সাতক্ষীরা সদরসহ জেলার ৭টি উপজেলার বিভিন্ন বাজারে মাত্র ৩ দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজ ও রসুনের দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। হঠাৎ নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। ক্রেতারা বলছেন, বাজার তদারকি না থাকায় খুচরা বিক্রেতারা খেয়ালখুশিমতো দাম বাড়াচ্ছেন।বুধবার (২২ জুলাই) সাতক্ষীরার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বর্তমানে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা ৩ দিন আগে ছিল ৩৫ টাকা। অর্থাৎ ৩ দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে ১৫ টাকা। অন্যদিকে, ৭০ টাকার রসুন এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা দরে।বাজারে আসা ক্রেতারা ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। শহিদুজ্জামান নামের এক ক্রেতা বলেন, “কয়েক মাস পেঁয়াজ ও রসুনের দাম স্থিতিশীল ছিল। হঠাৎ করে দাম বেড়ে যাওয়ায় আমাদের মতো সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা প্রয়োজন।”দেবনগর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “৩ দিন আগে ২ কেজি পেঁয়াজ ৭০ টাকায় কিনেছিলাম। আজ সেই পেঁয়াজ ১০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। শুধু পেঁয়াজ-রসুন নয়, আদা ও আলুর দামও বাড়ছে।”পেশায় ভ্যানচালক সিরাজুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, “সব জিনিসের দাম বাড়ছে। আমাদের মতো সীমিত আয়ের মানুষ কীভাবে সংসার চালাবে?”ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ার পেছনে সরবরাহ সংকট ও বৃষ্টিকে দায়ী করছেন। কলারোয়া বাজারের আড়তদার আলাউদ্দিন জানান, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। সাতক্ষীরা বড় বাজারের ব্যবসায়ী আকবর হোসেন বলেন, “আমরা উত্তরবঙ্গ থেকে পেঁয়াজ-রসুন সংগ্রহ করি। সেখানে দাম বাড়ায় এখানেও দাম বেড়েছে। এ ছাড়া বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কিছুটা কমেছে।”ব্যবসায়ীদের একাংশ মনে করছেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হলে দাম আবার নিয়ন্ত্রণে আসবে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, সদর বাজারের তুলনায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাজারগুলোতে দাম আরও বেশি রাখা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ বাজার নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা ও নিয়মিত বাজার তদারকির দাবি জানিয়েছেন।\