ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নিহত হওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করা হয়েছে। রোববার (৮ মার্চ) ইরানের সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ নতুন সর্বোচ্চ নেতার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্য আয়াতুল্লাহ মোহাম্মদ-মেহদি মিরবাকেরি জানিয়েছেন, নতুন নেতা নির্বাচনের বিষয়ে ব্যাপক প্রচেষ্টার পর সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তিনি বলেন, এই কাজটি যথাযথ নির্ভুলতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়েছে, যাতে কোনো বিতর্কের সৃষ্টি না হয়। তবে নতুন সর্বোচ্চ নেতার নাম অবিলম্বে ঘোষণা করা হয়নি। মিরবাকেরি জানান, প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে কিছু বাধা রয়েছে এবং সেগুলো কাটিয়ে ওঠার পর নাম ঘোষণা করা হবে।
এর আগে ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যমে খামেনির পুত্র মোজতাবা খামেনির নাম নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আলোচিত হয়েছিল। ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস মোজতাবার পক্ষে চাপ প্রয়োগ করছে। ৫৬ বছর বয়সী মোজতাবা দীর্ঘদিন ধরে তার পিতার কার্যালয় পরিচালনায় ভূমিকা রেখেছেন এবং আইআরজিসির শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে জানা যায়।
কিন্তু মুম্বাইয়ে অবস্থিত ইরানের কনস্যুলেট জেনারেল এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে জানায়, এসব খবরের কোনো সরকারি সূত্র নেই এবং তা আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করা হচ্ছে।
ইরানের নতুন নেতা নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তিনি ইরানের পরবর্তী নেতা নির্বাচনে অবশ্যই ব্যক্তিগতভাবে জড়িত থাকতে চান এবং খামেনির পুত্র মোজতাবাকে নেতা হিসেবে মেনে নেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেন। ট্রাম্প বলেন, তিনি চান না যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতি পাঁচ বা দশ বছর পর পর একই সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।
এদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্যদের লক্ষ্য করে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। এক্স-এ ফার্সি ভাষায় দেওয়া এক পোস্টে তারা বলে, আমরা তাদের সবাইকে সতর্ক করছি যারা উত্তরসূরি নির্বাচনের সভায় অংশ নিতে চান, আমরা আপনাকেও লক্ষ্যবস্তু করতে দ্বিধা করব না। এটি একটি সতর্কবার্তা।
ইরানের শেষ শাহের পুত্র রেজা পাহলভি, যিনি ওয়াশিংটন এলাকায় নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন। তিনি এই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় বলেন, নতুন নেতা যিনিই হোন না কেন, তিনি বৈধতা পাবেন না। এই শাসনব্যবস্থার অপরাধমূলক রেকর্ডের সহযোগী হিসেবে বিবেচিত হবেন।
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ পরিষদ দেশের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের জন্য অনুমোদিত একমাত্র সংস্থা। এই পরিষদের সদস্যরা জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পরিষদের সদস্যরা কিভাবে ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন তা নিয়ে দুটি মত দেখা দিয়েছে। একদল মনে করেন পূর্ববর্তী তদন্তের ভিত্তিতেই ফল ঘোষণা করা উচিত, অন্যদল মনে করেন সদস্যদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরাসরি বৈঠক প্রয়োজন।
সূত্র: সিএনএন, আল-জাজিরা, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, রয়টার্স, এএফপি

মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ মার্চ ২০২৬
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নিহত হওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করা হয়েছে। রোববার (৮ মার্চ) ইরানের সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ নতুন সর্বোচ্চ নেতার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্য আয়াতুল্লাহ মোহাম্মদ-মেহদি মিরবাকেরি জানিয়েছেন, নতুন নেতা নির্বাচনের বিষয়ে ব্যাপক প্রচেষ্টার পর সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তিনি বলেন, এই কাজটি যথাযথ নির্ভুলতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়েছে, যাতে কোনো বিতর্কের সৃষ্টি না হয়। তবে নতুন সর্বোচ্চ নেতার নাম অবিলম্বে ঘোষণা করা হয়নি। মিরবাকেরি জানান, প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে কিছু বাধা রয়েছে এবং সেগুলো কাটিয়ে ওঠার পর নাম ঘোষণা করা হবে।
এর আগে ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যমে খামেনির পুত্র মোজতাবা খামেনির নাম নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আলোচিত হয়েছিল। ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস মোজতাবার পক্ষে চাপ প্রয়োগ করছে। ৫৬ বছর বয়সী মোজতাবা দীর্ঘদিন ধরে তার পিতার কার্যালয় পরিচালনায় ভূমিকা রেখেছেন এবং আইআরজিসির শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে জানা যায়।
কিন্তু মুম্বাইয়ে অবস্থিত ইরানের কনস্যুলেট জেনারেল এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে জানায়, এসব খবরের কোনো সরকারি সূত্র নেই এবং তা আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করা হচ্ছে।
ইরানের নতুন নেতা নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তিনি ইরানের পরবর্তী নেতা নির্বাচনে অবশ্যই ব্যক্তিগতভাবে জড়িত থাকতে চান এবং খামেনির পুত্র মোজতাবাকে নেতা হিসেবে মেনে নেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেন। ট্রাম্প বলেন, তিনি চান না যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতি পাঁচ বা দশ বছর পর পর একই সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।
এদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্যদের লক্ষ্য করে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। এক্স-এ ফার্সি ভাষায় দেওয়া এক পোস্টে তারা বলে, আমরা তাদের সবাইকে সতর্ক করছি যারা উত্তরসূরি নির্বাচনের সভায় অংশ নিতে চান, আমরা আপনাকেও লক্ষ্যবস্তু করতে দ্বিধা করব না। এটি একটি সতর্কবার্তা।
ইরানের শেষ শাহের পুত্র রেজা পাহলভি, যিনি ওয়াশিংটন এলাকায় নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন। তিনি এই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় বলেন, নতুন নেতা যিনিই হোন না কেন, তিনি বৈধতা পাবেন না। এই শাসনব্যবস্থার অপরাধমূলক রেকর্ডের সহযোগী হিসেবে বিবেচিত হবেন।
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ পরিষদ দেশের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের জন্য অনুমোদিত একমাত্র সংস্থা। এই পরিষদের সদস্যরা জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পরিষদের সদস্যরা কিভাবে ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন তা নিয়ে দুটি মত দেখা দিয়েছে। একদল মনে করেন পূর্ববর্তী তদন্তের ভিত্তিতেই ফল ঘোষণা করা উচিত, অন্যদল মনে করেন সদস্যদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরাসরি বৈঠক প্রয়োজন।
সূত্র: সিএনএন, আল-জাজিরা, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, রয়টার্স, এএফপি

আপনার মতামত লিখুন