সংবাদ

বাংলাদেশে ৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনা দেখছে 'প্লাগ অ্যান্ড প্লে'


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৭ পিএম

বাংলাদেশে ৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনা দেখছে 'প্লাগ অ্যান্ড প্লে'
ছবি : সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বখ্যাত সিলিকন ভ্যালিভিত্তিক আন্তর্জাতিক উদ্ভাবন প্ল্যাটফর্ম 'প্লাগ অ্যান্ড প্লে'-র সঙ্গে বৈঠকের পর বাংলাদেশে ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি বৈশ্বিক বিনিয়োগ আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালিতে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে বাংলাদেশ সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক সফলভাবে শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর সার্বিক অগ্রগতির বিষয়ে সার্বিক তথ্য প্রকাশ করেন।
​এই আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশে নতুন বিদেশি মূলধন নিয়ে আসা, স্থানীয় স্টার্টআপ ও উদ্ভাবন খাতকে আরও সমৃদ্ধ করা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সংক্রান্ত দক্ষতা বাড়ানো এবং বিশ্বের শীর্ষ সারির প্রযুক্তি ও বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে দেশের নিবিড় বন্ধন তৈরি করা।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল এতে অংশ নেয়। বৈঠকের মাধ্যমে উভয় পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে, যার অধীনে দেশে এক বা একাধিক 'এআই সেন্টার অব এক্সিলেন্স' গড়ে তোলার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
​বৈঠক শেষে প্লাগ অ্যান্ড প্লে বাংলাদেশকে একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্বের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাবনায় তাদের আন্তর্জাতিক করপোরেট নেটওয়ার্ক, বিনিয়োগকারী ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে বাংলাদেশে ৫০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ আনয়নের একটি রূপরেখা তুলে ধরা হয়।
প্রতিষ্ঠানটি মনে করে, বাংলাদেশের তরুণ ও দক্ষ জনশক্তি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, হাইটেক পার্ক, শিল্পকারখানার সক্ষমতা এবং দ্রুত বর্ধনশীল বড় অভ্যন্তরীণ বাজার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য দারুণ এক সুযোগ। প্রস্তাবের অন্যতম অংশ হিসেবে 'বাংলাদেশ টেক সেন্টার' ও 'এআই সেন্টার অব এক্সিলেন্স' গড়ে তুলে দেশীয় তরুণদের সরাসরি বিশ্ববাজারের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।
​বিনিয়োগের এই পরিকল্পনায় বিশেষভাবে কতগুলো সম্ভাবনাময় খাত চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কনজিউমার ইলেকট্রনিকস, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং বা হালকা প্রকৌশল, ওষুধশিল্প, আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থা এবং সেমিকন্ডাক্টর পরীক্ষার কাজ।
এর পাশাপাশি স্টার্টআপ অর্থায়ন, আন্তর্জাতিক করপোরেট সহযোগিতা, জনশক্তি প্রশিক্ষণ, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পের যৌথ উদ্যোগ এবং বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি সংস্থাগুলোকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
​বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল এই উদ্যোগ ও প্রস্তাবকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা স্পষ্ট আলোচনা করেন, বিষয়টিকে কেবল কাগজে-কলমে বা সমঝোতা স্মারকের মধ্যে আটকে না রেখে দ্রুত বাস্তবসম্মত ও লাভজনক প্রকল্পে রূপ দিতে হবে। কারণ এসব বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতিতে নতুন মূলধন আসবে, শিক্ষিত তরুণদের জন্য মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, উন্নত প্রযুক্তির আদান-প্রদান ঘটবে এবং বিশ্ববাজারে রপ্তানি বাণিজ্যের নতুন পথ খুলে যাবে।
​যুক্তরাষ্ট্রের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল কর্মকর্তা-২ কামরুল ইসলাম, উপপ্রেস সচিব-১ মো. জাহিদুল ইসলাম, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের কনসাল জেনারেল কাজী মুহাম্মদ জাবেদ ইকবাল সেখানে অংশ নেন।
​সামনের দিনগুলোতে লস অ্যাঞ্জেলেসে অবস্থিত বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল প্রতিনিধি হিসেবে প্লাগ অ্যান্ড প্লে এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে সার্বিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলবে। তবে সংশ্লিষ্ট তরফ থেকে পরিষ্কার করা হয়েছে যে, এই ৫০ কোটি ডলার একটি সম্ভাব্য বিনিয়োগের সুযোগ, এটি এখনও চূড়ান্ত বা শতভাগ প্রতিশ্রুত ফান্ড নয়। আগামীতে বিস্তারিত আলোচনা, প্রযুক্তিগত যাচাই-বাছাই, অর্থ জোগানের ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক অনুমোদনের মধ্য দিয়ে প্রকল্পগুলো চূড়ান্ত রূপ পাবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


বাংলাদেশে ৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনা দেখছে 'প্লাগ অ্যান্ড প্লে'

প্রকাশের তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বখ্যাত সিলিকন ভ্যালিভিত্তিক আন্তর্জাতিক উদ্ভাবন প্ল্যাটফর্ম 'প্লাগ অ্যান্ড প্লে'-র সঙ্গে বৈঠকের পর বাংলাদেশে ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি বৈশ্বিক বিনিয়োগ আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালিতে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে বাংলাদেশ সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক সফলভাবে শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর সার্বিক অগ্রগতির বিষয়ে সার্বিক তথ্য প্রকাশ করেন।
​এই আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশে নতুন বিদেশি মূলধন নিয়ে আসা, স্থানীয় স্টার্টআপ ও উদ্ভাবন খাতকে আরও সমৃদ্ধ করা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সংক্রান্ত দক্ষতা বাড়ানো এবং বিশ্বের শীর্ষ সারির প্রযুক্তি ও বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে দেশের নিবিড় বন্ধন তৈরি করা।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল এতে অংশ নেয়। বৈঠকের মাধ্যমে উভয় পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে, যার অধীনে দেশে এক বা একাধিক 'এআই সেন্টার অব এক্সিলেন্স' গড়ে তোলার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
​বৈঠক শেষে প্লাগ অ্যান্ড প্লে বাংলাদেশকে একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্বের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাবনায় তাদের আন্তর্জাতিক করপোরেট নেটওয়ার্ক, বিনিয়োগকারী ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে বাংলাদেশে ৫০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ আনয়নের একটি রূপরেখা তুলে ধরা হয়।
প্রতিষ্ঠানটি মনে করে, বাংলাদেশের তরুণ ও দক্ষ জনশক্তি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, হাইটেক পার্ক, শিল্পকারখানার সক্ষমতা এবং দ্রুত বর্ধনশীল বড় অভ্যন্তরীণ বাজার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য দারুণ এক সুযোগ। প্রস্তাবের অন্যতম অংশ হিসেবে 'বাংলাদেশ টেক সেন্টার' ও 'এআই সেন্টার অব এক্সিলেন্স' গড়ে তুলে দেশীয় তরুণদের সরাসরি বিশ্ববাজারের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।
​বিনিয়োগের এই পরিকল্পনায় বিশেষভাবে কতগুলো সম্ভাবনাময় খাত চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কনজিউমার ইলেকট্রনিকস, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং বা হালকা প্রকৌশল, ওষুধশিল্প, আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থা এবং সেমিকন্ডাক্টর পরীক্ষার কাজ।
এর পাশাপাশি স্টার্টআপ অর্থায়ন, আন্তর্জাতিক করপোরেট সহযোগিতা, জনশক্তি প্রশিক্ষণ, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পের যৌথ উদ্যোগ এবং বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি সংস্থাগুলোকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
​বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল এই উদ্যোগ ও প্রস্তাবকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা স্পষ্ট আলোচনা করেন, বিষয়টিকে কেবল কাগজে-কলমে বা সমঝোতা স্মারকের মধ্যে আটকে না রেখে দ্রুত বাস্তবসম্মত ও লাভজনক প্রকল্পে রূপ দিতে হবে। কারণ এসব বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতিতে নতুন মূলধন আসবে, শিক্ষিত তরুণদের জন্য মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, উন্নত প্রযুক্তির আদান-প্রদান ঘটবে এবং বিশ্ববাজারে রপ্তানি বাণিজ্যের নতুন পথ খুলে যাবে।
​যুক্তরাষ্ট্রের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল কর্মকর্তা-২ কামরুল ইসলাম, উপপ্রেস সচিব-১ মো. জাহিদুল ইসলাম, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের কনসাল জেনারেল কাজী মুহাম্মদ জাবেদ ইকবাল সেখানে অংশ নেন।
​সামনের দিনগুলোতে লস অ্যাঞ্জেলেসে অবস্থিত বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল প্রতিনিধি হিসেবে প্লাগ অ্যান্ড প্লে এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে সার্বিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলবে। তবে সংশ্লিষ্ট তরফ থেকে পরিষ্কার করা হয়েছে যে, এই ৫০ কোটি ডলার একটি সম্ভাব্য বিনিয়োগের সুযোগ, এটি এখনও চূড়ান্ত বা শতভাগ প্রতিশ্রুত ফান্ড নয়। আগামীতে বিস্তারিত আলোচনা, প্রযুক্তিগত যাচাই-বাছাই, অর্থ জোগানের ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক অনুমোদনের মধ্য দিয়ে প্রকল্পগুলো চূড়ান্ত রূপ পাবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত