বিতীয় হয়ে যোগ্যতা অর্জন করিনি আর কোচ নাকি ভীতু। প্যারাগুয়ের মানুষ যখন টেলিভিশনে বিশ্বকাপ দেখছিল, তখন অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপে খেলছিল। আর আমি বলি, শুধু কোনোভাবে জিততে হবে বলেই কেন আমাদের যেকোনো উপায়ে প্রতিপক্ষকে হারাতে হবে?"

রক্ষণভাগের শক্তিমত্তার ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, "যেসব দল বলের দখল বেশি রাখবে, তারাই সবচেয়ে দূর পর্যন্ত যাবে। কিন্তু তাদের যদি রক্ষণাত্মক শক্তির অভাব থাকে তবে তাদের জন্য কঠিন হবে। তাহলে শেষ পর্যন্ত কারা সফল হবে? যাদের রক্ষণভাগ সবচেয়ে শক্তিশালী।"

এছাড়া তার অন্যতম বড় সমালোচক হোসে লুইস চিলাভার্টকে উদ্দেশ্য করে কোচ বলেন, "আমি চাচ্ছিলাম চিলাভার্ট একা একা সমালোচনা না করে যেন আমাকে ফোন করেন এবং অরল্যান্ডো গিলের সাথে এসে কথা বলেন। জাতীয় দলের দরজা তার জন্য খোলা রয়েছে।"

অপরদিকে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ইকুয়েডরের কাছে হেরে যাওয়াকে 'কৌশলগত আত্মহত্যা' বলে উল্লেখ করেছেন জার্মান কোচ জুলিয়ান নাগেলসমান। তবে সেসব ভুলে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে জয়কেই একমাত্র লক্ষ্য বানিয়েছেন তিনি। নাগেলসমান বলেন, "জার্মান জাতীয় দল মানেই প্রতিটি ম্যাচ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামা। আগামীকালের ম্যাচেও আমাদের লক্ষ্য একটাই, জয়।"

সমালোচনার জবাব ও দলের পরিকল্পনা নিয়ে জার্মান কোচ বলেন, "প্রত্যাশার চাপ সামলানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হলো নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখা। খেলোয়াড়দের এমন একটি পরিকল্পনা দেওয়া, যাতে তারা মাঠে স্বচ্ছন্দ বোধ করে, নিজেদের সামর্থ্য দেখাতে পারে এবং ম্যাচ জিততে পারে। ফুটবলে সবকিছুই জয়ের ওপর নির্ভর করে। জিতলে সবকিছু নিখুঁত মনে হয়, আর হারলেই সবাই বলে সবকিছু বাজে। তাই আগামীকাল আমাদের জিততেই হবে।"

দলের প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তিনি বলেন, "আগামীকাল আমাদের নিখুঁত একটি পারফরম্যান্স দরকার। অনুশীলনে ছেলেদের দেখে আমি খুবই খুশি। আমার বিশ্বাস, তারা নিজেদের সেরাটাই মাঠে উপহার দেবে।"

এই ম্যাচে স্ট্রাইকার পজিশনে কাই হাভার্টজের ওপরই আস্থা রাখছেন কোচ। বড় মঞ্চে খেলার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী হাভার্টজ বলেন, "বড় ম্যাচগুলো আমি সবসময় উপভোগ করি। কেন জানি না, কিন্তু এমন মঞ্চে আমি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। আশা করছি, বিশ্বকাপের মতো বড় আসরেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারবো।"

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬


ম‌্যা‌চের আগে কি চিন্তা কর‌ছে জার্মানি ও প্যারাগুয়ের কোচ

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬

featured Image

  • আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলকে হারালে জার্মানিকেও সম্ভব: হুঙ্কার প্যারাগুয়ে কোচের

  • জয়ের বিকল্প দেখছেন না জার্মানির নাগেলসমান
​বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানি ও লড়াকু প্যারাগুয়ে। গ্রুপ পর্বে সেরা তৃতীয় দল হয়ে নকআউট রাউন্ড নিশ্চিত করা প্যারাগুয়ে এবার সামনে পেয়েছে শক্তিশালী জার্মানদের।

তবে প্রতিপক্ষ যতই শক্তিশালী হোক না কেন, বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলকে হারানোর সুখস্মৃতি থেকে অনুপ্রেরণা খুঁজছে লাতিন আমেরিকার দলটি।

অন্যদিকে শেষ ম্যাচে ইকুয়েডরের কাছে হেরে সমালোচনার মুখে পড়া জার্মানি এই ম্যাচ জিতে সব সমালোচনার জবাব দিতে মরিয়া।

ম্যাচের আগে ফক্সবরোর জিলেট স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে প্যারাগুয়ের আর্জেন্টাইন কোচ গুস্তাভো আলফারো জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচটিকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, "আমরা এর আগেও আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের মতো দলের মুখোমুখি হয়েছি, যাদের মান জার্মানির সমান বা তার চেয়েও বেশি। তারা সবাই বিশ্বকাপ জয়ের দাবিদার। আমরা তাদের মুখোমুখি হয়েছি এবং নিঃসন্দেহে তা অত্যন্ত কঠিন ছিল, কিন্তু আমরা তাদের বাধা অতিক্রম করতে পেরেছি। তাহলে এবার কেন পারবো না?"

​গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অতি-রক্ষণাত্মক কৌশল ব্যবহারের কারণে সমালোচিত হয়েছিলেন আলফারো। সেই সমালোচনার জবাবে কিছুটা ব্যঙ্গাত্মক সুরে তিনি বলেন, "পারাগুয়েই হয়তো একমাত্র জায়গা যেখানে পরবর্তী ধাপে আমাদের উত্তীর্ণ হওয়াটা উদযাপন করা হয়নি। কারণ আমরা দ্বিতীয় হয়ে যোগ্যতা অর্জন করিনি আর কোচ নাকি ভীতু। প্যারাগুয়ের মানুষ যখন টেলিভিশনে বিশ্বকাপ দেখছিল, তখন অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপে খেলছিল। আর আমি বলি, শুধু কোনোভাবে জিততে হবে বলেই কেন আমাদের যেকোনো উপায়ে প্রতিপক্ষকে হারাতে হবে?"

রক্ষণভাগের শক্তিমত্তার ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, "যেসব দল বলের দখল বেশি রাখবে, তারাই সবচেয়ে দূর পর্যন্ত যাবে। কিন্তু তাদের যদি রক্ষণাত্মক শক্তির অভাব থাকে তবে তাদের জন্য কঠিন হবে। তাহলে শেষ পর্যন্ত কারা সফল হবে? যাদের রক্ষণভাগ সবচেয়ে শক্তিশালী।"

এছাড়া তার অন্যতম বড় সমালোচক হোসে লুইস চিলাভার্টকে উদ্দেশ্য করে কোচ বলেন, "আমি চাচ্ছিলাম চিলাভার্ট একা একা সমালোচনা না করে যেন আমাকে ফোন করেন এবং অরল্যান্ডো গিলের সাথে এসে কথা বলেন। জাতীয় দলের দরজা তার জন্য খোলা রয়েছে।"

অপরদিকে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ইকুয়েডরের কাছে হেরে যাওয়াকে 'কৌশলগত আত্মহত্যা' বলে উল্লেখ করেছেন জার্মান কোচ জুলিয়ান নাগেলসমান। তবে সেসব ভুলে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে জয়কেই একমাত্র লক্ষ্য বানিয়েছেন তিনি। নাগেলসমান বলেন, "জার্মান জাতীয় দল মানেই প্রতিটি ম্যাচ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামা। আগামীকালের ম্যাচেও আমাদের লক্ষ্য একটাই, জয়।"

সমালোচনার জবাব ও দলের পরিকল্পনা নিয়ে জার্মান কোচ বলেন, "প্রত্যাশার চাপ সামলানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হলো নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখা। খেলোয়াড়দের এমন একটি পরিকল্পনা দেওয়া, যাতে তারা মাঠে স্বচ্ছন্দ বোধ করে, নিজেদের সামর্থ্য দেখাতে পারে এবং ম্যাচ জিততে পারে। ফুটবলে সবকিছুই জয়ের ওপর নির্ভর করে। জিতলে সবকিছু নিখুঁত মনে হয়, আর হারলেই সবাই বলে সবকিছু বাজে। তাই আগামীকাল আমাদের জিততেই হবে।"

দলের প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তিনি বলেন, "আগামীকাল আমাদের নিখুঁত একটি পারফরম্যান্স দরকার। অনুশীলনে ছেলেদের দেখে আমি খুবই খুশি। আমার বিশ্বাস, তারা নিজেদের সেরাটাই মাঠে উপহার দেবে।"

এই ম্যাচে স্ট্রাইকার পজিশনে কাই হাভার্টজের ওপরই আস্থা রাখছেন কোচ। বড় মঞ্চে খেলার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী হাভার্টজ বলেন, "বড় ম্যাচগুলো আমি সবসময় উপভোগ করি। কেন জানি না, কিন্তু এমন মঞ্চে আমি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। আশা করছি, বিশ্বকাপের মতো বড় আসরেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারবো।"


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত