গণভোটের রায় কার্যকর, ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন এবং জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে সারাদেশে বিক্ষোভ ও গণমিছিল করেছে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ ১১-দলীয় জোট। শনিবার (৪ জুলাই) দেশের বিভিন্ন জেলায় আয়োজিত এসব সমাবেশে বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডের কড়া সমালোচনা করেন জোটের শীর্ষ নেতারা। কোনো কোনো জেলায় বর্তমান সরকারকে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং সরকার’ আখ্যা দিয়ে ব্যাংক লুটপাটেরও অভিযোগ তোলা হয়।
চুয়াডাঙ্গা : চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির রুহুল আমিন বলেন, ‘দেশের ৭২ শতাংশ মানুষ জুলাই সনদের পক্ষে রায় দিয়েছে। কিন্তু বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পাওয়ার পর সেই সনদ অস্বীকার করছে। আমরা যেকোনো মূল্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করব।’ বিকেলে শহরের টাউন ফুটবল মাঠে গণমিছিল শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এতে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেলসহ জোটের নেতারা অংশ নেন।
বরিশাল : বরিশাল নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হল প্রাঙ্গণে আয়োজিত সমাবেশে মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর বলেন, গণভোট নিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হলে বর্তমান সরকারের পরিণতিও অতীতের সরকারগুলোর মতো হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন।
বান্দরবান : বান্দরবান জেলা জামায়াতের আমির এস এম আবদুছ ছালাম আজাদ অভিযোগ করেন, বর্তমান বিএনপি সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নয়, বরং ‘ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে। তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় এসেই আপনারা ব্যাংক লুটপাট শুরু করেছেন। আপনারা কি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা? জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে আরেকটি অভ্যুত্থান হবে, তখন পালানোর পথ পাবেন না।’
মুন্সীগঞ্জ ও ফেনী: জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে মুন্সীগঞ্জে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা আমির আ জ ম রুহুল কুদ্দুস বলেন, সরকারের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামী দোসররা জুলাই সনদকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। এদিকে ফেনীতেও ১১-দলীয় জোটের উদ্যোগে বিশাল গণমিছিল শহর প্রদক্ষিণ করে। সেখানে জামায়াতের জেলা আমির মুফতি আবদুল হান্নানসহ জোটের শরিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সারাদেশের এসব কর্মসূচিতে ১১-দলীয় জোটের নেতারা হুঁশিয়ারি দেন যে, জনগণের অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় রাজপথের আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন