সংবাদ

শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করবে না ভারত : আনন্দবাজার


ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৫ এএম

শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করবে না ভারত : আনন্দবাজার

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ফ্যাসিস্ট খ্যাত শেখ হাসিনাকে কোনো অবস্থাতেই বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর বা প্রত্যর্পণ করবে না ভারত। পশ্চিমবঙ্গের প্রভাবশালী সংবাদপত্র আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শেখ হাসিনা নিজেই আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন।

প্রকাশিত আনন্দবাজারের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, মাসখানেক আগে ভারতের গোয়েন্দা বাহিনীর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করেছে। ওই দলটির সদস্যরা বাংলাদেশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন, যেখানে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করার বিষয়টি আলোচনায় ওঠে।

প্রত্যর্পণ নিয়ে দিল্লির অবস্থান
আইনি পরিভাষায় ‘প্রত্যর্পণ’ হলো কোনো অভিযুক্ত বা অপরাধী ব্যক্তিকে এক দেশ থেকে অন্য দেশে হস্তান্তর করা। তবে ভারতের গোয়েন্দারা ঢাকার কর্মকর্তাদের স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, শেখ হাসিনাকে এই মুহূর্তে প্রত্যর্পণ করা হবে না। নয়াদিল্লির যুক্তি হলো, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, প্রত্যর্পণের অনুরোধ তখনই বিবেচনা করা যেতে পারে যখন আশ্রয়দাতা দেশ নিশ্চিত হয় যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আইনের যথাযথ প্রক্রিয়ায় বিচারের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। অর্থাৎ, যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়ায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে কাউকে হস্তান্তর করা ভারতের নীতির পরিপন্থী।

ডিসেম্বরে দেশে ফেরার আকাঙ্ক্ষা
প্রতিবেদনে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা নিজেই আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ভারত সরকার তাঁর এই ইচ্ছার বিষয়ে অবগত। তবে প্রতিনিধিদলটি ঢাকাকে মনে করিয়ে দিয়েছে, শেখ হাসিনা যদি দেশে ফেরেন, তবে তাঁর সঙ্গে যেন কোনো ধরনের ‘অসম্মানজনক’ আচরণ করা না হয়।

ভারতীয় প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ফেরার পর আওয়ামী লীগ নেত্রীকে যদি গ্রেপ্তার করা হয়, তবে তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং সুচিকিৎসার বিষয়ে যেন কোনো ঘাটতি না থাকে। তবে তিনি কোন পথে বা কীভাবে ফিরবেন, সেই পরিকল্পনা এখনো আওয়ামী লীগ চূড়ান্ত করতে পারেনি বলে ভারতীয় গোয়েন্দারা মনে করছেন।

নিরাপত্তা উদ্বেগ ও বেনজির ভুট্টো প্রসঙ্গ
সফরে ভারতীয় গোয়েন্দারা বাংলাদেশে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ‘লস্কর-এ-তইবা’র কয়েকজন সদস্যের উপস্থিতি নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে বর্তমানে অবস্থানরত এমন ছয়জন সদস্যের মধ্যে চারজন অতীতে কাশ্মীরে সক্রিয় ছিল। তারা হঠাৎ কেন বাংলাদেশে অবস্থান করছে, তা নিয়ে ভারত খোঁজখবর শুরু করেছে।

এই প্রসঙ্গে আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো হত্যার ট্র্যাজেডির কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। মূলত শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁর প্রাণহানির আশঙ্কা বা নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি বোঝাতেই এই ঐতিহাসিক ঘটনার উদাহরণ টানা হয়েছে।

গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। এরপর থেকে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ বিভিন্ন আদালতে শতাধিক হত্যা মামলা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে তাঁকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ভারতের এই সর্বশেষ অবস্থান সেই প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করল।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করবে না ভারত : আনন্দবাজার

প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ফ্যাসিস্ট খ্যাত শেখ হাসিনাকে কোনো অবস্থাতেই বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর বা প্রত্যর্পণ করবে না ভারত। পশ্চিমবঙ্গের প্রভাবশালী সংবাদপত্র আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শেখ হাসিনা নিজেই আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন।

প্রকাশিত আনন্দবাজারের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, মাসখানেক আগে ভারতের গোয়েন্দা বাহিনীর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করেছে। ওই দলটির সদস্যরা বাংলাদেশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন, যেখানে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করার বিষয়টি আলোচনায় ওঠে।

প্রত্যর্পণ নিয়ে দিল্লির অবস্থান
আইনি পরিভাষায় ‘প্রত্যর্পণ’ হলো কোনো অভিযুক্ত বা অপরাধী ব্যক্তিকে এক দেশ থেকে অন্য দেশে হস্তান্তর করা। তবে ভারতের গোয়েন্দারা ঢাকার কর্মকর্তাদের স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, শেখ হাসিনাকে এই মুহূর্তে প্রত্যর্পণ করা হবে না। নয়াদিল্লির যুক্তি হলো, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, প্রত্যর্পণের অনুরোধ তখনই বিবেচনা করা যেতে পারে যখন আশ্রয়দাতা দেশ নিশ্চিত হয় যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আইনের যথাযথ প্রক্রিয়ায় বিচারের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। অর্থাৎ, যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়ায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে কাউকে হস্তান্তর করা ভারতের নীতির পরিপন্থী।

ডিসেম্বরে দেশে ফেরার আকাঙ্ক্ষা
প্রতিবেদনে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা নিজেই আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ভারত সরকার তাঁর এই ইচ্ছার বিষয়ে অবগত। তবে প্রতিনিধিদলটি ঢাকাকে মনে করিয়ে দিয়েছে, শেখ হাসিনা যদি দেশে ফেরেন, তবে তাঁর সঙ্গে যেন কোনো ধরনের ‘অসম্মানজনক’ আচরণ করা না হয়।

ভারতীয় প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ফেরার পর আওয়ামী লীগ নেত্রীকে যদি গ্রেপ্তার করা হয়, তবে তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং সুচিকিৎসার বিষয়ে যেন কোনো ঘাটতি না থাকে। তবে তিনি কোন পথে বা কীভাবে ফিরবেন, সেই পরিকল্পনা এখনো আওয়ামী লীগ চূড়ান্ত করতে পারেনি বলে ভারতীয় গোয়েন্দারা মনে করছেন।

নিরাপত্তা উদ্বেগ ও বেনজির ভুট্টো প্রসঙ্গ
সফরে ভারতীয় গোয়েন্দারা বাংলাদেশে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ‘লস্কর-এ-তইবা’র কয়েকজন সদস্যের উপস্থিতি নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে বর্তমানে অবস্থানরত এমন ছয়জন সদস্যের মধ্যে চারজন অতীতে কাশ্মীরে সক্রিয় ছিল। তারা হঠাৎ কেন বাংলাদেশে অবস্থান করছে, তা নিয়ে ভারত খোঁজখবর শুরু করেছে।

এই প্রসঙ্গে আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো হত্যার ট্র্যাজেডির কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। মূলত শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁর প্রাণহানির আশঙ্কা বা নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি বোঝাতেই এই ঐতিহাসিক ঘটনার উদাহরণ টানা হয়েছে।

গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। এরপর থেকে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ বিভিন্ন আদালতে শতাধিক হত্যা মামলা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে তাঁকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ভারতের এই সর্বশেষ অবস্থান সেই প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করল।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত