সংবাদ

তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেলে সিটি স্ক্যান ও এমআরআই অচল, চরম ভোগান্তি


আতিকুর রহমান আমিন, গাজীপুর
আতিকুর রহমান আমিন, গাজীপুর
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২১ পিএম

তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেলে সিটি স্ক্যান ও এমআরআই অচল, চরম ভোগান্তি
ছবি : সংবাদ

গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিটি স্ক্যান ও এমআরআই মেশিন নষ্ট থাকায় রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। জরুরি এসব পরীক্ষা করাতে রোগীদের ছুটতে হচ্ছে বেসরকারি ক্লিনিকে, যেখানে গুণতে হচ্ছে কয়েক গুণ বাড়তি টাকা। হাসপাতালের একমাত্র সেবাটি বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

গাজীপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জেলার একমাত্র উন্নত চিকিৎসার আশ্রয়স্থল হিসেবে প্রতিদিন সাড়ে তিন থেকে চার হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। চিকিৎসকেরা প্রয়োজনীয় পরীক্ষার পরামর্শ দিলেও যন্ত্র নষ্ট থাকায় তা সম্ভব হচ্ছে না।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ মার্চ থেকে হাসপাতালের সিটি স্ক্যান মেশিনটি বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে, গত মাসখানেক ধরে এমআরআই মেশিনটি দিয়ে আংশিক পরীক্ষা করা গেলেও গত চার দিন ধরে সেটি পুরোপুরি অচল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যান্ত্রিক ত্রুটি সারাতে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বললেও কবে নাগাদ সেবা চালু হবে, তা নিশ্চিত করতে পারেনি।

কাপাসিয়া থেকে আসা রোগী মনির হোসেন বলেন, ‘ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ডাক্তার দেখালেও পরীক্ষা এখানে করা সম্ভব হয়নি। সরকারি হাসপাতালে মেশিন নষ্ট থাকায় ডাক্তার বাইরের ক্লিনিকে পাঠিয়েছেন। আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য বাইরের খরচ চালানো খুব কঠিন।’

একই আক্ষেপ ঝরল রাজেন্দ্রপুর থেকে আসা টিটু সরকারের কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সিটি স্ক্যান মেশিন বন্ধ। প্রাইভেট ক্লিনিকে এসব পরীক্ষা করতে অনেক টাকা লাগে। সরকারি হাসপাতালে এই সুবিধা থাকলে আমরা অনেক উপকৃত হতাম।’

হাসপাতালের রেডিওলজি বিভাগের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মো. মোফাজ্জল হোসেন খান জানান, এমআরআই মেশিনটি দিয়ে আগে প্রতিদিন ১০-১২টি পরীক্ষা করা হলেও বর্তমানে তা বন্ধ। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ও মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সিটি স্ক্যান মেশিনটি বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে অচল হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া জনবল সংকটও প্রকট। পুরো রেডিওলজি বিভাগে ১০ জন টেকনোলজিস্টের জায়গায় কাজ করছেন মাত্র একজন। ফলে দুপুর দুইটার পর আর কোনো পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সিটি স্ক্যান মেশিনটি প্রায় পাঁচ মাস ধরে বন্ধ। সফটওয়্যার আপডেটসহ কিছু যান্ত্রিক ত্রুটি রয়েছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেরামতের জন্য যে ব্যয়ের হিসাব দিয়েছে, তা অনেক বেশি। আমরা সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। আশা করছি দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে।’

ভুক্তভোগী রোগীদের দাবি, দ্রুততম সময়ে মেশিনগুলো সচল করে সরকারি এই হাসপাতালে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হোক।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬


তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেলে সিটি স্ক্যান ও এমআরআই অচল, চরম ভোগান্তি

প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিটি স্ক্যান ও এমআরআই মেশিন নষ্ট থাকায় রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। জরুরি এসব পরীক্ষা করাতে রোগীদের ছুটতে হচ্ছে বেসরকারি ক্লিনিকে, যেখানে গুণতে হচ্ছে কয়েক গুণ বাড়তি টাকা। হাসপাতালের একমাত্র সেবাটি বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

গাজীপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জেলার একমাত্র উন্নত চিকিৎসার আশ্রয়স্থল হিসেবে প্রতিদিন সাড়ে তিন থেকে চার হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। চিকিৎসকেরা প্রয়োজনীয় পরীক্ষার পরামর্শ দিলেও যন্ত্র নষ্ট থাকায় তা সম্ভব হচ্ছে না।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ মার্চ থেকে হাসপাতালের সিটি স্ক্যান মেশিনটি বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে, গত মাসখানেক ধরে এমআরআই মেশিনটি দিয়ে আংশিক পরীক্ষা করা গেলেও গত চার দিন ধরে সেটি পুরোপুরি অচল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যান্ত্রিক ত্রুটি সারাতে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বললেও কবে নাগাদ সেবা চালু হবে, তা নিশ্চিত করতে পারেনি।

কাপাসিয়া থেকে আসা রোগী মনির হোসেন বলেন, ‘ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ডাক্তার দেখালেও পরীক্ষা এখানে করা সম্ভব হয়নি। সরকারি হাসপাতালে মেশিন নষ্ট থাকায় ডাক্তার বাইরের ক্লিনিকে পাঠিয়েছেন। আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য বাইরের খরচ চালানো খুব কঠিন।’

একই আক্ষেপ ঝরল রাজেন্দ্রপুর থেকে আসা টিটু সরকারের কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সিটি স্ক্যান মেশিন বন্ধ। প্রাইভেট ক্লিনিকে এসব পরীক্ষা করতে অনেক টাকা লাগে। সরকারি হাসপাতালে এই সুবিধা থাকলে আমরা অনেক উপকৃত হতাম।’

হাসপাতালের রেডিওলজি বিভাগের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মো. মোফাজ্জল হোসেন খান জানান, এমআরআই মেশিনটি দিয়ে আগে প্রতিদিন ১০-১২টি পরীক্ষা করা হলেও বর্তমানে তা বন্ধ। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ও মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সিটি স্ক্যান মেশিনটি বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে অচল হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া জনবল সংকটও প্রকট। পুরো রেডিওলজি বিভাগে ১০ জন টেকনোলজিস্টের জায়গায় কাজ করছেন মাত্র একজন। ফলে দুপুর দুইটার পর আর কোনো পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সিটি স্ক্যান মেশিনটি প্রায় পাঁচ মাস ধরে বন্ধ। সফটওয়্যার আপডেটসহ কিছু যান্ত্রিক ত্রুটি রয়েছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেরামতের জন্য যে ব্যয়ের হিসাব দিয়েছে, তা অনেক বেশি। আমরা সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। আশা করছি দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে।’

ভুক্তভোগী রোগীদের দাবি, দ্রুততম সময়ে মেশিনগুলো সচল করে সরকারি এই হাসপাতালে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হোক।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত