নৈতিক স্খলনের অভিযোগে সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বহিষ্কারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তার নির্বাচনী এলাকা শ্যামনগরের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করতে দেখা গেছে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এমপির বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভিডিও বিতর্কের জেরে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গত ২০ জুলাই রাত থেকে এক তরুণীর সঙ্গে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের একটি ‘অন্তরঙ্গ’ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে ২১ জুলাই জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের ঘোষণা দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় আজ তাঁকে বহিষ্কার করা হলো।
এদিকে এমপির বহিষ্কারের খবরে তার এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। শ্যামনগর সদরের বিভিন্ন স্থানে উৎসুক জনতাকে আনন্দ প্রকাশ করতে এবং মিষ্টি বিতরণ করতে দেখা যায়। তবে অনেকেই মনে করছেন, কেবল বহিষ্কার নয়, এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সোলায়মান কবির বলেন, ‘নৈতিকতার প্রশ্নে গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করায় জামায়াতকে ধন্যবাদ জানাই। তবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী একটি আদর্শিক ও নৈতিক সংগঠন। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। এই ঘটনায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হলেও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে সংগঠনের মর্যাদা বজায় থাকবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’
উল্লেখ্য, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে সাতক্ষীরার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন গাজী নজরুল ইসলাম। শেষ পর্যন্ত দলীয় পদ হারিয়ে বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটে পড়লেন তিনি।
আপনার মতামত লিখুন