সম্পত্তির লোভে পারিবারিক বন্ধন আর নৈতিকতা যেন তুচ্ছ হয়ে উঠেছিল। জীবিত শাশুড়িকে কাগজপত্রে ‘মৃত’ দেখিয়ে জমি লিখে নেওয়ার সব আয়োজনই চূড়ান্ত ছিল। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। সাবরেজিস্ট্রারের তীক্ষ্ণ নজর আর তাৎক্ষণিক জেরার মুখে ভেস্তে গেছে পুত্রবধূর সেই অপচেষ্টা।
ফেনী সদর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে চাঞ্চল্যকর এই জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। মৃত জহিরুল হকের স্ত্রী সাজেদা আক্তার তার শাশুড়ি হাজেরা খাতুনকে মৃত দেখিয়ে ভুয়া ওয়ারিশ সনদ ও জমাখারিজ তৈরি করেছিলেন। তার উদ্দেশ্য ছিল ফেনী পৌরসভার রামপুর মৌজার সাড়ে চার শতাংশ জমি বিক্রি করা।
সাবরেজিস্ট্রি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার বিকেলে দলিল রেজিস্ট্রেশনের জন্য কাগজপত্র জমা দেওয়া হলে ফেনী সদর সাবরেজিস্ট্রার আবদুর রহমান মোহাম্মদ তামিমের সন্দেহ হয়। তথ্যে গরমিল দেখে তিনি সাজেদা আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সাজেদা স্বীকার করেন যে তার শাশুড়ি প্রকৃতপক্ষে জীবিত। জালিয়াতি নিশ্চিত হওয়ার পর সাবরেজিস্ট্রার তাৎক্ষণিকভাবে রেজিস্ট্রেশন স্থগিত করেন এবং ভুয়া কাগজপত্রগুলো জব্দ করেন।
বিষয়টি জানাজানি হলে পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে সশরীরে সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ে হাজির হন প্রতারণার শিকার বৃদ্ধা হাজেরা খাতুন। নিজেকে ‘জীবিত’ দাবি করে তিনি ঘটনার বর্ণনা দেন এবং জালিয়াতি ধরে ফেলায় সাবরেজিস্ট্রারকে ধন্যবাদ জানান। বুধবার ঘটনাটি ফেনী শহরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৯ আগস্ট জহিরুল হক মারা যান। সোনাগাজী উপজেলার বগাদানা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নেওয়া এক ওয়ারিশ সনদে কৌশলে মায়ের (হাজেরা খাতুন) নাম বাদ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ওই জাল সনদের মাধ্যমেই জমির জমাখারিজ সম্পন্ন করা হয়েছিল।
ফেনী ট্রাংক রোডের ব্যবসায়ী আবদুর রহিম বলেন, ‘মানুষ স্বার্থের জন্য কতটা নিচে নামতে পারে, এটি তার চরম উদাহরণ। তবে সাবরেজিস্ট্রারের এমন সজাগ দৃষ্টি প্রশংসার দাবিদার।’
সদর সাবরেজিস্ট্রার আবদুর রহমান মোহাম্মদ তামিম বলেন, ‘জমি ক্রেতা-বিক্রেতাদের জালিয়াতি থেকে রক্ষা করতে আমরা কঠোর অবস্থান নিয়েছি। শাশুড়িকে মৃত দেখিয়ে ভুয়া সনদ তৈরির বিষয়টি স্বীকার করায় দলিলটি জব্দ করা হয়েছে। প্রতারণা ও রাজস্ব ফাঁকি রোধে আমাদের এই নজরদারি অব্যাহত থাকবে।’
আপনার মতামত লিখুন