সংবাদ

লৌহজংয়ে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে বাল্কহেড, ভাঙন আতঙ্কে ৫০০ পরিবার


প্রতিনিধি, লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ)
প্রতিনিধি, লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ)
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৯ পিএম

লৌহজংয়ে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে বাল্কহেড, ভাঙন আতঙ্কে ৫০০ পরিবার
ডহরী-তালতলা খালে অবাধে চলাচল করছে বালুবাহী বাল্কহেড। ছবি : সংবাদ

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার ডহরী-তালতলা খালে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অবাধে চলাচল করছে বালুবাহী বাল্কহেড। এতে খালের দুই তীরে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিতে পড়েছে বসতবাড়ি, কৃষিজমি, সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্প, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্রের মাসোহারা বা চাঁদার বিনিময়ে এসব নৌযান চলছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ডহরী-তালতলা খালের হাড়িদিয়া এলাকায় বাল্কহেডের সৃষ্ট ঢেউয়ে পাড় ধসে পড়ছে। গত এক সপ্তাহে হাড়িদিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের কয়েকটি গোয়ালঘর ও কৃষিজমি খালের পেটে চলে গেছে। ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন খালের দুই পাড়ের অন্তত পাঁচ শতাধিক পরিবার।

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে গত ১২ মে উপজেলা প্রশাসন এই খালে বাল্কহেড চলাচল নিষিদ্ধ করে। এর আগে ২০২৩ সালে এখানে বাল্কহেডের ধাক্কায় পিকনিকের ট্রলার ডুবে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। বারবার প্রাণহানির ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনও এখানে বাল্কহেড চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। তবে বর্তমানে প্রশাসনের নজরদারি কমে যাওয়ার সুযোগে দিন-রাত কয়েক শ বাল্কহেড যাতায়াত করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রুবেল মাদবর নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে একটি চক্র বাল্কহেড চালকদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা আদায় করে চলাচলের সুযোগ করে দিচ্ছে। তবে রুবেল মাদবর এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘জোর করে টাকা নেওয়া হয় না, সুকানিরা খুশি হয়ে কিছু টাকা দেয়।’

ভাঙনের শিকার আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা খায়রুন নেছা বলেন, ‘বাল্কহেডের ঢেউয়ে আমার গোয়ালঘরটা ভেঙে গেল। এভাবে চলতে থাকলে থাকার ঘরটাও খালের তলায় চলে যাবে।’

নুরপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর বেপারী জানান, তার একটি ঘর ইতিমধ্যে বিলীন হয়েছে, এখন বাপ-দাদার ভিটে হারানোর ভয়ে আছেন।

লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু সংবাদকে বলেন, ‘আশ্রয়ণ প্রকল্পের ভাঙনের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া বাল্কহেড চলাচল বন্ধে নৌ পুলিশকে নিয়মিত অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

মাওয়া নৌ পুলিশ স্টেশনের উপপরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, খালে টহল চলছে এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬


লৌহজংয়ে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে বাল্কহেড, ভাঙন আতঙ্কে ৫০০ পরিবার

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬

featured Image

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার ডহরী-তালতলা খালে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অবাধে চলাচল করছে বালুবাহী বাল্কহেড। এতে খালের দুই তীরে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিতে পড়েছে বসতবাড়ি, কৃষিজমি, সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্প, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্রের মাসোহারা বা চাঁদার বিনিময়ে এসব নৌযান চলছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ডহরী-তালতলা খালের হাড়িদিয়া এলাকায় বাল্কহেডের সৃষ্ট ঢেউয়ে পাড় ধসে পড়ছে। গত এক সপ্তাহে হাড়িদিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের কয়েকটি গোয়ালঘর ও কৃষিজমি খালের পেটে চলে গেছে। ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন খালের দুই পাড়ের অন্তত পাঁচ শতাধিক পরিবার।

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে গত ১২ মে উপজেলা প্রশাসন এই খালে বাল্কহেড চলাচল নিষিদ্ধ করে। এর আগে ২০২৩ সালে এখানে বাল্কহেডের ধাক্কায় পিকনিকের ট্রলার ডুবে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। বারবার প্রাণহানির ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনও এখানে বাল্কহেড চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। তবে বর্তমানে প্রশাসনের নজরদারি কমে যাওয়ার সুযোগে দিন-রাত কয়েক শ বাল্কহেড যাতায়াত করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রুবেল মাদবর নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে একটি চক্র বাল্কহেড চালকদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা আদায় করে চলাচলের সুযোগ করে দিচ্ছে। তবে রুবেল মাদবর এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘জোর করে টাকা নেওয়া হয় না, সুকানিরা খুশি হয়ে কিছু টাকা দেয়।’

ভাঙনের শিকার আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা খায়রুন নেছা বলেন, ‘বাল্কহেডের ঢেউয়ে আমার গোয়ালঘরটা ভেঙে গেল। এভাবে চলতে থাকলে থাকার ঘরটাও খালের তলায় চলে যাবে।’

নুরপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর বেপারী জানান, তার একটি ঘর ইতিমধ্যে বিলীন হয়েছে, এখন বাপ-দাদার ভিটে হারানোর ভয়ে আছেন।

লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু সংবাদকে বলেন, ‘আশ্রয়ণ প্রকল্পের ভাঙনের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া বাল্কহেড চলাচল বন্ধে নৌ পুলিশকে নিয়মিত অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

মাওয়া নৌ পুলিশ স্টেশনের উপপরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, খালে টহল চলছে এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত