সংবাদ

১৫০ বছরেও হয়নি ভাগাড়, দুর্গন্ধে নাভিশ্বাস


প্রতিনিধি, শেরপুর (বগুড়া)
প্রতিনিধি, শেরপুর (বগুড়া)
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫০ এএম

১৫০ বছরেও হয়নি ভাগাড়, দুর্গন্ধে নাভিশ্বাস
ছবি : সংবাদ

প্রতিষ্ঠার দেড়শ বছর পার হয়ে গেলেও বগুড়ার শেরপুর পৌরসভায় আজও কোনো স্থায়ী বর্জ্য অপসারণ কেন্দ্র বা ডাম্পিং স্টেশন গড়ে ওঠেনি। শহরের বর্জ্যের একটি বড় অংশ ফেলা হচ্ছে ঐতিহাসিক করাতোয়া নদীর তীরে, আর বাকি অংশ স্তূপ করে রাখা হচ্ছে খোদ পৌরসভা কার্যালয়ের পেছনে। বর্জ্যের উৎকট দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে খাবারের সময়ও দুর্গন্ধ ঢাকতে ধূপকাঠি জ্বালাতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে।

১৮৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত শেরপুর পৌরসভা কাগজে-কলমে প্রথম শ্রেণির এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক শহর হিসেবে পরিচিত। ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ১০ দশমিক ৩৯৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভায় বর্তমানে ৬১ হাজারের বেশি মানুষের বাস। শহরটিতে প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়, যার মধ্যে গৃহস্থালি, বাজার, শিল্পকারখানা ও হাসপাতালের বর্জ্যও রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের ঘাটপাড়, বারদুয়ারী হাট ও ফুলবাড়ী ব্রিজ এলাকায় করাতোয়া নদীর পাড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ময়লা-আবর্জনা। নদী ছাড়িয়ে শহরের বাইরের শাহ বন্দেগী ও কুসুম্বী ইউনিয়নের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায়ও একই চিত্র। নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় বাড়ির বর্জ্যও গিয়ে পড়ছে নদীতে।

পৌরসভা কার্যালয়ের ঠিক পেছনের বাসিন্দা মনোরঞ্জন কর্মকার আক্ষেপ করে বলেন, ‘যখনই খেতে বসি, দুর্গন্ধের কারণে ধূপকাঠি জ্বালিয়ে বসতে হয়। গন্ধের চোটে ভাতের গ্রাস মুখে তোলা যায় না। এই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে ময়লার স্তূপ সরানো খুব জরুরি।’ আরেক বাসিন্দা বিকাশ চন্দ্র জানান, ময়লা ফেলার সময় সারা এলাকায় অস্বস্তিকর গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে, যা জীবন বিষিয়ে তুলছে।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, শেরুয়া বটতলা এলাকায় বর্জ্য ফেলার জন্য পৌরসভার ২ দশমিক ৫ একর জায়গা থাকলেও বর্তমানে তার চারপাশে জনবসতি গড়ে ওঠায় সেখানে ময়লা ফেলা বন্ধ রয়েছে। পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম শফিকুল ইসলাম জানান, ‘স্থায়ী জায়গার অভাবে আমরা বিকল্প স্থানে ময়লা ফেলতে পারছি না। হোসেনাবাদ মৌজায় প্রায় সাত একর জায়গা ডাম্পিং স্টেশনের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই জমি কেনার জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।’

শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, ‘স্থায়ী বর্জ্য নিষ্কাশন কেন্দ্রের জন্য এর আগেও একটি প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু পৌরসভার আর্থিক সক্ষমতা ও অন্যান্য দিক বিবেচনা করে সেটি নাকচ হয়ে যায়। বর্তমানে প্রশাসনিক অনুমোদনের চেষ্টা চলছে এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যও এ বিষয়ে সহযোগিতা করছেন। অনুমোদন পেলেই দ্রুত ডাম্পিং স্টেশনের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬


১৫০ বছরেও হয়নি ভাগাড়, দুর্গন্ধে নাভিশ্বাস

প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

প্রতিষ্ঠার দেড়শ বছর পার হয়ে গেলেও বগুড়ার শেরপুর পৌরসভায় আজও কোনো স্থায়ী বর্জ্য অপসারণ কেন্দ্র বা ডাম্পিং স্টেশন গড়ে ওঠেনি। শহরের বর্জ্যের একটি বড় অংশ ফেলা হচ্ছে ঐতিহাসিক করাতোয়া নদীর তীরে, আর বাকি অংশ স্তূপ করে রাখা হচ্ছে খোদ পৌরসভা কার্যালয়ের পেছনে। বর্জ্যের উৎকট দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে খাবারের সময়ও দুর্গন্ধ ঢাকতে ধূপকাঠি জ্বালাতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে।

১৮৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত শেরপুর পৌরসভা কাগজে-কলমে প্রথম শ্রেণির এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক শহর হিসেবে পরিচিত। ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ১০ দশমিক ৩৯৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভায় বর্তমানে ৬১ হাজারের বেশি মানুষের বাস। শহরটিতে প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়, যার মধ্যে গৃহস্থালি, বাজার, শিল্পকারখানা ও হাসপাতালের বর্জ্যও রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের ঘাটপাড়, বারদুয়ারী হাট ও ফুলবাড়ী ব্রিজ এলাকায় করাতোয়া নদীর পাড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ময়লা-আবর্জনা। নদী ছাড়িয়ে শহরের বাইরের শাহ বন্দেগী ও কুসুম্বী ইউনিয়নের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায়ও একই চিত্র। নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় বাড়ির বর্জ্যও গিয়ে পড়ছে নদীতে।

পৌরসভা কার্যালয়ের ঠিক পেছনের বাসিন্দা মনোরঞ্জন কর্মকার আক্ষেপ করে বলেন, ‘যখনই খেতে বসি, দুর্গন্ধের কারণে ধূপকাঠি জ্বালিয়ে বসতে হয়। গন্ধের চোটে ভাতের গ্রাস মুখে তোলা যায় না। এই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে ময়লার স্তূপ সরানো খুব জরুরি।’ আরেক বাসিন্দা বিকাশ চন্দ্র জানান, ময়লা ফেলার সময় সারা এলাকায় অস্বস্তিকর গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে, যা জীবন বিষিয়ে তুলছে।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, শেরুয়া বটতলা এলাকায় বর্জ্য ফেলার জন্য পৌরসভার ২ দশমিক ৫ একর জায়গা থাকলেও বর্তমানে তার চারপাশে জনবসতি গড়ে ওঠায় সেখানে ময়লা ফেলা বন্ধ রয়েছে। পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম শফিকুল ইসলাম জানান, ‘স্থায়ী জায়গার অভাবে আমরা বিকল্প স্থানে ময়লা ফেলতে পারছি না। হোসেনাবাদ মৌজায় প্রায় সাত একর জায়গা ডাম্পিং স্টেশনের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই জমি কেনার জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।’

শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, ‘স্থায়ী বর্জ্য নিষ্কাশন কেন্দ্রের জন্য এর আগেও একটি প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু পৌরসভার আর্থিক সক্ষমতা ও অন্যান্য দিক বিবেচনা করে সেটি নাকচ হয়ে যায়। বর্তমানে প্রশাসনিক অনুমোদনের চেষ্টা চলছে এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যও এ বিষয়ে সহযোগিতা করছেন। অনুমোদন পেলেই দ্রুত ডাম্পিং স্টেশনের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত