সরকারি অনুষ্ঠানের মঞ্চ, ব্যানার কিংবা পোস্টার দীর্ঘদিন ধরেই যেখানে অবধারিতভাবে শোভা পেত প্রধানমন্ত্রীর বড় আকৃতির ছবি। তবে সেই চেনা চিত্রে এবার বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কোনো ধরনের ব্যক্তি-কেন্দ্রিক প্রচারণার বদলে প্রাধান্য পেয়েছে পরিবেশ ও প্রকৃতির নান্দনিক উপস্থাপনা।
এদিন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাধারণত প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকা তার ছবি সংবলিত ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে যাওয়ার রেওয়াজ থাকলেও, এই আয়োজনে ছিল তার ব্যতিক্রম।
মঞ্চের মূল ব্যানার, ডিজিটাল ডিসপ্লে কিংবা অনুষ্ঠানস্থলের চারপাশের দেয়ালে টাঙানো ২০টি ব্যানার-ফেস্টুনের কোথাও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করা হয়নি। পরিবর্তে পুরো মঞ্চজুড়ে স্থান পেয়েছে পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য বিষয়ক বিভিন্ন সচেতনতামূলক বার্তা ও নকশা।
আয়োজক সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি সরকারি প্রচারণার ক্ষেত্রে ব্যক্তি-কেন্দ্রিক উপস্থাপনার পরিবর্তে কর্মসূচি, জনসেবা ও অনুষ্ঠানের মূল বিষয়বস্তুকে গুরুত্ব দেওয়ার নতুন নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৫ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ একটি পরিপত্র জারি করে।
পরিপত্রে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়, সরকারি কোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রস্তুতকৃত ব্যানার, ফেস্টুন বা বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি (থ্রি-ডি বা অন্য কোনো আঙ্গিকে) ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এর পরিবর্তে অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য ও বার্তা যাতে সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়, সেভাবে নকশা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিষয়বস্তুর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য উপস্থাপনের ওপরই জোর দেওয়া হয়েছে এই নতুন নীতিমালায়।
অনুষ্ঠানের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন উপস্থিত দর্শকদের নজর কেড়েছে। সাভার থেকে আসা পরিবেশকর্মী সুলাইমান নিলয় বলেন, ‘এটি অত্যন্ত ইতিবাচক একটি পরিবর্তন। আগে দেখা যেত বড় ছবির কারণে অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্যই ঢাকা পড়ে যেত। আজ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী তার ছবি ছাড়াই অনুষ্ঠান হচ্ছে, যা আমাদের মুগ্ধ করেছে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সানজিদা খাতুন এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, ‘অতীতে ব্যক্তিপূজার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, প্রধানমন্ত্রী নিজে তা থেকে সরে আসার উদ্যোগ নিয়েছেন। এটি অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। এর ফলে অনুষ্ঠানের মূল বার্তা জনগণের কাছে আরও স্পষ্টভাবে পৌঁছাবে।’
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক এবং সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগের ফলে সরকারি প্রচারণার ধরনে একটি নতুন ও আধুনিক সংস্কৃতির সূচনা হলো।

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬
সরকারি অনুষ্ঠানের মঞ্চ, ব্যানার কিংবা পোস্টার দীর্ঘদিন ধরেই যেখানে অবধারিতভাবে শোভা পেত প্রধানমন্ত্রীর বড় আকৃতির ছবি। তবে সেই চেনা চিত্রে এবার বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কোনো ধরনের ব্যক্তি-কেন্দ্রিক প্রচারণার বদলে প্রাধান্য পেয়েছে পরিবেশ ও প্রকৃতির নান্দনিক উপস্থাপনা।
এদিন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাধারণত প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকা তার ছবি সংবলিত ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে যাওয়ার রেওয়াজ থাকলেও, এই আয়োজনে ছিল তার ব্যতিক্রম।
মঞ্চের মূল ব্যানার, ডিজিটাল ডিসপ্লে কিংবা অনুষ্ঠানস্থলের চারপাশের দেয়ালে টাঙানো ২০টি ব্যানার-ফেস্টুনের কোথাও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করা হয়নি। পরিবর্তে পুরো মঞ্চজুড়ে স্থান পেয়েছে পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য বিষয়ক বিভিন্ন সচেতনতামূলক বার্তা ও নকশা।
আয়োজক সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি সরকারি প্রচারণার ক্ষেত্রে ব্যক্তি-কেন্দ্রিক উপস্থাপনার পরিবর্তে কর্মসূচি, জনসেবা ও অনুষ্ঠানের মূল বিষয়বস্তুকে গুরুত্ব দেওয়ার নতুন নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৫ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ একটি পরিপত্র জারি করে।
পরিপত্রে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়, সরকারি কোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রস্তুতকৃত ব্যানার, ফেস্টুন বা বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি (থ্রি-ডি বা অন্য কোনো আঙ্গিকে) ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এর পরিবর্তে অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য ও বার্তা যাতে সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়, সেভাবে নকশা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিষয়বস্তুর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য উপস্থাপনের ওপরই জোর দেওয়া হয়েছে এই নতুন নীতিমালায়।
অনুষ্ঠানের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন উপস্থিত দর্শকদের নজর কেড়েছে। সাভার থেকে আসা পরিবেশকর্মী সুলাইমান নিলয় বলেন, ‘এটি অত্যন্ত ইতিবাচক একটি পরিবর্তন। আগে দেখা যেত বড় ছবির কারণে অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্যই ঢাকা পড়ে যেত। আজ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী তার ছবি ছাড়াই অনুষ্ঠান হচ্ছে, যা আমাদের মুগ্ধ করেছে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সানজিদা খাতুন এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, ‘অতীতে ব্যক্তিপূজার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, প্রধানমন্ত্রী নিজে তা থেকে সরে আসার উদ্যোগ নিয়েছেন। এটি অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। এর ফলে অনুষ্ঠানের মূল বার্তা জনগণের কাছে আরও স্পষ্টভাবে পৌঁছাবে।’
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক এবং সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগের ফলে সরকারি প্রচারণার ধরনে একটি নতুন ও আধুনিক সংস্কৃতির সূচনা হলো।

আপনার মতামত লিখুন