রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তাপাড়ের মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নির্মিত হয়েছিল তীর সংরক্ষণ বাঁধ। ভেবেছিলেন, এবার হয়তো ঘুচবে নদীভাঙনের অভিশাপ। কিন্তু সেই স্বস্তি স্থায়ী হলো না। কাজ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক মাসের মাথায় তিস্তার তীব্র স্রোতে বিলীন হতে শুরু করেছে নতুন নির্মিত এই প্রতিরক্ষা বাঁধ। এতে আবারও ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি হারানোর শঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটছে প্রায় দেড় হাজার পরিবারের।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, গঙ্গাচড়া উপজেলার মর্ণেয়া ইউনিয়নের নরশিং এবং লালমনিরহাট সদরের হরিণচড়া এলাকার মানুষ গত কয়েক বছর ধরে তিস্তার ভাঙনে বারবার সর্বস্বান্ত হয়েছেন। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ত্রাণ উপদেষ্টা আসাদুল হাবিব দুলুর উদ্যোগে সম্প্রতি ওই এলাকায় তীর সংরক্ষণ কাজ বাস্তবায়ন করে পাউবো। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর একটি টেকসই বাঁধ পেয়ে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন স্থানীয়রা।
শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, লালমনিরহাটের আদর্শপাড়া থেকে গঙ্গাচড়ার তালপট্টি হয়ে নরশিং পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকায় এ তীর সংরক্ষণ কাজ করা হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে তিস্তার পানি ওঠানামা করায় নদী তীরবর্তী এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত রোববার থেকে তিস্তার তীব্র স্রোতে বাঁধটির বিভিন্ন স্থানে ধস শুরু হয়। ইতোমধ্যে বাঁধের প্রায় ১০০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে তালপট্টি এলাকার দেড় হাজার পরিবারের বসতভিটা, ফসলি জমি, ২ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১ টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হুমকির মুখে পড়েছে।
পশ্চিম হরিণচড়া এলাকার আব্দুল হাকিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দুলু মন্ত্রীক ধরি এদ্দিন পর বাঁধ হইলো। কয় মাসের মাথায় সেটাও যদি নদীত যায়, তাইলে হামারগুলার মরণ ছাড়া বুদ্দি নাই।’ নরশিং এলাকার মতলেব আলীর কণ্ঠেও একই হাহাকার, ‘বাঁধটা ভাইঙা গেলে ৩ গ্রামের মানুষ আবারও পথে বসবো। হামরা খুব আতঙ্কে আছি।’
হরিণচড়া গ্রামের গৃহবধূ সেলিনা বেগম বলেন, ‘দিনে কোনো রকমে সময় কাটে, কিন্তু রাইতে ভয় লাগে বেশি। বাচ্চাগুলারে নিয়ে ঘুমাইতে পারি না। মনে হয় কখন আবার নদী আইসা ঘরটা ভাসাইয়া নেয়। আর নতুন কইরা ঘর হারাইতে চাই না।’
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, বরাদ্দ সীমিত থাকায় প্রয়োজনীয় সব অংশে কাজ করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৬ হাজার জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
/

শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুলাই ২০২৬
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তাপাড়ের মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নির্মিত হয়েছিল তীর সংরক্ষণ বাঁধ। ভেবেছিলেন, এবার হয়তো ঘুচবে নদীভাঙনের অভিশাপ। কিন্তু সেই স্বস্তি স্থায়ী হলো না। কাজ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক মাসের মাথায় তিস্তার তীব্র স্রোতে বিলীন হতে শুরু করেছে নতুন নির্মিত এই প্রতিরক্ষা বাঁধ। এতে আবারও ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি হারানোর শঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটছে প্রায় দেড় হাজার পরিবারের।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, গঙ্গাচড়া উপজেলার মর্ণেয়া ইউনিয়নের নরশিং এবং লালমনিরহাট সদরের হরিণচড়া এলাকার মানুষ গত কয়েক বছর ধরে তিস্তার ভাঙনে বারবার সর্বস্বান্ত হয়েছেন। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ত্রাণ উপদেষ্টা আসাদুল হাবিব দুলুর উদ্যোগে সম্প্রতি ওই এলাকায় তীর সংরক্ষণ কাজ বাস্তবায়ন করে পাউবো। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর একটি টেকসই বাঁধ পেয়ে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন স্থানীয়রা।
শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, লালমনিরহাটের আদর্শপাড়া থেকে গঙ্গাচড়ার তালপট্টি হয়ে নরশিং পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকায় এ তীর সংরক্ষণ কাজ করা হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে তিস্তার পানি ওঠানামা করায় নদী তীরবর্তী এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত রোববার থেকে তিস্তার তীব্র স্রোতে বাঁধটির বিভিন্ন স্থানে ধস শুরু হয়। ইতোমধ্যে বাঁধের প্রায় ১০০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে তালপট্টি এলাকার দেড় হাজার পরিবারের বসতভিটা, ফসলি জমি, ২ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১ টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হুমকির মুখে পড়েছে।
পশ্চিম হরিণচড়া এলাকার আব্দুল হাকিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দুলু মন্ত্রীক ধরি এদ্দিন পর বাঁধ হইলো। কয় মাসের মাথায় সেটাও যদি নদীত যায়, তাইলে হামারগুলার মরণ ছাড়া বুদ্দি নাই।’ নরশিং এলাকার মতলেব আলীর কণ্ঠেও একই হাহাকার, ‘বাঁধটা ভাইঙা গেলে ৩ গ্রামের মানুষ আবারও পথে বসবো। হামরা খুব আতঙ্কে আছি।’
হরিণচড়া গ্রামের গৃহবধূ সেলিনা বেগম বলেন, ‘দিনে কোনো রকমে সময় কাটে, কিন্তু রাইতে ভয় লাগে বেশি। বাচ্চাগুলারে নিয়ে ঘুমাইতে পারি না। মনে হয় কখন আবার নদী আইসা ঘরটা ভাসাইয়া নেয়। আর নতুন কইরা ঘর হারাইতে চাই না।’
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, বরাদ্দ সীমিত থাকায় প্রয়োজনীয় সব অংশে কাজ করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৬ হাজার জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
/

আপনার মতামত লিখুন