সংবাদ

দাবানলে পুড়ছে ফ্রান্স-স্পেন, অসহায় মন্ত্রীরা


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম

দাবানলে পুড়ছে ফ্রান্স-স্পেন, অসহায় মন্ত্রীরা
দুই লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ ও শুষ্ক আবহাওয়ার মধ্যে ফ্রান্স ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছে দমকল বাহিনী। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় দুই দেশেই দুই লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, দেশের ইতিহাসে এত বড় আকারের দাবানল আগে দেখা যায়নি।

তীব্র দাবদাহ ও প্রবল বাতাসের কারণে ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চলে আগুনের ভয়াবহতা চরমে পৌঁছেছে। গত কয়েকদিন ধরে ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালির বিস্তীর্ণ অঞ্চল জ্বলছে। ইউরোপীয় স্যাটেলাইট ব্যবস্থার তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের গ্রীষ্মের অর্ধেকও শেষ হয়নি; এরই মধ্যে ইউরোপের যে পরিমাণ এলাকা দাবানলে পুড়েছে, তা গত ২০ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে উপকূলীয় এলাকা থেকে ছড়িয়ে পড়া আগুন এখন বোর্দো শহরের উপকণ্ঠ পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। গিরোন্দ ও লঁদ অঞ্চলে প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুনের কারণে বোর্দো বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ সতর্ক করে বলেছেন, প্রবল বাতাস ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। আগুন নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ শুক্রবার সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে সহায়তা চান।

স্পেনে রাজধানী মাদ্রিদের কাছাকাছি তিনটি বড় দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে দুটি আগুন একত্রিত হয়ে আরও বড় আকার নিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটি প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ে দাবানল জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে . প্রায় ৬৩ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বা ঘরের ভেতরে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।

মাদ্রিদের পশ্চিমে দুটি বড় দাবানল একত্রিত হয়ে আরও বড় আকার ধারণ করেছে। এতে পাশের একটি শহর হুমকির মুখে পড়েছে। মাদ্রিদ আঞ্চলিক সরকারের জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান কার্লোস নোভিও বলেছেন, রাজধানীর কাছের দাবানল এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তা অগ্নিনির্বাপণ কর্মীদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।

প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় আগুন নেভানোর কাজ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। স্পেনকে সহায়তা করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমন্বয়ে ইতালি ও গ্রিস থেকে অতিরিক্ত অগ্নিনির্বাপণ উড়োজাহাজ পাঠানো হয়েছে।

দাবানলের তাণ্ডব

শুধু ফ্রান্স ও স্পেন নয়, ইতালির সিসিলি দ্বীপেও একাধিক দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে আগুন নিয়ন্ত্রণে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন দমকলকর্মীরা। চলতি সপ্তাহে ফ্রান্স ও ইতালির দাবানলে তিনজন দমকলকর্মী নিহত হয়েছেন।

স্পেনের আভিলা প্রদেশে একটি ক্যাম্পসাইট আগুনে পুড়ে যাওয়ায় প্রায় ২০০ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ধোঁয়া ও ছাইয়ের কারণে বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার এবং প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।

আবহাওয়াবিদ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়া এবং শক্তিশালী বাতাস দাবানলের ঝুঁকি ও বিস্তার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত 'ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন'-এর এক গবেষণায় বলা হয়েছে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট খরা এ বছর দাবানলের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সে পর্যটক ও বাস্তুচ্যুত বাসিন্দাদের জন্য স্কুল ও ব্যায়ামাগারগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রূপান্তর করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬


দাবানলে পুড়ছে ফ্রান্স-স্পেন, অসহায় মন্ত্রীরা

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ ও শুষ্ক আবহাওয়ার মধ্যে ফ্রান্স ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছে দমকল বাহিনী। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় দুই দেশেই দুই লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, দেশের ইতিহাসে এত বড় আকারের দাবানল আগে দেখা যায়নি।

তীব্র দাবদাহ ও প্রবল বাতাসের কারণে ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চলে আগুনের ভয়াবহতা চরমে পৌঁছেছে। গত কয়েকদিন ধরে ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালির বিস্তীর্ণ অঞ্চল জ্বলছে। ইউরোপীয় স্যাটেলাইট ব্যবস্থার তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের গ্রীষ্মের অর্ধেকও শেষ হয়নি; এরই মধ্যে ইউরোপের যে পরিমাণ এলাকা দাবানলে পুড়েছে, তা গত ২০ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে উপকূলীয় এলাকা থেকে ছড়িয়ে পড়া আগুন এখন বোর্দো শহরের উপকণ্ঠ পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। গিরোন্দ ও লঁদ অঞ্চলে প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুনের কারণে বোর্দো বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ সতর্ক করে বলেছেন, প্রবল বাতাস ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। আগুন নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ শুক্রবার সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে সহায়তা চান।

স্পেনে রাজধানী মাদ্রিদের কাছাকাছি তিনটি বড় দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে দুটি আগুন একত্রিত হয়ে আরও বড় আকার নিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটি প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ে দাবানল জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে . প্রায় ৬৩ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বা ঘরের ভেতরে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।

মাদ্রিদের পশ্চিমে দুটি বড় দাবানল একত্রিত হয়ে আরও বড় আকার ধারণ করেছে। এতে পাশের একটি শহর হুমকির মুখে পড়েছে। মাদ্রিদ আঞ্চলিক সরকারের জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান কার্লোস নোভিও বলেছেন, রাজধানীর কাছের দাবানল এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তা অগ্নিনির্বাপণ কর্মীদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।

প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় আগুন নেভানোর কাজ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। স্পেনকে সহায়তা করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমন্বয়ে ইতালি ও গ্রিস থেকে অতিরিক্ত অগ্নিনির্বাপণ উড়োজাহাজ পাঠানো হয়েছে।

দাবানলের তাণ্ডব

শুধু ফ্রান্স ও স্পেন নয়, ইতালির সিসিলি দ্বীপেও একাধিক দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে আগুন নিয়ন্ত্রণে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন দমকলকর্মীরা। চলতি সপ্তাহে ফ্রান্স ও ইতালির দাবানলে তিনজন দমকলকর্মী নিহত হয়েছেন।

স্পেনের আভিলা প্রদেশে একটি ক্যাম্পসাইট আগুনে পুড়ে যাওয়ায় প্রায় ২০০ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ধোঁয়া ও ছাইয়ের কারণে বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার এবং প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।

আবহাওয়াবিদ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়া এবং শক্তিশালী বাতাস দাবানলের ঝুঁকি ও বিস্তার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত 'ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন'-এর এক গবেষণায় বলা হয়েছে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট খরা এ বছর দাবানলের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সে পর্যটক ও বাস্তুচ্যুত বাসিন্দাদের জন্য স্কুল ও ব্যায়ামাগারগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রূপান্তর করা হয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত