দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে সংসদ অভিযানে পুলিশি বাধা এবং বিরোধী নেতাদের আটককে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া রাজনৈতিক সংঘাত বুধবার দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে। কংগ্রেস ও বিজেপি একে অপরের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকে খর্ব করার অভিযোগ তুলে পাল্টা বিক্ষোভে নামে। মহারাষ্ট্র, চণ্ডীগড়, হরিয়ানা, কর্নাটক, জম্মু-কাশ্মীর, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং বিহারে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বহু জায়গায় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের আটক করে, ব্যারিকেড তোলে এবং দুই পক্ষকে মুখোমুখি সংঘর্ষ থেকে আটকাতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে।
মঙ্গলবার দিল্লিতে সিজেপির ডাকা সংসদ অভিযানে অংশ নিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবসহ একাধিক বিরোধী নেতা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনের দিকে মিছিল করার চেষ্টা করলে দিল্লি পুলিশ তাদের ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয়। পরে বসে বিক্ষোভ দেখানোর সময় তাঁদের-সহ বহু নেতাকে আটক করা হয়।
বিরোধীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমন করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে দিল্লি পুলিশের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের নিরাপত্তা বলয় ভাঙার চেষ্টা হওয়ায় আইন মেনেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বুধবার এই ঘটনার জেরে দায়ের হওয়া তিনটি জনস্বার্থ মামলায় দিল্লি হাইকোর্ট কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশকে নোটিস পাঠিয়ে জবাব তলব করেছে।
মুম্বইয়ে কংগ্রেস কর্মীরা মহারাষ্ট্র বিজেপি দফতরে সংবিধানের কপি জমা দিতে গেলে পুলিশ তাদের আটক করে। রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি হর্ষবর্ধন সাপক্যাল, বিধানসভায় কংগ্রেস নেতা বিজয় ওয়াডেত্তিওয়ার এবং প্রাক্তন মন্ত্রী নাসিম খানকে কোলাবা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। চেম্বুরে নিট (এনইইটি) প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদেও বিক্ষোভ হয়। জলনায় কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ কালের দফতরের সামনে বিজেপির বিক্ষোভ ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে স্লোগান যুদ্ধ শুরু হলেও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
চণ্ডীগড়ে পঞ্জাব বিজেপি সভাপতি কেওয়াল সিং ধিলোঁর নেতৃত্বে বিজেপি কর্মীরা পঞ্জাব কংগ্রেস দফতর ঘেরাও করতে গেলে পুলিশ তাদের আটক করে। পরে কংগ্রেস কর্মীদেরও আটক করা হয়। হরিয়ানায় গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি জমা দিতে যাওয়ার পথে কংগ্রেস নেতাদের আটকের অভিযোগ তোলে দলটি। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি রাও নরেন্দ্র সিং বলেন, এনইইটি প্রশ্নফাঁস লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ নষ্ট করেছে এবং এ নিয়ে সংসদে আলোচনা হওয়া উচিত।
কর্নাটকের বেঙ্গালুরুতে কংগ্রেসের বিক্ষোভের জবাবে বিজেপি কংগ্রেস দফতরের দিকে মিছিল করলে পুলিশ তাদের প্রতিরোধ করে। বিরোধী দলনেতা আর. অশোক রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ তোলেন। কংগ্রেস দফতরের সামনে বিজেপি বিধায়ক বি.পি. হরীশের উপর ডিম ছোড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়।
জম্মুতে প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও কংগ্রেস ও বিজেপি পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। বিজেপি নেতা সুনীল শর্মা অভিযোগ করেন, রাহুল গান্ধী সংসদের বদলে রাস্তায় নেমে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছেন। পাল্টা জেকেপিসিসি সভাপতি তারিক হামিদ কারা বলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ গণতন্ত্রের অঙ্গ এবং বিজেপি বিরোধী কণ্ঠস্বর দমনের চেষ্টা করছে।
অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়ওয়াড়ায় কংগ্রেস ও বিজেপির মিছিলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। কংগ্রেসের অভিযোগ, পুলিশ তাদের উপর লাঠিচার্জ করেছে, অন্যদিকে বিজেপির দাবি, তাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলা চালানো হয়েছে। বিহারের পাটনায় রাজ্য বিজেপির মিছিল কংগ্রেস দফতরের সামনে পৌঁছতেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
দিল্লির ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন জাতীয় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। কংগ্রেস অভিযোগ করছে, বিরোধী কণ্ঠস্বর দমাতে সরকার পুলিশকে ব্যবহার করছে এবং এনইইটি প্রশ্নফাঁসের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে নজর ঘোরানোর চেষ্টা করছে। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে মিছিল ছিল নিরাপত্তা ভাঙার পরিকল্পিত চেষ্টা এবং বিরোধীরা ছাত্র আন্দোলনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে। দিল্লি হাইকোর্টের নোটিসের পর এই বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে এবং বিষয়টি আগামী সংসদ অধিবেশনেও কেন্দ্র ও বিরোধীদের মধ্যে অন্যতম প্রধান সংঘাতের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬
দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে সংসদ অভিযানে পুলিশি বাধা এবং বিরোধী নেতাদের আটককে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া রাজনৈতিক সংঘাত বুধবার দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে। কংগ্রেস ও বিজেপি একে অপরের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকে খর্ব করার অভিযোগ তুলে পাল্টা বিক্ষোভে নামে। মহারাষ্ট্র, চণ্ডীগড়, হরিয়ানা, কর্নাটক, জম্মু-কাশ্মীর, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং বিহারে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বহু জায়গায় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের আটক করে, ব্যারিকেড তোলে এবং দুই পক্ষকে মুখোমুখি সংঘর্ষ থেকে আটকাতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে।
মঙ্গলবার দিল্লিতে সিজেপির ডাকা সংসদ অভিযানে অংশ নিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবসহ একাধিক বিরোধী নেতা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনের দিকে মিছিল করার চেষ্টা করলে দিল্লি পুলিশ তাদের ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয়। পরে বসে বিক্ষোভ দেখানোর সময় তাঁদের-সহ বহু নেতাকে আটক করা হয়।
বিরোধীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমন করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে দিল্লি পুলিশের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের নিরাপত্তা বলয় ভাঙার চেষ্টা হওয়ায় আইন মেনেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বুধবার এই ঘটনার জেরে দায়ের হওয়া তিনটি জনস্বার্থ মামলায় দিল্লি হাইকোর্ট কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশকে নোটিস পাঠিয়ে জবাব তলব করেছে।
মুম্বইয়ে কংগ্রেস কর্মীরা মহারাষ্ট্র বিজেপি দফতরে সংবিধানের কপি জমা দিতে গেলে পুলিশ তাদের আটক করে। রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি হর্ষবর্ধন সাপক্যাল, বিধানসভায় কংগ্রেস নেতা বিজয় ওয়াডেত্তিওয়ার এবং প্রাক্তন মন্ত্রী নাসিম খানকে কোলাবা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। চেম্বুরে নিট (এনইইটি) প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদেও বিক্ষোভ হয়। জলনায় কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ কালের দফতরের সামনে বিজেপির বিক্ষোভ ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে স্লোগান যুদ্ধ শুরু হলেও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
চণ্ডীগড়ে পঞ্জাব বিজেপি সভাপতি কেওয়াল সিং ধিলোঁর নেতৃত্বে বিজেপি কর্মীরা পঞ্জাব কংগ্রেস দফতর ঘেরাও করতে গেলে পুলিশ তাদের আটক করে। পরে কংগ্রেস কর্মীদেরও আটক করা হয়। হরিয়ানায় গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি জমা দিতে যাওয়ার পথে কংগ্রেস নেতাদের আটকের অভিযোগ তোলে দলটি। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি রাও নরেন্দ্র সিং বলেন, এনইইটি প্রশ্নফাঁস লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ নষ্ট করেছে এবং এ নিয়ে সংসদে আলোচনা হওয়া উচিত।
কর্নাটকের বেঙ্গালুরুতে কংগ্রেসের বিক্ষোভের জবাবে বিজেপি কংগ্রেস দফতরের দিকে মিছিল করলে পুলিশ তাদের প্রতিরোধ করে। বিরোধী দলনেতা আর. অশোক রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ তোলেন। কংগ্রেস দফতরের সামনে বিজেপি বিধায়ক বি.পি. হরীশের উপর ডিম ছোড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়।
জম্মুতে প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও কংগ্রেস ও বিজেপি পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। বিজেপি নেতা সুনীল শর্মা অভিযোগ করেন, রাহুল গান্ধী সংসদের বদলে রাস্তায় নেমে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছেন। পাল্টা জেকেপিসিসি সভাপতি তারিক হামিদ কারা বলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ গণতন্ত্রের অঙ্গ এবং বিজেপি বিরোধী কণ্ঠস্বর দমনের চেষ্টা করছে।
অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়ওয়াড়ায় কংগ্রেস ও বিজেপির মিছিলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। কংগ্রেসের অভিযোগ, পুলিশ তাদের উপর লাঠিচার্জ করেছে, অন্যদিকে বিজেপির দাবি, তাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলা চালানো হয়েছে। বিহারের পাটনায় রাজ্য বিজেপির মিছিল কংগ্রেস দফতরের সামনে পৌঁছতেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
দিল্লির ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন জাতীয় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। কংগ্রেস অভিযোগ করছে, বিরোধী কণ্ঠস্বর দমাতে সরকার পুলিশকে ব্যবহার করছে এবং এনইইটি প্রশ্নফাঁসের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে নজর ঘোরানোর চেষ্টা করছে। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে মিছিল ছিল নিরাপত্তা ভাঙার পরিকল্পিত চেষ্টা এবং বিরোধীরা ছাত্র আন্দোলনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে। দিল্লি হাইকোর্টের নোটিসের পর এই বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে এবং বিষয়টি আগামী সংসদ অধিবেশনেও কেন্দ্র ও বিরোধীদের মধ্যে অন্যতম প্রধান সংঘাতের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন