২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের শেষ সময়ে তুমুল উত্তেজনার জন্ম দেন মিশরীয় কোচ হোসাম হাসান। দুই গোলে এগিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে ম্যাচ হারের বেদনায় মাঠের রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ডাগআউটের সামনে দুই হাত আড়াআড়ি উঁচিয়ে ‘X’ চিহ্নের মতো সংকেত দিতে দেখা যায় তাকে।
মাঠের সহকারী রেফারিসহ প্রধান রেফারি ফ্রাঁসোয়া লুতেকসিয়ের সামনে বারবার এই সংকেত প্রদর্শনের কারণে কোচকে হলুদ কার্ডও দেখানো হয়। এমনকি উত্তেজনার এক পর্যায়ে মিশরের কোচিং স্টাফের এক সদস্য লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচের সময় কোনো ফুটবলার, কোচ বা কর্মকর্তা বর্ণবাদী আচরণ বা বৈষম্যের শিকার হলে উভয় হাত আড়াআড়ি করে ‘X’ চিহ্ন দেখিয়ে অভিযোগ জানাতে পারেন। এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি বৈষম্যবিরোধী প্রোটোকল।
এই সংকেত পাওয়ার পর রেফারির দায়িত্ব হলো ম্যাচ থামিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা, পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটলে খেলা স্থগিত করা এবং প্রয়োজনে ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করা। তবে মিশরের কোচের এই সংকেতকে গুরুত্ব দেননি রেফারি লুতেকসিয়ে।
ম্যাচ শেষে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে হোসাম হাসান বলেন, তিনি ফলাফলে সন্তুষ্ট নন এবং তাদের সঙ্গে মাঠে অন্যায় করা হয়েছে।
রেফারির সঙ্গে কথোপকথন সম্পর্কে তিনি জানান, তিনি রেফারিকে বলেছিলেন, ‘এটা অন্যায়।’ এছাড়া তিনি আরও যোগ করেন, হয়তো রেফারির কিছু লুকানোর আছে, আর যিনি কিছু লুকানোর চেষ্টা করেন, তিনি শেষ পর্যন্ত তা আড়াল করতে গিয়ে ব্যর্থ হন।
খেলাধুলায় কেন বৈষম্য থাকবে, সেই প্রশ্ন তুলে ৫৯ বছর বয়সী এই কোচ আরও বলেন, স্বাভাবিক জীবনে বৈষম্য থাকলেও ফুটবলে ন্যায্যতা না থাকাটা হতাশাজনক।
এদিকে, এই বিতর্কিত ম্যাচ পরিচালনার অভিযোগে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লুতেকসিয়ে ও তার সহকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছে মিশর ফুটবল ফেডারেশন। ফেডারেশনের সভাপতি হানি আবু রিদা রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তের তদন্ত দাবি করেছেন এবং বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলোতে এই রেফারিং দলকে দায়িত্ব না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
মিশরের অভিযোগ, গোল বাতিল এবং পেনাল্টির আবেদন নাকচ করার মতো দুটি সিদ্ধান্ত ম্যাচের চূড়ান্ত ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। দলের ফরোয়ার্ড জিকো ম্যাচ শেষে অভিযোগ করেন, রেফারি শুরু থেকেই তাদের বিপক্ষে ছিলেন এবং তিনি চাননি মিশর জিতুক।
এর আগে, এই পরাজয়ের ফলে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলেও মিশরের ইতিহাসে এটিই ছিল সেরা বিশ্বকাপ অভিযান। এর আগে তারা কখনোই গ্রুপ পর্বের বাধা পেরোতে পারেনি।
অন্যদিকে, জয়ী আর্জেন্টিনা এখন কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬
২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের শেষ সময়ে তুমুল উত্তেজনার জন্ম দেন মিশরীয় কোচ হোসাম হাসান। দুই গোলে এগিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে ম্যাচ হারের বেদনায় মাঠের রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ডাগআউটের সামনে দুই হাত আড়াআড়ি উঁচিয়ে ‘X’ চিহ্নের মতো সংকেত দিতে দেখা যায় তাকে।
মাঠের সহকারী রেফারিসহ প্রধান রেফারি ফ্রাঁসোয়া লুতেকসিয়ের সামনে বারবার এই সংকেত প্রদর্শনের কারণে কোচকে হলুদ কার্ডও দেখানো হয়। এমনকি উত্তেজনার এক পর্যায়ে মিশরের কোচিং স্টাফের এক সদস্য লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচের সময় কোনো ফুটবলার, কোচ বা কর্মকর্তা বর্ণবাদী আচরণ বা বৈষম্যের শিকার হলে উভয় হাত আড়াআড়ি করে ‘X’ চিহ্ন দেখিয়ে অভিযোগ জানাতে পারেন। এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি বৈষম্যবিরোধী প্রোটোকল।
এই সংকেত পাওয়ার পর রেফারির দায়িত্ব হলো ম্যাচ থামিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা, পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটলে খেলা স্থগিত করা এবং প্রয়োজনে ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করা। তবে মিশরের কোচের এই সংকেতকে গুরুত্ব দেননি রেফারি লুতেকসিয়ে।
ম্যাচ শেষে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে হোসাম হাসান বলেন, তিনি ফলাফলে সন্তুষ্ট নন এবং তাদের সঙ্গে মাঠে অন্যায় করা হয়েছে।
রেফারির সঙ্গে কথোপকথন সম্পর্কে তিনি জানান, তিনি রেফারিকে বলেছিলেন, ‘এটা অন্যায়।’ এছাড়া তিনি আরও যোগ করেন, হয়তো রেফারির কিছু লুকানোর আছে, আর যিনি কিছু লুকানোর চেষ্টা করেন, তিনি শেষ পর্যন্ত তা আড়াল করতে গিয়ে ব্যর্থ হন।
খেলাধুলায় কেন বৈষম্য থাকবে, সেই প্রশ্ন তুলে ৫৯ বছর বয়সী এই কোচ আরও বলেন, স্বাভাবিক জীবনে বৈষম্য থাকলেও ফুটবলে ন্যায্যতা না থাকাটা হতাশাজনক।
এদিকে, এই বিতর্কিত ম্যাচ পরিচালনার অভিযোগে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লুতেকসিয়ে ও তার সহকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছে মিশর ফুটবল ফেডারেশন। ফেডারেশনের সভাপতি হানি আবু রিদা রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তের তদন্ত দাবি করেছেন এবং বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলোতে এই রেফারিং দলকে দায়িত্ব না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
মিশরের অভিযোগ, গোল বাতিল এবং পেনাল্টির আবেদন নাকচ করার মতো দুটি সিদ্ধান্ত ম্যাচের চূড়ান্ত ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। দলের ফরোয়ার্ড জিকো ম্যাচ শেষে অভিযোগ করেন, রেফারি শুরু থেকেই তাদের বিপক্ষে ছিলেন এবং তিনি চাননি মিশর জিতুক।
এর আগে, এই পরাজয়ের ফলে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলেও মিশরের ইতিহাসে এটিই ছিল সেরা বিশ্বকাপ অভিযান। এর আগে তারা কখনোই গ্রুপ পর্বের বাধা পেরোতে পারেনি।
অন্যদিকে, জয়ী আর্জেন্টিনা এখন কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন