সংবাদ

আবু সাঈদ হত্যা: ক্লাসে ফিরেছেন অভিযুক্তরা, শীর্ষরা পলাতক


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, রংপুর
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, রংপুর
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম

আবু সাঈদ হত্যা: ক্লাসে ফিরেছেন অভিযুক্তরা, শীর্ষরা পলাতক
আবু সাঈদ হত্যা মামলার শীর্ষ আসামিরা পলাতক

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে বহিষ্কৃত ৫৬ জনের মধ্যে অধিকাংশই শাস্তির মেয়াদ শেষে ক্লাসে ফিরেছেন। অন্যদিকে এ ঘটনায় মামলার শীর্ষ আসামিদের এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তদের মধ্যে ২৩ জনকে এক সেমিস্টার এবং ৩৩ জনকে দুই সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করা হয়। এছাড়া ১৫ জন সাবেক শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। শাস্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় ইতিমধ্যে বহিষ্কৃতদের অনেকেই ক্লাসে ফিরেছেন।

গত বছরের ৭ মে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় হামলা ও আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী, দুইজন শিক্ষক, ৩৬ জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী, আটজন পুলিশ সদস্য এবং ১২ জন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করা হয়। মামলায় ৮০ থেকে ১০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হলেও এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই-তিন কর্মচারী ও এক ছাত্রলীগ নেতা ছাড়া আর কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

দুই সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কৃত ৩৩ জনের মধ্যে রয়েছেন- সেজান আহমেদ (ওরফে আরিফ), মো. আরাফাত রহমান আবির, আবু সালেহ নাহিদ, ইমরান চৌধুরী আকাশ, কফি আনান মান্নান, মাসুদুল হাসান, উজ্জ্বল মিয়া, হাবিবুর রহমান, সাখাওয়াত হোসেন, শোয়াইবুল (সাল্লু), আব্দুল্লাহ আল রায়হান, বায়েজিদ মোস্তাফী, রাসেল, সিয়াম আল নাহিদ, অমিত, আখতার হোসেন, তানজিল, মুন্না হাসান লিওন, জিহান আলী, মো. সাব্বির হোসেন (রিয়ান), গালিব হাসান, মাহমুদুর রহমান হৃদয়, মো. মোশারফ হোসেন, পিয়াস আলী, মোজাম্মেল হক, মৃত্যুঞ্জয় রায়, মো. সাজ্জাদ হোসেন, মানিক চন্দ্র সেন, রবীন্দ্র রায়, সিয়াম আরাফাত, মো. সাব্বির আহমেদ, মো. মুসান্না-বিন-আহমেদ ও শাহীন ইসলাম।

এক সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কৃত ২৩ জন হলেন- মো. হাসানুজ্জামান সৌমিক, সুদীপ্ত সরকার বাঁধন, জুবায়ের মাহমুদ, কোমল দেবনাথ, মো. রিজন মণ্ডল, মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, ফিলিপ রায়, জিহাদ উল্লাহ, এস এম লাবু ইসলাম, জয়ন্ত চন্দ্র রায়, সবুজ কুমার, সবুজ মহন্ত, মো. মেহেদী হাসান মিরাজ, জামাল মিয়া, তৌফিক কিবরিয়া, মেজবাহুল সরকার জয়, দেবাশীষ কুমার রায়, আতেফ আসহাব দিল মণ্ডল, নাফিউল ইসলাম, তপন চৌধুরী, সাজেদুর রহমান, আমিরুল ইসলাম শুভ ও শফিউল আযম (সম্রাট)।

এছাড়া ১৫ জন সাবেক শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তারা হলেন- পোমেল বড়ুয়া, শামীম মাহফুজ, ধনঞ্জয় কুমার টগর, গ্লোরিয়াস (ফজলে রাব্বি), বাবুল, বিধান, তানভীর, আব্দুল্লাহ আল নোমান খান, রিফাত, ফারহাদ হোসেন এলিট, মোমিনুল, আরিফুজ্জামান ইমন, গাজীউর, শাহিদ হাসান ও মামুন।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিন বলেন, ‘শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটি অনেককে বাঁচিয়ে দিয়েছে। আমরা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। এক-দুই সেমিস্টার শাস্তি মেনে নেওয়ার মতো নয়।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক এস এম আশিকুর রহমান বলেন, ‘জুলাইয়ের স্ফুলিঙ্গ ছিল শহীদ আবু সাঈদ। তার শহীদ হওয়ার দুই বছর হতে চলল, অথচ বিচারের রায় কার্যকর হয়নি। আসামিরা এখনও গ্রেপ্তার হয়নি। এতে আমরা হতাশ ও শঙ্কিত।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, ‘মামলার অনেক আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন, আবার অনেকেই পলাতক রয়েছেন। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয় নয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব। যাদের একাডেমিক শাস্তি ছিল, শাস্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় তারা ক্লাসে ফিরেছে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬


আবু সাঈদ হত্যা: ক্লাসে ফিরেছেন অভিযুক্তরা, শীর্ষরা পলাতক

প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে বহিষ্কৃত ৫৬ জনের মধ্যে অধিকাংশই শাস্তির মেয়াদ শেষে ক্লাসে ফিরেছেন। অন্যদিকে এ ঘটনায় মামলার শীর্ষ আসামিদের এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তদের মধ্যে ২৩ জনকে এক সেমিস্টার এবং ৩৩ জনকে দুই সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করা হয়। এছাড়া ১৫ জন সাবেক শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। শাস্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় ইতিমধ্যে বহিষ্কৃতদের অনেকেই ক্লাসে ফিরেছেন।

গত বছরের ৭ মে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় হামলা ও আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী, দুইজন শিক্ষক, ৩৬ জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী, আটজন পুলিশ সদস্য এবং ১২ জন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করা হয়। মামলায় ৮০ থেকে ১০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হলেও এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই-তিন কর্মচারী ও এক ছাত্রলীগ নেতা ছাড়া আর কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

দুই সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কৃত ৩৩ জনের মধ্যে রয়েছেন- সেজান আহমেদ (ওরফে আরিফ), মো. আরাফাত রহমান আবির, আবু সালেহ নাহিদ, ইমরান চৌধুরী আকাশ, কফি আনান মান্নান, মাসুদুল হাসান, উজ্জ্বল মিয়া, হাবিবুর রহমান, সাখাওয়াত হোসেন, শোয়াইবুল (সাল্লু), আব্দুল্লাহ আল রায়হান, বায়েজিদ মোস্তাফী, রাসেল, সিয়াম আল নাহিদ, অমিত, আখতার হোসেন, তানজিল, মুন্না হাসান লিওন, জিহান আলী, মো. সাব্বির হোসেন (রিয়ান), গালিব হাসান, মাহমুদুর রহমান হৃদয়, মো. মোশারফ হোসেন, পিয়াস আলী, মোজাম্মেল হক, মৃত্যুঞ্জয় রায়, মো. সাজ্জাদ হোসেন, মানিক চন্দ্র সেন, রবীন্দ্র রায়, সিয়াম আরাফাত, মো. সাব্বির আহমেদ, মো. মুসান্না-বিন-আহমেদ ও শাহীন ইসলাম।

এক সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কৃত ২৩ জন হলেন- মো. হাসানুজ্জামান সৌমিক, সুদীপ্ত সরকার বাঁধন, জুবায়ের মাহমুদ, কোমল দেবনাথ, মো. রিজন মণ্ডল, মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, ফিলিপ রায়, জিহাদ উল্লাহ, এস এম লাবু ইসলাম, জয়ন্ত চন্দ্র রায়, সবুজ কুমার, সবুজ মহন্ত, মো. মেহেদী হাসান মিরাজ, জামাল মিয়া, তৌফিক কিবরিয়া, মেজবাহুল সরকার জয়, দেবাশীষ কুমার রায়, আতেফ আসহাব দিল মণ্ডল, নাফিউল ইসলাম, তপন চৌধুরী, সাজেদুর রহমান, আমিরুল ইসলাম শুভ ও শফিউল আযম (সম্রাট)।

এছাড়া ১৫ জন সাবেক শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তারা হলেন- পোমেল বড়ুয়া, শামীম মাহফুজ, ধনঞ্জয় কুমার টগর, গ্লোরিয়াস (ফজলে রাব্বি), বাবুল, বিধান, তানভীর, আব্দুল্লাহ আল নোমান খান, রিফাত, ফারহাদ হোসেন এলিট, মোমিনুল, আরিফুজ্জামান ইমন, গাজীউর, শাহিদ হাসান ও মামুন।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিন বলেন, ‘শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটি অনেককে বাঁচিয়ে দিয়েছে। আমরা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। এক-দুই সেমিস্টার শাস্তি মেনে নেওয়ার মতো নয়।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক এস এম আশিকুর রহমান বলেন, ‘জুলাইয়ের স্ফুলিঙ্গ ছিল শহীদ আবু সাঈদ। তার শহীদ হওয়ার দুই বছর হতে চলল, অথচ বিচারের রায় কার্যকর হয়নি। আসামিরা এখনও গ্রেপ্তার হয়নি। এতে আমরা হতাশ ও শঙ্কিত।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, ‘মামলার অনেক আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন, আবার অনেকেই পলাতক রয়েছেন। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয় নয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব। যাদের একাডেমিক শাস্তি ছিল, শাস্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় তারা ক্লাসে ফিরেছে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত