ভারতের সাম্প্রতিক যুব আন্দোলন ও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারকে ‘ভয়াবহভাবে দুর্বল’ করে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রখ্যাত পরিবেশকর্মী ও শিক্ষানুরাগী সোনম ওয়াংচুক। দীর্ঘ ২৬ দিনের অনশন শেষে বিবিসির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই দাবি করেন।
সোনম ওয়াংচুক বলেন, গত ২৫ জুলাই ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশটির রাজনৈতিক পরিবেশে এক বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। তরুণরা এখন আত্মবিশ্বাসী যে তারা চাইলে পরিবর্তন আনতে পারে এবং সবকিছু মুখ বুজে সহ্য করার প্রয়োজন নেই।
ভারতের এই আন্দোলনটি ‘ককরোচ’ বা ‘তেলাপোকা’ আন্দোলন নামে পরিচিতি পেয়েছে। ভারতের প্রধান বিচারপতির এক মন্তব্যের প্রতিবাদে এই নাম বেছে নেয় আন্দোলনকারীরা। গত জুন ও জুলাই মাসে দিল্লির তীব্র দাবদাহের মধ্যে টানা ২৬ দিন শুধু লবণ ও জল খেয়ে অনশন করেন ৫৯ বছর বয়সী ওয়াংচুক। অনশন চলাকালীন তার ওজন ১১ কেজি কমে যায় এবং পুলিশ তাকে জোরপূর্বক হাসপাতালে ভর্তি করে।
ভারতের পরীক্ষা ব্যবস্থায় প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং স্নাতক পর্যায়ে বেকারত্বের হার ৩৫-৪০ শতাংশে পৌঁছানোর প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করে। ওয়াংচুকের অনশন ভাঙার পরের দিনই পদত্যাগ করতে বাধ্য হন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। এরপর সরকার দ্রুত বিচার আদালত গঠন এবং পরীক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারে কারিগরি বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ দেওয়ার ঘোষণা দেয়।
সোনম ওয়াংচুক মনে করেন, ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন। বর্তমানের বহু নির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ) পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের প্রকৃত দক্ষতা যাচাই করতে পারছে না। তিনি বলেন, “আগামী ১৫ বছর পর দেশ ও বিশ্ব কোথায় যাবে, তার পরিকল্পনা এখনই করা উচিত। হাতে-কলমে শিক্ষা ও যোগ্যতার ওপর গুরুত্ব দিলে তবেই কর্মসংস্থান সংকটের সমাধান সম্ভব।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই আন্দোলনের প্রভাব এরই মধ্যে মোদি সরকারের ওপর পড়তে শুরু করেছে। সম্প্রতি বিহারের একটি আসনসহ তিনটি উপনির্বাচনের দুটিতেই বিজেপি পরাজিত হয়েছে। ওয়াংচুক মনে করেন, সরকার যদি মানুষের কথা না শোনে, তবে ভবিষ্যতে এই বিক্ষোভ আরও বৃহত্তর রূপ নিতে পারে।
বর্তমানে নিজের শহর লাদাখে ফিরে যাওয়া ওয়াংচুক মহাত্মা গান্ধীর অহিংস আন্দোলনে বিশ্বাসী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি নিজে নির্বাচনে লড়তে চান না, বরং অন্যদের ক্ষমতায়ন করতে চান।
\

বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ আগস্ট ২০২৬
ভারতের সাম্প্রতিক যুব আন্দোলন ও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারকে ‘ভয়াবহভাবে দুর্বল’ করে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রখ্যাত পরিবেশকর্মী ও শিক্ষানুরাগী সোনম ওয়াংচুক। দীর্ঘ ২৬ দিনের অনশন শেষে বিবিসির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই দাবি করেন।
সোনম ওয়াংচুক বলেন, গত ২৫ জুলাই ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশটির রাজনৈতিক পরিবেশে এক বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। তরুণরা এখন আত্মবিশ্বাসী যে তারা চাইলে পরিবর্তন আনতে পারে এবং সবকিছু মুখ বুজে সহ্য করার প্রয়োজন নেই।
ভারতের এই আন্দোলনটি ‘ককরোচ’ বা ‘তেলাপোকা’ আন্দোলন নামে পরিচিতি পেয়েছে। ভারতের প্রধান বিচারপতির এক মন্তব্যের প্রতিবাদে এই নাম বেছে নেয় আন্দোলনকারীরা। গত জুন ও জুলাই মাসে দিল্লির তীব্র দাবদাহের মধ্যে টানা ২৬ দিন শুধু লবণ ও জল খেয়ে অনশন করেন ৫৯ বছর বয়সী ওয়াংচুক। অনশন চলাকালীন তার ওজন ১১ কেজি কমে যায় এবং পুলিশ তাকে জোরপূর্বক হাসপাতালে ভর্তি করে।
ভারতের পরীক্ষা ব্যবস্থায় প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং স্নাতক পর্যায়ে বেকারত্বের হার ৩৫-৪০ শতাংশে পৌঁছানোর প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করে। ওয়াংচুকের অনশন ভাঙার পরের দিনই পদত্যাগ করতে বাধ্য হন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। এরপর সরকার দ্রুত বিচার আদালত গঠন এবং পরীক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারে কারিগরি বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ দেওয়ার ঘোষণা দেয়।
সোনম ওয়াংচুক মনে করেন, ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন। বর্তমানের বহু নির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ) পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের প্রকৃত দক্ষতা যাচাই করতে পারছে না। তিনি বলেন, “আগামী ১৫ বছর পর দেশ ও বিশ্ব কোথায় যাবে, তার পরিকল্পনা এখনই করা উচিত। হাতে-কলমে শিক্ষা ও যোগ্যতার ওপর গুরুত্ব দিলে তবেই কর্মসংস্থান সংকটের সমাধান সম্ভব।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই আন্দোলনের প্রভাব এরই মধ্যে মোদি সরকারের ওপর পড়তে শুরু করেছে। সম্প্রতি বিহারের একটি আসনসহ তিনটি উপনির্বাচনের দুটিতেই বিজেপি পরাজিত হয়েছে। ওয়াংচুক মনে করেন, সরকার যদি মানুষের কথা না শোনে, তবে ভবিষ্যতে এই বিক্ষোভ আরও বৃহত্তর রূপ নিতে পারে।
বর্তমানে নিজের শহর লাদাখে ফিরে যাওয়া ওয়াংচুক মহাত্মা গান্ধীর অহিংস আন্দোলনে বিশ্বাসী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি নিজে নির্বাচনে লড়তে চান না, বরং অন্যদের ক্ষমতায়ন করতে চান।
\

আপনার মতামত লিখুন