সংবাদ

রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচ ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পাহাড়: বাড়লো ৬০০০ কোটি টাকা


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:১৯ পিএম

রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচ ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পাহাড়: বাড়লো ৬০০০ কোটি টাকা

​রাষ্ট্রায়ত্ত্ব পাঁচ বাণিজ্যিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কমাতে নানা উদ্যোগ ও নীতি-সুবিধা দেওয়া হলেও পরিস্থিতির কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।

উল্টো পুরোনো ঋণ নতুন করে খেলাপি হওয়া এবং বড় ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে অর্থ আদায় থমকে যাওয়ায় চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ৬ হাজার ৩০৪ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত জুন শেষে সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী ও বেসিক ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫১ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকা, যা গত বছরের ডিসেম্বরে ছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৯ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণের পাল্লা ভারী হওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোতে বড় অঙ্কের মূলধন ও প্রভিশন ঘাটতিও দেখা দিয়েছে।

​প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছয় মাসে সবচেয়ে বেশি ৩ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ বেড়েছে অগ্রণী ব্যাংকে। ডিসেম্বরের ২৮ হাজার ৬১৫ কোটি টাকা থেকে বেড়ে জুন শেষে ব্যাংকটির খেলাপি দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ১৩৩ কোটি টাকায়।

ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, মোট খেলাপির প্রায় অর্ধেকই আটকে আছে শীর্ষ ২০ ঋণগ্রহীতার কাছে।

অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার ৫৫৮ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ নিয়ে শীর্ষে রয়েছে জনতা ব্যাংক।

ব্যাংকটির কর্মকর্তারা জানান, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেক বড় ঋণগ্রহীতা দেশ ছেড়েছেন বা বিভিন্ন আইনি জটিলতায় জড়িয়েছেন। জনতা ব্যাংকের প্রায় ৭২ শতাংশ খেলাপি ঋণই বেক্সিমকো ও এস আলমের মতো শীর্ষ ২০টি গ্রুপের কাছে আটকে রয়েছে।

​একই সময়ে রূপালী ব্যাংকে ১৫৯ কোটি টাকা বেড়ে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৭৯০ কোটি টাকায়।

তবে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে বেসিক ও সোনালী ব্যাংকে; যেখানে খেলাপি ঋণ কিছুটা কমেছে। বেসিক ব্যাংকে ১০২ কোটি টাকা কমে খেলাপি দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ১৫২ কোটি টাকায়, যদিও তাদের মোট ঋণের প্রায় ৭০ শতাংশই এখন খেলাপির খাতায়।

অন্যদিকে সোনালী ব্যাংকে খেলাপি ঋণ কমে ১৫ হাজার ৭১০ কোটি টাকা হলেও নতুন ঋণ বিতরণে ধীরগতি দেখা গেছে।

সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, আগের সরকারের সময়ে দেওয়া বেক্সিমকো গ্রুপের দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা নতুন করে খেলাপি হয়েছে এবং গত ছয় মাসে ব্যাংকটির ঋণ বিতরণ বাড়ার বদলে উল্টো প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা কমেছে।

​ব্যাংক খাতের এই সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. আবদুল বায়েস বলেন, "দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতা না থাকায় বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নীতিগত সুদের হার উচ্চ থাকা এবং সামগ্রিক অনিশ্চয়তার কারণে উদ্যোক্তা ও ব্যাংক উভয় পক্ষই নতুন বিনিয়োগ ও ঋণ কার্যক্রমে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।"

ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট ও সংস্কারের বিষয়ে জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, "ব্যাংকখাতে বিপুল খেলাপি ঋণ এবং বকেয়া অর্থ আদায়ে ধীরগতির কারণে তারল্য পরিস্থিতিরও কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হচ্ছে না। তবে এ পরিস্থিতিতে স্থায়ী পরিবর্তন আনতে হলে কার্যকর অর্থনৈতিক সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই।"

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬


রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচ ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পাহাড়: বাড়লো ৬০০০ কোটি টাকা

প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

​রাষ্ট্রায়ত্ত্ব পাঁচ বাণিজ্যিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কমাতে নানা উদ্যোগ ও নীতি-সুবিধা দেওয়া হলেও পরিস্থিতির কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।

উল্টো পুরোনো ঋণ নতুন করে খেলাপি হওয়া এবং বড় ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে অর্থ আদায় থমকে যাওয়ায় চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ৬ হাজার ৩০৪ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত জুন শেষে সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী ও বেসিক ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫১ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকা, যা গত বছরের ডিসেম্বরে ছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৯ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণের পাল্লা ভারী হওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোতে বড় অঙ্কের মূলধন ও প্রভিশন ঘাটতিও দেখা দিয়েছে।

​প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছয় মাসে সবচেয়ে বেশি ৩ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ বেড়েছে অগ্রণী ব্যাংকে। ডিসেম্বরের ২৮ হাজার ৬১৫ কোটি টাকা থেকে বেড়ে জুন শেষে ব্যাংকটির খেলাপি দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ১৩৩ কোটি টাকায়।

ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, মোট খেলাপির প্রায় অর্ধেকই আটকে আছে শীর্ষ ২০ ঋণগ্রহীতার কাছে।

অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার ৫৫৮ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ নিয়ে শীর্ষে রয়েছে জনতা ব্যাংক।

ব্যাংকটির কর্মকর্তারা জানান, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেক বড় ঋণগ্রহীতা দেশ ছেড়েছেন বা বিভিন্ন আইনি জটিলতায় জড়িয়েছেন। জনতা ব্যাংকের প্রায় ৭২ শতাংশ খেলাপি ঋণই বেক্সিমকো ও এস আলমের মতো শীর্ষ ২০টি গ্রুপের কাছে আটকে রয়েছে।

​একই সময়ে রূপালী ব্যাংকে ১৫৯ কোটি টাকা বেড়ে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৭৯০ কোটি টাকায়।

তবে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে বেসিক ও সোনালী ব্যাংকে; যেখানে খেলাপি ঋণ কিছুটা কমেছে। বেসিক ব্যাংকে ১০২ কোটি টাকা কমে খেলাপি দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ১৫২ কোটি টাকায়, যদিও তাদের মোট ঋণের প্রায় ৭০ শতাংশই এখন খেলাপির খাতায়।

অন্যদিকে সোনালী ব্যাংকে খেলাপি ঋণ কমে ১৫ হাজার ৭১০ কোটি টাকা হলেও নতুন ঋণ বিতরণে ধীরগতি দেখা গেছে।

সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, আগের সরকারের সময়ে দেওয়া বেক্সিমকো গ্রুপের দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা নতুন করে খেলাপি হয়েছে এবং গত ছয় মাসে ব্যাংকটির ঋণ বিতরণ বাড়ার বদলে উল্টো প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা কমেছে।

​ব্যাংক খাতের এই সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. আবদুল বায়েস বলেন, "দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতা না থাকায় বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নীতিগত সুদের হার উচ্চ থাকা এবং সামগ্রিক অনিশ্চয়তার কারণে উদ্যোক্তা ও ব্যাংক উভয় পক্ষই নতুন বিনিয়োগ ও ঋণ কার্যক্রমে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।"

ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট ও সংস্কারের বিষয়ে জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, "ব্যাংকখাতে বিপুল খেলাপি ঋণ এবং বকেয়া অর্থ আদায়ে ধীরগতির কারণে তারল্য পরিস্থিতিরও কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হচ্ছে না। তবে এ পরিস্থিতিতে স্থায়ী পরিবর্তন আনতে হলে কার্যকর অর্থনৈতিক সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই।"


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত