সাবেক স্পিকার ও বাংলাদেশের সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে জাতীয় সংসদে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে রবিবার (১২ জুলাই) সংসদের বৈঠকে এ সংক্রান্ত শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সরকারি দল ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা (এমপি) আলোচনায় অংশ নিয়ে জমির উদ্দিন সরকারের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ করেন।
ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারকে একজন ‘প্রজ্ঞাবান আইনজীবী, অভিভাবকতুল্য দক্ষ সংসদ সদস্য, গণতন্ত্রের প্রতি অবিচল আস্থাশীল রাজনীতিবিদ এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের একজন দৃঢ় অভিভাবক’ আখ্যা দিয়ে সংসদ সদস্যরা বলেন, তার মৃত্যুতে দেশ একজন মহান ব্যক্তিকে হারালো। তার কর্মময় জীবন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে জাতি একজন মহান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, প্রথিতযশা আইনজ্ঞ এবং সাদা মনের মানুষকে হারিয়েছে।
স্পিকার বলেন, “ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন একজন প্রথিতযশা আইনজীবী এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সজ্জন ও উদার মনের মানুষ, যার সম্পর্কে কখনো কারো কাছ থেকে কোনো অভিযোগ শোনেননি।”
আলোচনায় অংশ নিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার তার কাছে শুধু রাজনৈতিক সহকর্মী ছিলেন না, একজন অভিভাবকসুলভ মানুষও ছিলেন। রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও তিনি পুত্রের মতো স্নেহ করতেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, “ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। নিজ যোগ্যতায় লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টারি পাস করে দেশে ফিরে তিনি আইন পেশায় অসাধারণ সুনাম অর্জন করেন। পঞ্চগড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে এসে তিনি জাতীয় রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি কখনো কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি এবং নিজ এলাকায় ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয়।”
এর আগে সরকারি দল বিএনপির এমপিখন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন দেশের অন্যতম সফল আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ। আইন পেশায় তার নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্ব তাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন এবং জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবেও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, “ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন একজন আপাদমস্তক ভদ্রলোক এবং দলের প্রতি শতভাগ নিবেদিত একজন রাজনৈতিক কর্মী। তিন-পিস স্যুট, হ্যাট ও ছাতা ছিল তার ব্যক্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ।” দীর্ঘ আইনজীবী জীবনে তার বিরুদ্ধে কোনো ক্লায়েন্ট বা সহকর্মীর কোনো অভিযোগ শোনা যায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দলের নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমান বলেন, “ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছয়বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য, সাবেক স্পিকার, সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি এবং দেশের আইন অঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন। মহান আল্লাহ মানুষকে জীবন ও মৃত্যু দিয়েছেন উত্তম কর্মের পরীক্ষার জন্য, আর ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার তাঁর কর্মজীবনের মাধ্যমে মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন।”
জামায়াত আমীর আরো বলেন, “ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হলে তারা প্রায়ই ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের শরণাপন্ন হতেন। তিনি শুধু আইনি পরামর্শই দেননি, বরং আদালতে দাঁড়িয়ে তাদের পক্ষে লড়েছেন। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল, তিনি এ ধরনের মামলায় কখনো কোনো পারিশ্রমিক গ্রহণ করেননি। তিনি বলতেন, এটি তার নৈতিক দায়িত্ব।”
আলোচনায় আরো অংশ নেন নোয়াখালী-১ আসনের বিএনপির এমপি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, পাবনা-১ আসনের জামায়াতের এমপি মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, রংপুর-৪ আসনের এনসিপির এমপি আখতার হোসেন।
আলোচনা শেষে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের নিয়ে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করেন মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির এমপি মো. কামরুজ্জামান।
পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের প্রতি সম্মান জানিয়ে সংসদের অন্যান্য কার্যক্রম স্থগিত রেখে সংসদের বৈঠক সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেল ৩টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন।

রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুলাই ২০২৬
সাবেক স্পিকার ও বাংলাদেশের সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে জাতীয় সংসদে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে রবিবার (১২ জুলাই) সংসদের বৈঠকে এ সংক্রান্ত শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সরকারি দল ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা (এমপি) আলোচনায় অংশ নিয়ে জমির উদ্দিন সরকারের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ করেন।
ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারকে একজন ‘প্রজ্ঞাবান আইনজীবী, অভিভাবকতুল্য দক্ষ সংসদ সদস্য, গণতন্ত্রের প্রতি অবিচল আস্থাশীল রাজনীতিবিদ এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের একজন দৃঢ় অভিভাবক’ আখ্যা দিয়ে সংসদ সদস্যরা বলেন, তার মৃত্যুতে দেশ একজন মহান ব্যক্তিকে হারালো। তার কর্মময় জীবন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে জাতি একজন মহান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, প্রথিতযশা আইনজ্ঞ এবং সাদা মনের মানুষকে হারিয়েছে।
স্পিকার বলেন, “ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন একজন প্রথিতযশা আইনজীবী এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সজ্জন ও উদার মনের মানুষ, যার সম্পর্কে কখনো কারো কাছ থেকে কোনো অভিযোগ শোনেননি।”
আলোচনায় অংশ নিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার তার কাছে শুধু রাজনৈতিক সহকর্মী ছিলেন না, একজন অভিভাবকসুলভ মানুষও ছিলেন। রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও তিনি পুত্রের মতো স্নেহ করতেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, “ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। নিজ যোগ্যতায় লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টারি পাস করে দেশে ফিরে তিনি আইন পেশায় অসাধারণ সুনাম অর্জন করেন। পঞ্চগড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে এসে তিনি জাতীয় রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি কখনো কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি এবং নিজ এলাকায় ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয়।”
এর আগে সরকারি দল বিএনপির এমপিখন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন দেশের অন্যতম সফল আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ। আইন পেশায় তার নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্ব তাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন এবং জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবেও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, “ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন একজন আপাদমস্তক ভদ্রলোক এবং দলের প্রতি শতভাগ নিবেদিত একজন রাজনৈতিক কর্মী। তিন-পিস স্যুট, হ্যাট ও ছাতা ছিল তার ব্যক্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ।” দীর্ঘ আইনজীবী জীবনে তার বিরুদ্ধে কোনো ক্লায়েন্ট বা সহকর্মীর কোনো অভিযোগ শোনা যায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দলের নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমান বলেন, “ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছয়বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য, সাবেক স্পিকার, সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি এবং দেশের আইন অঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন। মহান আল্লাহ মানুষকে জীবন ও মৃত্যু দিয়েছেন উত্তম কর্মের পরীক্ষার জন্য, আর ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার তাঁর কর্মজীবনের মাধ্যমে মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন।”
জামায়াত আমীর আরো বলেন, “ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হলে তারা প্রায়ই ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের শরণাপন্ন হতেন। তিনি শুধু আইনি পরামর্শই দেননি, বরং আদালতে দাঁড়িয়ে তাদের পক্ষে লড়েছেন। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল, তিনি এ ধরনের মামলায় কখনো কোনো পারিশ্রমিক গ্রহণ করেননি। তিনি বলতেন, এটি তার নৈতিক দায়িত্ব।”
আলোচনায় আরো অংশ নেন নোয়াখালী-১ আসনের বিএনপির এমপি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, পাবনা-১ আসনের জামায়াতের এমপি মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, রংপুর-৪ আসনের এনসিপির এমপি আখতার হোসেন।
আলোচনা শেষে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের নিয়ে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করেন মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির এমপি মো. কামরুজ্জামান।
পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের প্রতি সম্মান জানিয়ে সংসদের অন্যান্য কার্যক্রম স্থগিত রেখে সংসদের বৈঠক সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেল ৩টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন।

আপনার মতামত লিখুন