একসময় একদিন কাজে না গেলে চুলায় হাঁড়ি চড়ত না ঠাকুরগাঁওয়ের নারগুন ইউনিয়নের কহরপাড়া গ্রামের আরতি মার্ডির। খাসজমিতে ছাপরা ঘর, দিনমজুর স্বামী আর সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে অভাবই ছিল তার নিত্যসঙ্গী। সেই আরতিই আজ নিজের হাতে গড়ে তুলেছেন স্বাবলম্বী সংসার।
বর্তমানে তার বাড়িতে আছে তিনটি গাভি, পাঁচটি ছাগল, হাঁস-মুরগি এবং চলছে সবজি ও ধান চাষও। সব মিলিয়ে গড়ে তুলেছেন প্রায় ১২ লাখ টাকার সম্পদ। কৃষি ও পশুপালন থেকে মাসে আয় করছেন ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা, পরিবারের মোট মাসিক আয় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা।
২০১৯ সালে ইএসডিওর 'পাথওয়েজ টু প্রসপারিটি ফর এক্সট্রিমলি পুওর পিপল' প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হন আরতি। করোনাকালে পাওয়া ৯ হাজার টাকা সহায়তার একাংশ দিয়ে কেনা একটি ছাগলই বদলে দেয় তার জীবনের গতিপথ। পরে প্রশিক্ষণ ও ঋণ নিয়ে শুরু করেন গরু পালন, সবজি ও ধান চাষ। ৫৫ শতাংশ জমিতে মিষ্টি কুমড়া চাষ করে খরচ বাদে লাভ করেন প্রায় ৬০ হাজার টাকা। পেয়েছেন ইএসডিওর 'শ্রেষ্ঠ নারী উদ্যোক্তা' পুরস্কারও।
আরতি মার্ডি বলেন, আগে প্রতিদিনের খাবারের চিন্তা করতে হতো, এখন নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখতে পারছেন তিনি।
একই উপজেলার নালাডাঙ্গী এলাকার শান্তি মার্ডিরও গল্প বদলে গেছে। দিনমজুর স্বামীর সামান্য আয়ে সংসার চালানো কঠিন হলেও এখন ভার্মি কম্পোস্ট তৈরি করে মাসে আয় করছেন ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। ইএসডিওর ৫০ হাজার টাকা সহায়তায় ছয়টি সেট তৈরি করে শুরু করেন কেঁচো সার উৎপাদন।
আরতি ও শান্তির মতো মিনতি সরেন, চিন্তামনি মুর্মু, জসপিনা মুর্মু, সখিনা সরেন ও সুমি হাসদার জীবনেও এসেছে পরিবর্তন। প্রশিক্ষণ ও আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডের সংযোগ তাঁদের দিয়েছে নতুন পথের সন্ধান।
ইএসডিও কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু সহায়তা নয়, প্রান্তিক নারীদের দক্ষ করে নিজ পায়ে দাঁড় করানোই তাদের মূল লক্ষ্য। আরতি ও শান্তির সাফল্য এখন অন্য আদিবাসী নারীদেরও স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬
একসময় একদিন কাজে না গেলে চুলায় হাঁড়ি চড়ত না ঠাকুরগাঁওয়ের নারগুন ইউনিয়নের কহরপাড়া গ্রামের আরতি মার্ডির। খাসজমিতে ছাপরা ঘর, দিনমজুর স্বামী আর সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে অভাবই ছিল তার নিত্যসঙ্গী। সেই আরতিই আজ নিজের হাতে গড়ে তুলেছেন স্বাবলম্বী সংসার।
বর্তমানে তার বাড়িতে আছে তিনটি গাভি, পাঁচটি ছাগল, হাঁস-মুরগি এবং চলছে সবজি ও ধান চাষও। সব মিলিয়ে গড়ে তুলেছেন প্রায় ১২ লাখ টাকার সম্পদ। কৃষি ও পশুপালন থেকে মাসে আয় করছেন ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা, পরিবারের মোট মাসিক আয় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা।
২০১৯ সালে ইএসডিওর 'পাথওয়েজ টু প্রসপারিটি ফর এক্সট্রিমলি পুওর পিপল' প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হন আরতি। করোনাকালে পাওয়া ৯ হাজার টাকা সহায়তার একাংশ দিয়ে কেনা একটি ছাগলই বদলে দেয় তার জীবনের গতিপথ। পরে প্রশিক্ষণ ও ঋণ নিয়ে শুরু করেন গরু পালন, সবজি ও ধান চাষ। ৫৫ শতাংশ জমিতে মিষ্টি কুমড়া চাষ করে খরচ বাদে লাভ করেন প্রায় ৬০ হাজার টাকা। পেয়েছেন ইএসডিওর 'শ্রেষ্ঠ নারী উদ্যোক্তা' পুরস্কারও।
আরতি মার্ডি বলেন, আগে প্রতিদিনের খাবারের চিন্তা করতে হতো, এখন নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখতে পারছেন তিনি।
একই উপজেলার নালাডাঙ্গী এলাকার শান্তি মার্ডিরও গল্প বদলে গেছে। দিনমজুর স্বামীর সামান্য আয়ে সংসার চালানো কঠিন হলেও এখন ভার্মি কম্পোস্ট তৈরি করে মাসে আয় করছেন ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। ইএসডিওর ৫০ হাজার টাকা সহায়তায় ছয়টি সেট তৈরি করে শুরু করেন কেঁচো সার উৎপাদন।
আরতি ও শান্তির মতো মিনতি সরেন, চিন্তামনি মুর্মু, জসপিনা মুর্মু, সখিনা সরেন ও সুমি হাসদার জীবনেও এসেছে পরিবর্তন। প্রশিক্ষণ ও আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডের সংযোগ তাঁদের দিয়েছে নতুন পথের সন্ধান।
ইএসডিও কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু সহায়তা নয়, প্রান্তিক নারীদের দক্ষ করে নিজ পায়ে দাঁড় করানোই তাদের মূল লক্ষ্য। আরতি ও শান্তির সাফল্য এখন অন্য আদিবাসী নারীদেরও স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন