সংবাদ

৫০ বার আশ্বাস, তবুও হলো না পদোন্নতি


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, রংপুর
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, রংপুর
প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম

৫০ বার আশ্বাস, তবুও হলো না পদোন্নতি
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পদোন্নতির দাবিতে আবারও আন্দোলনে নেমেছেন কর্মকর্তারা। ছবি : সংবাদ

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে। উপাচার্য অধ্যাপক মো. শওকাত আলীর বিরুদ্ধে ‘প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের’ অভিযোগ তুলে আবারও অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছেন তারা। কর্মকর্তাদের দাবি, গত কয়েক মাসে অন্তত ৫০ বার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বারবার আশ্বাস পেলেও শেষ পর্যন্ত পদোন্নতির দেখা মেলেনি।

সোমবার (২৯ জুন) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় উপাচার্যের দপ্তরের সামনে এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। এর আগে রোববার পদোন্নতি বোর্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা না হওয়ায় রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন আন্দোলনরত কর্মকর্তারা।

অবস্থান কর্মসূচিতে একাডেমিক শাখার সহকারী কম্পিউটার প্রোগ্রামার মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা পদোন্নতির ন্যায্য দাবিতে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ বার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রতিবারই আমাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বারবার বোর্ড বসানোর কথা বলে গড়িমসি করছে। উপাচার্য বর্তমানে একটি নির্দিষ্ট বলয়ের মধ্যে আবদ্ধ হয়ে পড়েছেন।’

আন্দোলনকারী কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা যায়, এর আগে পদোন্নতি বোর্ড গঠনের জন্য ৯ জুন এবং পরে ১৬ জুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু উপাচার্যের বিদেশ সফরের কারণে তা স্থগিত করা হয়। এরপর উপাচার্য বিদেশ থেকে ফিরে ২৮ জুন বোর্ড করার চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। কর্মকর্তারা এই পরিস্থিতিকে ‘প্রতারণা’ ও ‘বৈষম্যমূলক আচরণ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক মো. ফেরদৌস রহমান ভিন্ন কথা বলছেন। তিনি বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কেবল নতুন নিয়োগ নয়, পদোন্নতির ক্ষেত্রেও এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় বোর্ড করা সম্ভব হচ্ছে না।’

রেজিস্ট্রারের এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে কর্মকর্তারা বলেন, মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যদি পদোন্নতির ওপরও নিষেধাজ্ঞা থাকতো, তবে প্রশাসন কেন বারবার তারিখ দিয়ে তাদের আশ্বাস দিয়েছিল-এমন প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক মো. শওকাত আলীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, একটি সভায় ব্যস্ত থাকায় এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানাবেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬


৫০ বার আশ্বাস, তবুও হলো না পদোন্নতি

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬

featured Image

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে। উপাচার্য অধ্যাপক মো. শওকাত আলীর বিরুদ্ধে ‘প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের’ অভিযোগ তুলে আবারও অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছেন তারা। কর্মকর্তাদের দাবি, গত কয়েক মাসে অন্তত ৫০ বার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বারবার আশ্বাস পেলেও শেষ পর্যন্ত পদোন্নতির দেখা মেলেনি।

সোমবার (২৯ জুন) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় উপাচার্যের দপ্তরের সামনে এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। এর আগে রোববার পদোন্নতি বোর্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা না হওয়ায় রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন আন্দোলনরত কর্মকর্তারা।

অবস্থান কর্মসূচিতে একাডেমিক শাখার সহকারী কম্পিউটার প্রোগ্রামার মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা পদোন্নতির ন্যায্য দাবিতে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ বার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রতিবারই আমাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বারবার বোর্ড বসানোর কথা বলে গড়িমসি করছে। উপাচার্য বর্তমানে একটি নির্দিষ্ট বলয়ের মধ্যে আবদ্ধ হয়ে পড়েছেন।’

আন্দোলনকারী কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা যায়, এর আগে পদোন্নতি বোর্ড গঠনের জন্য ৯ জুন এবং পরে ১৬ জুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু উপাচার্যের বিদেশ সফরের কারণে তা স্থগিত করা হয়। এরপর উপাচার্য বিদেশ থেকে ফিরে ২৮ জুন বোর্ড করার চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। কর্মকর্তারা এই পরিস্থিতিকে ‘প্রতারণা’ ও ‘বৈষম্যমূলক আচরণ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক মো. ফেরদৌস রহমান ভিন্ন কথা বলছেন। তিনি বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কেবল নতুন নিয়োগ নয়, পদোন্নতির ক্ষেত্রেও এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় বোর্ড করা সম্ভব হচ্ছে না।’

রেজিস্ট্রারের এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে কর্মকর্তারা বলেন, মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যদি পদোন্নতির ওপরও নিষেধাজ্ঞা থাকতো, তবে প্রশাসন কেন বারবার তারিখ দিয়ে তাদের আশ্বাস দিয়েছিল-এমন প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক মো. শওকাত আলীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, একটি সভায় ব্যস্ত থাকায় এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানাবেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত