গাইবান্ধার সাঘাটায় স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের জেরে যুবদল নেতার ছুরিকাঘাতে আহত জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিন (৪২) মারা গেছেন। ঘটনার ৪৮ দিন পর শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল পৌনে আটটার দিকে রাজধানীর ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
সালাউদ্দিনের বাবা ও উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য সামছুল হোদা দুদু তার ছেলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আমির ডা. শফিকুর রহমান।
গত ২১ জুন বিকেলে সাঘাটার কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন নিয়ে উপজেলা চত্বরে প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহর সঙ্গে উপজেলা যুবদলের তৎকালীন নেতা মোখলেছুর রহমান মুকুলের বাগ্বিতণ্ডা হয়। স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় বিষয়টি তখন মিটে গেলেও কিছুক্ষণ পর বোনারপাড়া চৌমাথায় দাঁড়িয়ে থাকা সালাউদ্দিনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় মুকুল ও তার সহযোগীরা।
এ সময় সালাউদ্দিনকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারীকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। ওই দিনই সাইফুল্লাহ মারা যান। অন্যদিকে সালাউদ্দিনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে বগুড়া ও পরে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দীর্ঘ ১ মাস ১৮ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে আজ শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় গত ২২ জুন নিহত সাইফুল্লাহর বাবা হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে সাঘাটা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ঘটনার পর পরই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মোখলেছুর রহমান মুকুলকে যুবদল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, ‘মামলার প্রধান আসামি মোখলেছুর রহমান মুকুলসহ এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
তবে স্থানীয় জামায়াত-শিবির নেতাদের অভিযোগ, পুলিশ মূল হামলাকারীদের সবাইকে এখনো আইনের আওতায় আনতে পারেনি। উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাজেদুর রহমান অভিযোগ করেন, হামলার অন্যতম মূল হোতা পলাশ এখনো এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মামলার বাদীপক্ষকে হুমকি দিচ্ছে। তিনি পলাশসহ বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
সালাউদ্দিনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, নতুন করে যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন